বাতায়ন২৪ডটকম | রংপুর প্রতিনিধি | ২৭ মে ২০২৬
বুধবার (২৭ মে) সকালে দেওয়া ওই চিঠিতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করায় ক্যাম্পাস অনেকটাই ফাঁকা থাকবে। এমন সময়ে বড় পরিসরের আয়োজন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি কোরবানির মাংসভিত্তিক এ আয়োজনকে ঘিরে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, রংপুর মেডিকেল কলেজ দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির শিক্ষার্থীরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসঙ্গে বসবাস ও অধ্যয়ন করছেন। তবে আয়োজনে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদেরও কোরবানির গরুর মাংসভিত্তিক দাওয়াতে আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে বিব্রতবোধ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, “ঈদের সময় অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে যান। বর্তমানে হোস্টেলে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় কারা এ আয়োজনের মূল অংশগ্রহণকারী হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া দাওয়াত কার্ডে গরুর ছবি ব্যবহার করে অমুসলিম শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানানোয় কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “সামগ্রিক বিষয়টি বিবেচনা করেই আমরা কলেজ প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, যেন উৎসবের পরিবেশে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।”
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের নেতারা জানিয়েছেন, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ আয়োজন করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা ঈদে বাড়ি যেতে পারবেন না, তাদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারা আরও জানান, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং সব খাবার পৃথকভাবে প্যাকেটজাত করে বিতরণ করা হবে, যাতে সবার অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান বজায় থাকে।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক শাহরিয়ার বলেন, “ছাত্রশিবির সবসময়ই সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমাদের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আয়োজনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমরা আশা করি, সচেতন শিক্ষার্থীরা এসব অপপ্রচারকে ইতিবাচকভাবে মোকাবিলা করবে।”
এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে তারা জানিয়েছে, বাইরে কোরবানি করে দুস্থ মানুষের মাঝে মাংস বিতরণের উদ্যোগও রয়েছে। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচক।”
তিনি আরও বলেন, আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সবাইকে সংযত ও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি, যাতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও উৎসবের আনন্দ অটুট থাকে।
বাতায়ন২৪ডটকম/আ.আ.আ