সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বাঙ্গীটারী ডমিনেটরস পীরগাছায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন রংপুরে মন্দিরের নামে জমি দখলের চেষ্টা কৃষকলীগ নেতার- ডিসির নির্দেশও হয়নি প্রতিমা বিসর্জন রাজনৈতিক পরিচয়ে লুটপাট ও সম্পদ দখল, সেই স্বার্থেই রতনকে হত্যা: কর্নেল বাতেন এমপি রংপুরে জমির মালিকানা দ্বন্দ্বে আটকে আছে পুর্তিমা বিসর্জন, ডিসি অফিসে বৈঠকেও মেলেনি সমাধান রংপুরে মন্দিরে লাইন খোলার সময় বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু ভাড়া বাসায় মাদক-নারীসহ আটক ৮৪, অতিরিক্ত ডিআইজি জহির গ্রেপ্তার রংপুরে গ্যাং-দ্বন্দ্বে আ. লীগ নেতা খুন, এজাহারভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার কাউনিয়ায় মাইক্রোবাস-লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ, চালকসহ আহত ১০, আশঙ্কাজনক ৩ জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সংসদে বিতর্ক করুন: প্রধানমন্ত্রী
রংপুরে মন্দিরের নামে জমি দখলের চেষ্টা কৃষকলীগ নেতার- ডিসির নির্দেশও হয়নি প্রতিমা বিসর্জন

রংপুরে মন্দিরের নামে জমি দখলের চেষ্টা কৃষকলীগ নেতার- ডিসির নির্দেশও হয়নি প্রতিমা বিসর্জন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||

রংপুরে মন্দিরের নামে জেলা কৃষকলীগ সভাপতি প্রাণ নাথ কৃষ্ণ প্রান্নুর জমি দখলের চেস্টা কারনে পুজা শেষ হওয়ার ৪০৫ ঘন্টা এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার ২৩ ঘন্টা পরেও পরেও দুর্গাপূজার প্রতিমা বিষর্জন করা হয়নি। কালিমূর্তি সরানো ছাড়াই প্রতিমা বিষর্জনে ডিসির নির্দেশনাকে অন্যায় দাবি করে প্রত্যাখান করেছে মালিক দাবিদার পক্ষ। তারা ডিসির বিরুদ্ধে কাগজ ও ভিডিও ফুটেজ না দেখার অভিযোগও তুলেছেন। ফলে জটিলতা আরও বেড়েছে।

শুক্রবার ( ২৩ অক্টোবর) বিকেলে ৩ টায় সরেজমিনে রংপুর মহানগরীর ঠিকাদারপাড়া অস্থায়ী দূগামন্দিরের গিয়ে দেথা গেছে সেখানে এখনও প্রতিমা বিষর্জন দেয়া হয় নি। দুর্গা প্রতিমা স্থাপন করাই আছে। এছাড়াও সেখানে কালি স্বরস্মতিসতসহ আরও চারটি প্রতিমাও আছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধায় জেলা কৃষকলীগ সভাপতি ও ঠিাকাদারপাড়া অস্থায়ী দূর্গামন্দির কমিটির সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী প্রান্নু ও তার ভাই মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামীর বিরুদ্ধে অস্থায়ী দুর্গামন্দিরে কালিমূর্তি স্থাপন করে প্রতিমা বিষর্জনের করার চেস্টা অভিযোগ উঠে। এসময় জমির মালিক রীতা রানী রায় ও তার পরিবার তাতে বাঁধা দিয়েবাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, বিক্ষোভ ও সড়ক অবেরোধের ঘটনা ঘটে। ফলে লত্ন পেরিয়ে গেলেও দুর্গা প্রতিমা বিষর্জন বন্ধ থাকে। ঘটনাস্থলে বুধবার রাত থেকেই বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে বিজিবি তুলে নেয়া হয়। এখন সেখানে পুলিশ পাহারা দিচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেনে বৃহস্পতিবার ( (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটায় ডিসি অফিসের সম্মেলন কক্ষে জমির মালিক এবং অস্থায়ী মন্দির কমিটির লোকজনের সাথে বৈঠক করেন ডিসি ইসরাত জাহান। দীর্ঘ দুই ঘন্টা ধরে হয়ে বৈঠক। এ সময় মহানগর পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ডিসি অস্থায়ী পূজা মণ্ডপটিতে কালীমূর্তি রেখে দুর্গা প্রতিমা বিষর্জন দেয়ার সিদ্ধান্ত জানালে তার তীব্র প্রতিবাদ করেন জমির মালিক রীতারানী রায় ও তার পরিবার। ডিসির সিদ্ধান্তকে অন্যায় দাবি করে বৈঠক প্রত্যাখ্যান করে চলে যান তারা।

পরে ব্রিফিংয়ে ডিসি ইসরাত জাহান জানান, ‘ রংপুর জেলার প্রতিমা বিসর্জনের যে জটিলতা তৈরি হয়েছে সেই বিষয়ে আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছি। যারা মালিক পক্ষ এবং মন্দির কমিটি আমরা উভয় পক্ষেরই সুবিধা-অসুবিধা শুনেছি। তাদের বক্তব্য নিয়েছি। আমরা আশা করছি যে এটি খুব সহজেই আমরা সমাধান করতে পারব।
ডিসি ব্রিফিংয়ে বলেন, এখানে মালিকানার যে যারা দাবিদার অর্থাৎ এই তিন শতক জমি জমির যারা দাবি করছে তাদের এখনো চূড়ান্ত রায় আসেনি। আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি যে আগামী রোববার ( ২৫ অক্টোবর) আমি স্বয়ং জেলা ও দায়রা জজ স্যারের সাথে কথা বলে তাদের এই রায়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারব। যে রায় কি বলছে, কোর্ট কি বলছে এবং আদালত কি বলছে।

ডিসি ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ঠিক একইভাবে আমি যারা অপর পক্ষ আছি অর্থাৎ মন্দির কমিটি আছে তাদেরকেও বলেছি আপনারা মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করেন যে মালিকানা যার প্রতিষ্ঠিত হবে। তারপর সেখান থেকে সিদ্ধান্ত হবে যে অন্যান্য যে সকল প্রতিমা আছে সেগুলো দূরীভূত বা সরানো হবে। আমরা চাচ্ছি এ মুহূর্তে প্রতিমা অর্থাৎ দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন হোক আমরা সম্প্রীতির রংপুরে একত্রে থাকি।’

ডিসির এই বক্তব্যকে প্রত্যাখান করেছেন জমির মালিক রীতা রানী জানান, ‘আমার এই টুকুই সম্পদ । জেলা কৃষকলীগ সভাপতি প্রাণ কৃষ্ণ গোস্বামী মন্দীর নয়, প্রান্নু নিজের নামে একটা সাদা কাগজে আমার স্বামীর কাছ থেকে সই নিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বায়না করে যে বায়নার মেয়াদ শেষ হয়েছে সেটা দিয়ে মন্দিরের নামে ধর্মের নামে দখল করার চেস্টা করছে। আমরা ডিসির কাছের বৈঠকে আমাদের কাগজপাতি নিয়ে গেছিলাম আমাদের যে হুমকি ধামকি নিয়ে দিছে। প্রান্নু তা ভাই কমল গোস্বামী তারা যে আমাদের অত্যাচার করছে হুমকি ধামকি দিচ্ছে তার প্রমাণ হিসেবে ভিডিও ফুটেজ নিয়ে গেছিলাম। কিন্তু ডিসি আমাদের সে ভিডিও ফুটেজও দেখেনি এমনকি আমাদের কাগজপাতিও দেখেনি।

রীতা রানী রায় জানান, ‘আমাদের ডিসি মহোদয়ের কাছে চাওয়া ছিল যে দুর্গা বিসর্জনের সাথে বাকি যে চারটা মূর্তি আছে এখানে, কালিমা মা লক্ষ্মী সরস্বতী এই চারটা মূর্তিও যেন মা দুর্গার সঙ্গে বিসর্জন হয়ে যায়। এই এতটুকুই আবেদন তার কাছে ছিল কিন্তু সেটা আমাদের গ্রহণযোগ্য হয়নি। কিন্তু উনি বলে দেন যে মহা শুধু দুর্গামূর্তি বিসর্জন হবে। এর জন্য ডিসির এই কথায় আমরা সাড়া না দিয়ে আমরা ওখান থেকে বের হয়ে চলে আসি।

রীতা রানীর অভিযোগ, ‘একটা জিনিস দেখলাম যে আমরা ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে প্রতারিত হয়ে আসছি, আমরা ন্যায়বিচার চেয়েও আমরা কখনো কোথাও ন্যায়বিচার পাইনি। এখনও সেই কাহিনী চলতেছে যে এখনো আমরা ন্যায়বিচার পেলাম না। আমাদের জমির খাজনা খারিজ সব ঠিক আছে। আদালতের রায় আছে। তারপরেও ডিসি সাহেব কাগজপত্র না দেখেই জমি নিয়ে কথা বলছেন। কেন বলছেন জানি না। আমাদের যদি মৃত্যু হয় তবুও আমরা আমাদের জমি কৃষকলীগ নেতার দখলে যেতো দিবো না। ”

ঠিকাদারপাড়া অস্থায়ী মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক জেলা কৃষকলীগ সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী প্রান্নুর ভাই কমল কোমল গোস্বামী বলেন, ‘ ডিসি মহোদয় এর সঙ্গে বৈঠক করলাম, আমরা বললাম এবং আমাদের কথা উনি শুনলো, দুপক্ষেরই কথা শুনলো। আমাদের কথা হচ্ছে যে আমরা আইনের শ্রদ্ধা রেখে বলছি, কোর্ট আমাদেরকে যেটা রায় দেবে, আমরা সেটাই মেনে নেবো। আমাদের কথা হচ্ছে আদালতে যদি আমরা রায় পাই, বা আদালত যদি ঐ জায়গা আমাদেরকে বুঝায় দেয় তো আমরা থাকবো। আজকেই যদি আমরা মামলায় হেরে যাই, তাহলে আমরা কালকেই ছেড়ে দেব।”

সরেজমিনে দেখা গেছে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধায় ঘটনার উদ্ভব হওয়ার পর থেকে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) শুক্রবার বিকেলে ৩ টা পর্যন্ত ৪০ ঘন্টা এবং ডিসির দেয়া সিদ্ধান্তের ১৮ ঘন্টা পরেও দুর্গা প্রতিমা এখনও ওই মন্দিরে রয়ে গেছে। সেখানে আছে স্বরস্মতি, কালিসহ আরও চারটি প্রতিমা। পুলিশ মন্দিরে র সামনে পাহাড়া দিচ্ছেন।

এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com