স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||
রংপুর নগরীর ঠিকাদারপাড়া মোড়ে একটি অস্থায়ী দুর্গামন্দিরের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক হলেও জমি নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। তবে বৈঠক শেষে প্রতিমা বিসর্জনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। আগামী রোববার বিচারকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। রাত ৮টার দিকে বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে জমির মালিকানা দাবিদার রীতা রানী রায় অভিযোগ করেন, জেলা কৃষক লীগের নেতা প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী প্রান্নু তাঁদের পারিবারিক জমি জোর করে দখলের চেষ্টা করছেন। সেখানে অস্থায়ী পূজামণ্ডপকে স্থায়ী মন্দিরে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রীতা রানী বলেন, ‘এখানে এসে (ডিসি অফিসে) আমরা ন্যায়বিচার পেলাম না। আমাদের জমিতে ভাঙাগড়ার পূজামণ্ডপকে মন্দির বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজয়া দশমীর পরও দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে সেখানে রেখে জমিটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
অন্যদিকে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী কমল গোস্বামী বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত যে রায় দেবেন, আমরা সেই রায় মেনে নেব।’
বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, ঠিকাদারপাড়া মোড়ে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে। এখন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। আগামী রোববার বিচারকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে রংপুরে সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারেন।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে অস্থায়ী মন্দিরটির জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরে সেখানে এসআরবি সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
জমির মালিকানা দাবিদার পক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপূজার জন্য অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত পারিবারিক জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে মন্দির কমিটির দাবি, জমিটি মন্দিরের নামে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কেনার জন্য বায়না করা হলেও মালিকপক্ষ দলিল নিবন্ধন করে দিচ্ছে না। এ বিরোধের মধ্যেই স্থায়ীভাবে কালীমন্দির স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশ দেওয়া হলেও মন্দির কমিটি তাতে সম্মত হয়নি। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠকের পর প্রতিমা বিসর্জনের সিদ্ধান্ত জানানো হলেও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো বাকি রয়েছে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম