স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর |বাতায়ন২৪ডটকম |
রংপুর মহানগরীর হারাগাছে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবক পলাশ মিয়া হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি মো. সাব্বিরকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৩। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার গড়াই মুক্তা প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাব্বির (২৭) হারাগাছ থানার আরাজী বীরচরণ গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে।
এসআরবি-১৩ রংপুরের সহকারী মিডিয়া পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৩ রংপুর ও এসআরবি-১৪ টাঙ্গাইলের যৌথ দল মির্জাপুরে অভিযান চালিয়ে সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হারাগাছ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অংশীদারি সম্পত্তির এক শতাংশ জমি নিহত পলাশের চাচা জাফরের কাছ থেকে গোপনে কেনার চেষ্টা নিয়ে বিরোধের শুরু হয়। ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় সাহেবগঞ্জ বাজারে এ বিষয়ে মোজাহার আলীর কাছে জানতে চান পলাশ। এ সময় দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
পরে বিষয়টি মোজাহার তাঁর দুই ছেলে সাব্বির ও সজিবসহ স্বজনদের জানান। ওই রাতেই পলাশ তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে সাহেবগঞ্জ মাচারি বাজার এলাকায় গেলে মোজাহারের আত্মীয় সোনা মিয়া তাঁকে মারধর করেন,
আত্মরক্ষায় পলাশ দৌড়ে তিনমাথা মোড়ের বাজারে গেলে সেখানে মোজাহার, তাঁর দুই ছেলে ও কয়েকজন সহযোগী লোহার রড, হাতুড়ি ও এসএস পাইপ দিয়ে হামলা করেন। পলাশের মা ও ভাই আশরাফুল এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুরুতর আহত পলাশকে প্রথমে হারাগাছ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ আগস্ট ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে হারাগাছ থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি মোজাহার আলীকে গ্রেপ্তারের পর আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২৭ ও ২৮ আগস্ট তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পলাশ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ২১ আগস্ট মানববন্ধন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবাদ সমাবেশ করেন স্থানীয়রা।
এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার সাব্বিরকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে হারাগাছ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম