সংবাদ শিরোনাম :
মব সন্ত্রাস নির্মুল করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রীর তত্য তাউস যেকোন সময় উল্টে যাবে: জাপা কো-চেয়ারম্যান মোস্তফা পাটগ্রামে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ৩,৯২৪ পিস ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, গ্রেপ্তার ২ মিঠাপুকুরে এসএসসি পরীক্ষার্থী অপহরণ: প্রধান আসামি সাঈদ গ্রেপ্তার ঢাকায় বর্ণিল আয়োজনে বেরোবির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন লায়ন্স ক্লাব ও স্কুলের দুই পক্ষ মুখোমুখি, ভাঙচুর ও অর্থ আত্মসাতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পীরগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে অবহিতকরণ কর্মশালা রংপুর সিটির উন্নয়নে ১৮০০ কোটি টাকার কাজের আপডেট প্রতি দুই মাস পর পর জনগনের কাছে দেয়া হবে: প্রশাসক ডন কাউনিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স রংপুর রেঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৪০ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা-গাঁজা-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার বেরোবির ১৯ বছরে পদার্পণ: শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও আক্ষেপ
ময়মনসিংহে অন্যরকম হাট, যেখানে বিক্রি হয় মানুষ

ময়মনসিংহে অন্যরকম হাট, যেখানে বিক্রি হয় মানুষ

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। সকাল ৭টা বাজতেই ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা মহিলা কলেজ মোড়ে একে একে জড়ো হতে থাকেন শতাধিক মানুষ। কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে বেলচা, কেউ আবার খালি হাতেই দাঁড়িয়ে আছেন রাস্তার পাশে। তাদের সবার লক্ষ্য একটাই—আজকের দিনের জন্য একটি কাজ জোটানো।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।। ময়মনসিংহ ।।বাতয়ন২৪ডটকম।। ২৯ জুলাই ২০২৬

এটি কোনো পশুর হাট নয়, নয় কোনো পণ্যের বাজার। এটি শ্রমের হাট। এখানে প্রতিদিন নিজেদের শ্রম বিক্রি করতে আসেন নির্মাণশ্রমিক, মাটি কাটার শ্রমিক, রাজমিস্ত্রির, রংমিস্ত্রি, কৃষিশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার দিনমজুররা। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে চলে প্রায় সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই ঠিকাদার, বাড়ির মালিক কিংবা বিভিন্ন কাজের জন্য শ্রমিক প্রয়োজন, এমন ব্যক্তিরা এসে দরদাম করে শ্রমিক নিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষায় এটি ‘শ্রমিকের হাট’।

একই চিত্র দেখা যায় ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া মোড়েও। ভোর থেকে সেখানে কাজের আশায় অপেক্ষা করেন অসংখ্য দিনমজুর। কাজ মিললে দিন ভালো কাটে, না মিললে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়।

ত্রিশালের আমিরাবাড়ি এলাকার নির্মাণশ্রমিক মো. বাবুল মিয়া বলেন, প্রতিদিন সকালে এখানে আসি। ভাগ্য ভালো থাকলে কাজ পাই, না হলে দুপুরের আগেই বাড়ি ফিরতে হয়। এখন সাধারণ শ্রমিকের মজুরি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। তবে সব দিন সমান কাজ থাকে না।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে নির্মাণকাজ কমে গেলে আয়ও কমে যায়। আবার ধান কাটা কিংবা বোরো মৌসুমে কৃষিশ্রমিকের চাহিদা বাড়লে অনেকের কাজের সুযোগও বাড়ে। তবে বছরের অধিকাংশ সময়ই কাজের অনিশ্চয়তা তাদের নিত্যসঙ্গী।

কাজ না পেলে সংসারে সংকট নেমে আসার কথা জানান শ্রমিকদের অনেকেই। তারা জানান, দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল তারা। এক দিন কাজ না হলে সেদিনের বাজারও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে হয়।

শ্রমিক আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের কোনো মাসিক বেতন নাই। আজ কাজ করলে আজ খাওয়া হবে। কাজ না থাকলে ধার করে সংসার চালাতে হয়।

আরেক শ্রমিক জসিম উদ্দিন বলেন, সকালে সবাই দাঁড়িয়ে থাকি। যার ভাগ্যে কাজ জোটে সে চলে যায়। যারা থেকে যায়, তাদের মনটা খারাপ হয়ে যায়।

প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ঠিকাদার, বাড়ির মালিক কিংবা ব্যবসায়ীরা শ্রমিক নিতে আসেন। কাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণ করা হয়। দক্ষ শ্রমিকদের মজুরি তুলনামূলক বেশি হলেও সাধারণ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যেই দরদাম শেষ হয়।

শ্রমিক নিতে আসা ত্রিশাল পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাড়ির নির্মাণকাজের জন্য মাঝেমধ্যে এখান থেকে শ্রমিক নিয়ে যাই। এখানে একসঙ্গে অনেক শ্রমিক পাওয়া যায়, তাই সময়ও বাঁচে।

স্থানীয় ঠিকাদার শাহীন মিয়া বলেন, ভালো ও অভিজ্ঞ শ্রমিক পেতে হলে একটু বেশি মজুরি দিতে হয়। তবে কাজের বাজার আগের তুলনায় কিছুটা মন্দ।

শ্রমিকদের কারও বয়স ২০, কারও ৬০ ছুঁইছুঁই। বয়স বাড়লেও থেমে নেই সংগ্রাম। পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের লেখাপড়া কিংবা চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতিদিনই তাদের দাঁড়াতে হয় এই হাটে।

এই ধরনের শ্রমিকের হাট দেশের অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের একটি বাস্তব চিত্র। যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ কোনো স্থায়ী চাকরি বা সামাজিক নিরাপত্তা ছাড়া শুধু একটি দিনের কাজের আশায় অপেক্ষা করেন।

সূর্য যখন একটু ওপরে ওঠে, তখন হাটটিও ফাঁকা হতে শুরু করে। কেউ কাজ পেয়ে চলে যান নির্মাণস্থলে, কেউ যান কৃষিজমিতে, কেউ আবার মাটি কাটার কাজে। আর যাদের ভাগ্যে কাজ জোটে না, তারা ফিরে যান বাড়ির পথে পরদিন আবার ভোরে একই জায়গায় দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়ে।

 

বাতায়ন২৪ডটকম।। আ.আ.আ

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com