কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা ও চর রাজীবপুর উপজেলায় দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া যানবাহন সীমিত আকারে চলছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ জনগণ।
রৌমারী শহরের এলাকার খলিল মিয়া (৫০) বলেন, কয়েকদিন থেকে রাত-দিন মিলে শুধুমাত্র এক থেকে ২ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে। এর মধ্যেও আবার দুই তিনবার চলে যায়। ফলে বিদ্যুৎ সেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত আমরা। এদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হলেও কিন্তু মাস শেষে বাড়তি বিল গুনতে হয়।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা পাচ্ছি না এবং রাস্তায় যানচলাচল খুবই সীমিত। ১৫ দিন ধরে এ দুই উপজেলায় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ এবং বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক অটো চার্জ দিতে পারে না। এতে সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। যদিও কযেকটি গাড়ি চললেও ২০ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ৬০ টাকা করে।
ব্যাটারিচালিত অটো চালক মো. আলম মিয়া (৫০) বলেন, কারেন্ট না থাকায় অটো চার্জ দিতে না পারায় রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছি না। এই অটো চালিয়ে সংসার চলে। এখন খুব কষ্টে আছি।
এসএসসি পরীক্ষার্থী সুজন মিয়া জানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে লেখা পড়া করতে হচ্ছে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্যও কোনো যানবাহনেও পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলে আবার তিন চার গুন ভাড়া দিযে যেতে হচ্ছে।
ব্যাবসায়ী আব্দুল জলিল সরকার বলেন, ‘বিদ্যুৎ নাই যে এহনা আইসে তার আবার কয়েকবার চলি যায়। মোবাইলে নেটওয়ার্ক নাই, ফোনো পাইনে খুব অসুবিধা হইছে।’
রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী বাজারের ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের অঞ্চলে টানা গত ৭২ ঘণ্টা ধরে কারেন্ট না থাকায় ইন্টারনেট এবং ওয়াইফাই সেবা বন্ধ। এতে চরম বিপাকে পড়েছি। ফলে ব্যাংকে টাকা লেনদেন করতে পারছি না। এতে গ্রাহকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছন।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাফিউর রহমান বলেন, লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে জানানো হয়েছে।
জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি রৌমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেনের ফোনে একাধিক বার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাতায়ন২৪/সালাম*আবিদ