স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বিনোদন।। বাতায়ন২৪ডটকম।।
রেখা বলিউডের এমন এক নাম যিনি পর্দায় উপস্থিত হলেই থেমে যায় শত অনুরাগীর মন। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে একের পর এক হিট মুভি দিয়ে হয়ে ওঠে ইন্ড্রাস্টির প্রাণ। তার অনবদ্য স্টাইল ও নিখুঁত অভিনয় দিয়ে সফল অভিনেত্রী হিসেবে বলিউডে জায়গা করে নিলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দেখেছেন সীমাহীন সংগ্রাম ও কষ্ট।
শৈশবকাল থেকেই শুরু হয় রেখার একা পথ চলা। রেখার বাবা-মা দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার তারকা ছিলেন। তার বাবা জেমিনি গণেশন বছরের পর বছর ধরে তাকে মেয়ে হিসেবে স্বীকার করেননি যার ফলে তার শৈশবকাল কঠিন হয়ে পড়ে।
আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে অভিনয় করার জন্য রেখা ছোটবেলাতেই স্কুল ছেড়ে দেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৬৬ সালে তেলেগু ছবি ‘রাঙ্গুলা রত্নম’এ অভিনয় শুরু করেন।
এরপর ১৯৭০ সালে বলিউডে অভিনেত্রী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় ‘সাওয়ান ভাদোন’ সিনেমার মাধ্যমে যখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর।
‘সিলসিলা’, ‘খুবসুরাত’, ‘উমরাও জান’, ‘খুন ভারি মাং’, ‘ঘর’, ‘মুকাদ্দার কি সিকান্দার’, ‘ফুল বানে আঙ্গারে’, ‘মি. নাটওয়ারলার’, ‘উৎসব’, ‘ইজাজাত’ এর মতো কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করে তিনি বহুমুখী অভিনেত্রী হিসেবে জায়গা করে নেন।
‘উমরাও জান’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জিতেছেন। এছাড়াও তিনি একাধিক ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার সহ ২০১০ সালে পদ্মশ্রীতে ভূষিত হয়েছেন।
কিন্তু রুপালি পর্দার আড়ালে রেখার জীবন মুদ্রার ঠিক ওপর পিঠ। বাবা-মা’র ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত রেখার সংসার জীবনের সুখও বেশিদিন টেকেনি।
১৯৯০ সালে রেখার সাথে ব্যবসায়ী মুকেশ আগারওয়ালের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের ছয় মাসের মাথায় তার স্বামী আত্মহত্যা করেন। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেখাকে ব্যাপক সমালোচিত হতে হয়।
কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর ৩৫ বছর পরও রেখা এখনো সিথিঁতে সিঁদুর পড়েন। অমিতাভ বচ্চনের সাথে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে এরকম কথাও শোনা যায় রেখা অমিতাভের জন্য সিদুঁর পড়েন আর কেউ বলেন তিনি তার প্রয়াত স্বামীর স্মরণে সিদুঁর পড়েন। তবে তিনি আসলে কার জন্য সিদুঁর পড়েন সেটি আজও রহস্যময়।
ব্যক্তিগত জীবনে রেখা কষ্ট, একাকিত্ব আর ধোঁকা পেলেও তার তীক্ষ্ণ ব্যক্তিত্ব, মোহনীয় সৌন্দর্য ও মাধুর্যতা বছরের পর বছর তাকে করেছে অনন্য এবং অমলিন।
বাতায়ন২৪ডটকম।। মেমোহি।।