আমার জানা মতে এমপিওভুক্তসহ শিক্ষকতা পেশায় বর্তমানে জেলা শহর ও সাতটি উপজেলায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত আছেন অর্ধশতাধিকের বেশি শিক্ষক-সাংবাদিক। এছাড়া কয়েকজন আইনপেশায়, কেউ কেউ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পদ-পদবিতে, আবার অনেকে এনজিও-বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। এমনকি লাভজনক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও মালিক বা পরিচালক হিসেবে যুক্ত আছেন অনেকেই।
এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা কর্মকর্তার পাঠানো চিঠিতে যে তথ্য–তালিকা চাওয়া হয়েছে—তা কী সঠিকভাবে তৈরি হবে? নাকি শিক্ষক-সাংবাদিকদের তদবির-সুপারিশে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা অনেক নামই বাদ দেবেন? আর তালিকা জমা পড়ার পর সরকার বা মন্ত্রণালয় আসলেই কি নীতিমালা অনুসারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেবে?
আমার দেখা জানা শিক্ষকদের মধ্যে যাঁরা যোগ্যতা ও সক্ষমতা নিয়ে সাংবাদিকতা করেন—তাদের কাজকে সম্মান করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সাংবাদিকতা পেশায় এখন যুক্ত আছেন অনেকেই যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক বা আন্ডার-মেট্রিক পর্যায়ের। মাঠপর্যায়ে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে ঘুরে বেড়ানো টাউট-বাটপার, দালাল বা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যাও কম নয়। তবু তাদের নিয়ন্ত্রণ বা শাস্তির ক্ষেত্রে কোন সিদ্ধান্ত-নীতিমালা হয়না কখনো! কার্যকর ব্যবস্থা তো দুরের কথা!
বিপরীতে, তারাই আবার আনন্দের সঙ্গে লেখালেখি ও পোস্ট–শেয়ারে ব্যস্ত—শিক্ষকদের সাংবাদিকতায় নিষেধাজ্ঞার খবর প্রচারে! ভালোই হলো যে আমি নিজে কোনো পেশাগতভাবে এসবের কিছুই করি না; কাজেই কোনো নীতিমালা, সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা আমাকে আটকে রাখতে পারবে না কখনো…! এটাই আমার সাংবাদিকতা!
আমার মনে হয়—যারা সাংবাদিকতা করতে চান, তারা সাংবাদিকতাতেই থাকুন। আর শিক্ষক, আইনজীবী বা অন্য যে পেশায় যুক্ত আছেন—সেই পেশাতেই থাকা উচিত। নইলে দালালি, অপকর্ম কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়কে অস্ত্র করে পেশাকে কলুষিত করাই চলতে থাকবে।
জিল্লুর রহমান পলাশ, গণমাধ্যমকর্মী, গাইবান্ধা।