সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কক্ষে পরিচালক আমির আলীর প্রকাশ্যে ধূমপানের ভিডিও ভাইরাল নীলফামারীতে শিয়ালের কামড়ে বৃদ্ধসহ আহত ৭ ত্রুটি সেরে উৎপাদনে ফিরলো আদানি: পুরোদমে সরবরাহ শুরু যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অনিশ্চয়তা : উপসাগরীয় দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি  ইরানের মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে পাঁকা আমে সয়লাব: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুসহ সব বয়সের মানুষ সুন্দরগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পোল্ট্রি খাতে বিপদের শঙ্কা, স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা : শিক্ষক কারাগারে হাইকোর্টে এমপি মুফতি আমির হামজার আগাম জামিন নিয়োগ দেবে বিএসআরএম গ্রুপ, আবেদন শেষ ৩ মে মা-বোনদের কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী
 ‘‘যুক্তি দেখান ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা কেন নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার লিখতে পারবে না? ” (ভিডিওসহ)

 ‘‘যুক্তি দেখান ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা কেন নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার লিখতে পারবে না? ” (ভিডিওসহ)

 স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রংপুর।। বাতায়ন ২৪ডটকম।।

একটা  যুক্তি দেখান যাতে ডিপ্লোমারা নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার লিখতে পারবে না। ডিপ্লোমা মানে বাবা তাকে কেন অস্বীকার করা হচ্ছে। সবাই চায় বড় হতে ডিগ্রী ডিপ্লোমারা কেন পদবীতে নিচে নামতে চায়? এ ধরণের অসংখ্য প্রশ্ন  আর  যুক্তির দেখাচ্ছিলেন রংপুরে আন্দোলনরত পলিটেটিক শিক্ষার্থীরা। দাবী আদায়ে মহানগরীর শাপলা চত্বর এলাকা ২ ঘন্টা ব্লোকেডের সময় দাবির স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তারা। এসময় নগরীতে যানজটের তৈরি হয়।

 

বুধবার বেলা ( ১৭ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ১২ টা থেকে দুপুর ২ টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নগরীর শাপলা চত্বর এলাকা ব্লোকেড করে দেয় শিক্ষার্থীরা। এর আগে বেলা  বারোটায় রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে একটি  বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাপলা চত্বরে জড়ো হন তারা। ব্লোকের কারণে নগরীতে প্রবেশের টার্মিনাল, স্টেশন, লালবাগ, গুপ্তপাড়া এবং প্রেসক্লাব পর্যন্ত পাঁচটি প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিটি সগেকের মুখে বসে ও দাড়িয়ে ব্লোকেড করেন  শিক্ষার্থীরা । এতে দুই পাশে শত শত যাত্রী এবং যানবাহন আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। অনেকেই হেটে গন্তব্যে পৌছান।  শাপলা থেকে জাহাজ কোম্পানী মোড় পর্যন্ত সড়কের যানবহান ভিন্নপথে চলাচলের চেস্টা করে ‍পুলিশ। কিন্তু টার্নিমাল, কলেজ রোড এবং স্টেশনে রোডে শত শত যানবহান আটকে থাকে।

অবরোধের সময় শিক্ষার্থীরা পাঁচটি প্রবেশ মুখেই মানববন্ধন তৈরি করে অবস্থান নেয়।  একশন একশন ডাইরেক্ট একশন,আয়রে লিপু দেখে যা, রাজপথে তোর বাপেরা, তিন দফার বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন, আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ, বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলিকর  নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে তারা।

ব্লোকেডে অংশ নেয়া রংপুর পলিটেকনিকের সিভিল বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম  ডিগ্রী ডিপ্লোমাধারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ আমরা এই ব্লোকেড থেকে জানান দিতে চাই। আপনারা (বিএসএসি ইঞ্জিনিয়াররা) জ্ঞান অর্জন করতে করতে  বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতে পরিনত হয়েছেন। আপনারা এতো লেখা পড়া করেছেন। ৪৭, ৫২, ৬৫, ৬৬, ৭১ এবং ২৪ এর ইতিহাস জানেন। কিন্তু ডিপ্লোমার ভিত্তি কিভাবে রচিত হলো এটার ইতিহাস জানেন না। বিষয়টা কেমন হাস্যকর। আপনারা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলছেন। আপনারা কি জানেন না, যে বাবার মাধ্যমে আপনারা পৃথিবীতে এসেছেন। সেই বাবাকে আপনারা অস্বীকার করছেন কিভাবে? আমরা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। দশম গ্রেড আমাদের অধিকার। এখানে আপনারা হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। পারবেনও না। আমরা মাঠে আছি। ’

রংপুর পলিটেকনিকের আরেক শিক্ষার্থী মোখতারুল ইসলাম প্রামণিকও অংশ নিয়ে ম্লোগান দিচ্ছিলেন। তিনি জানান,  ‘ সরকার একটা কমিটি গঠন করেছে। ডিপ্লোমা এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায়। কিন্তু দেখা গেলো ওই কমিটিতে তাদেরই ৮০ ভাগ। সেকারণে তারা সুষ্ঠু সমাধান না করে বিষয়টি জটিল করে তুলেছেন।  তারা বলতেছে আমরা নাকি ইঞ্জিণিয়ার লিখতে পারবো না। আমি তাদের কাছে জানতে চাই। আপনারা আমাদের একটা যুক্তি দেখান। আমরা কোন যুক্তিতে নামের আগে ইঞ্জিণিয়ার লিখতে পারবো না। আপনি যদি এসএসসি পাশ করলে এসএসসি পাশ বলা হয়, আপনি যদি ইন্টার মিডিয়েট পাশ করেন, তাহলে আপানকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ বলা হয়। তাহলে আমরা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পার আমরা কেন নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার লিখতে পারবো না। ’

ব্লোকেড অংশ নেন নারী শিক্ষার্থীরাও। তাদের কণ্ঠও ক্ষুব্ধ। অংশগ্রহনকারী রংপুর পলিটেকনিকের আরেক ছাত্রী শম্পা আখতার বলেন, ‘আমরা আমাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছি। নিজের অধিকার নিজেন অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য এই আন্দোলন। আমরা রাজপথে নেমেছি। আমরা রাজপথ ততক্ষণ ছাড়বো না। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের দাবিগুলো মানা হবে। ডিগ্রী ডিপ্লোমাদের তিন দফা দাবি অযৌক্তিক। কোন যুক্তি নাই। আমাদের অধিকার আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। ’

 ব্লোকেডে মাস্টার শ্লোগানদাতা  রংপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘ ডিগ্রী ডিপ্লোমাদের দাবি হলো তাদের দশম গ্রেড উম্মুক্ত করে দেয়া। এটা হতে পারে না। কারণ তাদের জন্য যদি দশম গ্রেড উম্মুক্ত করা হয়, তাহলে তাদের পিছনে, বুয়েট, রুয়েট, কুয়েটের পেছনে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করছে কেন? তারা ডিপ্লোমাতে ভর্তি হোক। তারা দশম গ্রেড এমনিতেই পাচ্ছে। এতটাকা খরচ করে কেন তারা একটা অটোর মেকার হবে। গ্রামের একটা নাম না জানা মানুষও তো অটো বানাতে পারে। ঠিক করতে পারে। ‘

 রেজাউল আরও বলেন, ‘ তারা আমাদের টেকনিশিয়ান বলছে। আমরা মেনে নিয়েছি। আমরা কম টাকায় টেকনিশিয়ান হচ্ছি। আমাদের মেধা কম। তাদের  এতো মেধা। তারা অনেক টাকা খরচ করে পড়ছের। তাহলে তারা  বুয়েট, রুয়েট কুয়েট চুয়েট পাশ করে  আপনারা কেন টেকনিশিয়ান হতে চাচ্ছে? মানুষ উপরে যায়, আপনারা কেন নিচে নামছেন?

বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ মইনুল হোসেন মিল্লাত জানান, আমরা সুস্ঠুভাবে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু তারা আমাদের আন্দোলনকে সন্ত্রাসী আন্দোলন আখ্যা দিয়েছে। আমাদেরকে ‍গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছে। সেকারণে আমরা ব্লোকেডর মতো আন্দোলনে গেছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। পরে দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে  শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে অবরোধ তুলে নেন।

বাতায়ন ২৪ডটকম/ মেহি

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com