স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||
রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ থানার বীরভদ্রবালাটারী এলাকায় একটি খানকা শরিফের নির্মাণাধীন ইটের সীমানাপ্রাচীর, টিনের বেড়া ও শৌচাগারের ছাউনি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক মোস্তাফিজার রহমান রানা ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন খানকা শরিফের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ভুট্টু। এ ঘটনায় প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
খানকা শরিফের সভাপতি মো. নুর মোহাম্মদ বলেন, “খানকা শরিফে আঘাত করা মানে শুধু একটি ঘর ভাঙচুর করা নয়, এটি স্থানীয় মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাত করার সমান।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বীরভদ্রবালাটারী এলাকায় মোফাচ্ছেরে কোরআন হযরত মাওলানা শাহ সুফী সৈয়দ কামরুজ্জামান নকশবন্দী মোজাদ্দেদী আল ওয়াইসী গদীনশীন পীর, চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরিফের নামে থাকা জমিতে একটি টিনের ঘরে খানকা শরিফ পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রায় অর্ধশত বছর ধরে এ এলাকায় খানকাটি ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, প্রতি সোমবার বাদ মাগরিব এ খানকায় মুসলিম উম্মাহর হেদায়েতের লক্ষ্যে ওয়াজ-নসিহত অনুষ্ঠিত হতো।
খানকার স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে সেখানে ইট-বালু দিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছিল। অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার রাতে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক মোস্তাফিজার রহমান রানা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে খানকার নির্মাণাধীন সীমানাপ্রাচীর, শৌচাগারের ছাউনি ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন। এতে আনুমানিক ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
খানকার সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন রশিদ ভুট্টু বলেন, ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা তাঁদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় তিনি মো. রোকনুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে মাহিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, খানকা শরিফ শুধু ইট-টিনের একটি স্থাপনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক সাধনা ও সাধারণ মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান। এমন স্থাপনায় হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তাফিজার রহমান রানার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইদুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম