সংবাদ শিরোনাম :
বর্ষার পরে শুকনো মৌসুমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কার্যকরভাবে শুরু করা হবে : ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী রংপুরে সার ব্যবস্থাপনা সভা: সংকট না থাকলেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পীরগাছায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ পালিত রংপুরে আলুভর্তি ট্রাক চাপায় স্ত্রী নিহত স্বামী আহত বিদ্যুৎ সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ আমির হামজার গাড়িতে হামলা, বাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা শেষ হলো ৩ দিনের রংপুর বিভাগীয় স্কেটিং ক্যাম্প, সমাপনী দিনে বিতরণ করা হলো সনদ গুজব প্রতিরোধে শুধু টেকনিক্যালি নয় সামাজিক সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে হবে: বিটিআরসি চেয়ারম্যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ জামায়াত নেতার মাদরাসায় মিলল ১৩ বস্তা সরকারি আমন ধানের বীজ
রংপুরে সার ব্যবস্থাপনা সভা: সংকট না থাকলেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

রংপুরে সার ব্যবস্থাপনা সভা: সংকট না থাকলেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট|রংপুর| বাতায়ন২৪,ডটকম

সার নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ফ্যাসিস্ট সময়ে নিয়োগ পাওয়া ডিলাররা পরিকল্পিতভাবে মূল্যবৃদ্ধিসহ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অস্থিতীশীল পরিস্থিতির তৈরি করার চেস্টা করছে। দেশে সারের বরাদ্দ ও সরবরাহে কোন সংকট নেই, বিতরণে অনিয়ম করে পরিস্থিতি উস্কে দেয়া হচ্ছে। এসব মোকাবেলায় কঠোর মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও পূর্বের ডিলারদের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল এবং ডিলারদের জন্য কমিশন বাড়ানোর বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হয়।

সারের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ ও সরকার নির্ধারিত দামের পাওয়ার দাবিতে লালমনিরহাট, নীলফামারীসহ বিভিন্নস্থানে রাস্তায় বিক্ষোভ করছে কৃষক। ঠিক তখনই রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২ টা পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে সার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় সভা হয় রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব সেলিম খান। বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডিজি মোঃ আব্দুর রহিম, রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, র‍্যাব-১৩ রংপুরের অধিনায়ক কর্নেল মঞ্জুর করিম, বিজিবি ৫. সেক্টর কমান্ডারের পক্ষে লে. কর্নেল মোঃ নাজিউর রহমান, আটজেলার এডিসি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ডিলার এবং বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন, বিএডিসি সার ডিলার ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা। এসময় বিএফএ এবং ডিলারর এবং কৃষি অফিসাররা তুলে ধরেন সারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। বলেন সংকট না থাকলেও সরবরাহ ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না। টিএসপির বরাদ্দ খুবই কম।

অংশ নিয়ে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানান, ‘জেলা পর্যায়ে যে ডিলারগুলি নিয়োগ আগে থেকে আছে এবং যে ঠিকাদার সে ছিল ফেসিস্টের ঠিকাদার। সে পলাতক কিন্তু তার পক্ষ হয়ে অন্য লোকজন সেটা চালাচ্ছে। এজন্য সেখানে সমস্যা দেখা দিয়েছে স্যার। আমার একটা অনুরোধ থাকবে এই যে ডিলার এবং ঠিকাদাররা আছে এরা কিন্তু ফেসিস্ট আমলের লোক স্যার। এরা কিন্তু এখনো নিষিদ্ধ যে সংগঠন রয়েছে তাদেরকে অর্থ যোগানদাতা হিসেবে কাজ করে আমাদের জেলায় কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে স্যার। এই বিষয়টা কিভাবে হ্যান্ডেল করা যায়। সেই পলিসি করা দরকার।’

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, ‘গত সপ্তাহে কালীগঞ্জে সারের জন্য বিক্ষোভের একটি ঘটনা ঘটেছে। তবে এই সমস্ত সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা যখন মাঠে যাই, সবসময় আমরা দেখি যে মাঠে একরকম কথা কিন্তু আমরা যখন মিটিংয়ে বা কৃষি দপ্তর থেকে সারের যে হিসাব পাই। সেটা ভিন্ন ধরণের হয়। কৃষির হিসাব অনুযায়ী কিন্তু সারের কোন ঘাটতি নাই। কিন্তু মাঠে ঘাটতির বিষয়ে সবসময় এরকম চিত্র আমাদেরকে হ্যান্ডেল করতে হয়। এক্ষেত্রে আমাদের যে জেলা এবং উপজেলার যে মনিটরিং যে সার ও বীজ মনিটরিং যে কমিটি আছে । তাদের বিশেষ করে উপজেলা সার মটিনরিং কমিটি কার্যক্রমটাকে খুব বেশি ফ্রুট ফিল করতে হবে। শুধুমাত্র আমরা যেন মিটিংয়ের মধ্যে এই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখি। এই কমিটিকেকে প্রচুর পরিমাণে মনিটরিং করতে হবে। এই মনিটরিংয়ের ভিতরে একটা থাকতে হবে, বিশেষ করে এটা হয়তো কৃষি সম্প্রসারণ উনাদের কাজ। সেটি হলো যতজন কৃষক আছেন তাদের যে ডেটাবেজ প্রয়োজন অনুসারে করতে হবে। সঠিব ডেটাবেজ করতে হবে। এইটা করা দরকার।’

অংশ নিয়ে র‍্যাব-১৩ রংপুরের অধিনায়ক কর্নেল মঞ্জুর করিম বলেন, ‘আমাদের গ্রাস রুট লেভেলে যারা কৃষি অফিসার আছেন, তাদেরকে আরেকটু বোধহয় আমরা যেরকম ৮০’র দশকে দেখেছি, যখন আমাদের এখানে কৃষি বিপ্লব হচ্ছিল, যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে। সেরকম অ্যাক্টিভ কৃষি অফিসার আমাদের আরও অত্যন্ত দরকার, এই বর্তমান সময়ে আরও বেশি দরকার। যেটার একমাত্র উপায় হচ্ছে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বেশি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আমরা আমাদের ফোর্সকে অলরেডি নির্দেশনা দিয়েছি যে তারা আপনাদের সাথে ইনভলভ হওয়ার ব্যাপারে। তো আশা করি আপনারাও উদ্যোগ নিবেন যাতে আমরা আপনাদের সাথে সংযুক্ত হয়ে এই মনিটরিংয়ের ব্যাপারটা আরেকটু শক্তভাবে হ্যান্ডেল করতে পারি।”

বিজিবি ৫. সেক্টর কমান্ডারের পক্ষে লে. কর্নেল মোঃ নাজিউর রহমান, ‘যেটা দেখা যাচ্ছে যে, যেটা ডিএপি সার, ডিএপি সারের চাহিদা বেশি হওয়া সত্ত্বেও তারা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, যারা খুচরা ব্যবসায়ী, তারা এইগুলা মজুত করছে। মজুত করে তারা সেই তুলনায় টিএসপি সারের দাম যেহেতু বেশি, তারা ওই ডিএপি সারটাকে কম দেখিয়ে টিএসপি সারের চাহিদাটা বেশি করছে। এবং বেশি দামে এই জিনিসটাকে বিক্রি করছে। এবং ডিএপি সারের যে অধিক তাদের কাছে মজুত ছিল, সেখান থেকে তারা সেগুলো কিছু চোরাকারবারি এবং তাদের কাছে বিক্রি করছে, যেগুলো পাচার হয়ে যাচ্ছে। তো এই জিনিসটা আমি মনে করি যে, আমাদের একটু মনিটর করা উচিত এবং এটা আমাদের নলেজে আনা উচিত ‘

দিনাজপুরের এডিসি(সার্বিক) নুর ই আলম সিদ্দীকি বলেন, ‘ আমরা দেখছি যে একজন ডিলার অতিরিক্ত সার, সে আগের রাতে তোলে নাই, সকালে তুলছে। সে দিনই সে কালোবাজারি করে আরেকটা গুদামে পাঠায় দিচ্ছে।তারমানে, ওই উপজেলায় হয়তো ওই সারটার আর প্রয়োজন নাই। কিন্তু সে ওই সারটা তুলে আরেক জায়গায় বিক্রি করছে। তো এই কাজটা যখন করছে, তাকে তো আমরা সারটা তো দিয়েছি স্যার। এবং এই কাজটা সে এর আগেও করেছে বা এই ধরনের কয়েকজন আছে চিহ্নিত, তারা এই কাজগুলো করছে। আমরা হয়তো একজনকে ধরতে পেরেছি। তারমানে, আবার একটু চিন্তা করা দরকার, যখন আমরা সারের বরাদ্দটা দিচ্ছি স্যার, মানে আমাদের দেখা যাচ্ছে ওই সারটা কি ওই উপজেলায় ওই সময়ের জন্য প্রযোজ্য কি না। এটা একটা রিভিশন করা দরকার।’

অংশ নিয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, ‘ রংপুর থেকেই ফ্যাসিস্টরা একটা ইস্যু তৈরি করার চেস্টা করছে। এখানে একটা ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার কাছে যে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, তারা চায় যে, এই রংপুর থেকেই তারা একটা ইস্যু তৈরি করবে। যে ইস্যু দিয়ে গভমেন্টকে অস্থিতিশীল করবে। সেটা তারা সার বিষয়েও করতে পারে। কারণ সারের ঘাটতি নাই। কিন্তু সার পাওয়া যাচ্ছে না অথবা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দ্রুত এ বিষয়ে মনিটরিং বাড়োনো প্রয়োজন।

আব্দুল মাবুদ বলেন, ‘এখানে সার ব্যবস্থাপনায় যে ডিলার ব্যবসায়ী যারা আছেন, ফ্যাসিস্ট আমলের অনেকেই এখনো রয়ে গেছেন। এমনকি আমাদের এখানে যে বসে আছেন, সবাই যে ফ্যাসিস্টমুক্ত তাও না।ফ্যাসিস্টের সাথে পরোক্ষভাবে বা কোনোভাবে কেউ সংশ্লিষ্ট আছেন।আমি এখানে এটুকু বলব, ইনশাল্লাহ আমরা কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করব। এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তিনিও ছাড় পাবেন না। যদি কোনো সরকার দলের সমর্থক – কেউ যদি কালোবাজারির সাথে জড়িত থাকেন, তিনিও ছাড় পাবেন না।’

মহানগর পুলিশ সুপার মাবুদ আরও বলেন, ‘সার ব্যবস্থাপনা, সারের ব্যবসা, এটা শুধু বিজনেস না, অর্থনৈতিক কোনো কাজ না।এটা একটা সার্ভিস, এটা সেবা। দেশসেবার একটা অংশ। কাজেই সার ব্যবস্থাপনার সাথে যেসব ডিলার, যেসব খুচরা লোকজন, আমরা এতক্ষণ যেগুলো শুনলাম জড়িত আছেন, সারের ব্যাপারে যদি কেউ দাম বাড়ায়,বেশি দামে বিক্রি করে,আইনবহির্ভূত কাজ করে, সে ব্যাপারে আমরা কঠোর হব।কঠোর হওয়ার প্রেক্ষিতে কেউ যদি ভুল করেন,আমি আগেই বলে দিচ্ছি, তার ব্যাপারে রিপোর্ট সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যাবে।

সারের ডিলার প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার মাবুদ বলেন, ‘সারের ডিলার যারা আছে, এদের সকলের বিষয়ে এই গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে পুনর্মূল্যায়ন করেন। যদি ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতার দরকার নাই, অভিজ্ঞতার শর্ত বাদ দিয়ে দেন। আমরা মেট্রোপলিটনের যেসব টেন্ডার করছি, সবগুলোতে আমরা অভিজ্ঞতার শর্ত বাদ দিয়ে দিছি।অভিজ্ঞতার শর্ত দিলে তো ১৭-১৮ বছরের ফ্যাসিস্টই অভিজ্ঞ। ৫ তারিখের পরে, ৩৬ শে জুলাইয়ের পরে যেসব দেশপ্রেমিক আছে তারা তো অভিজ্ঞ না, যেসব জুলাই যোদ্ধা আছে তারা তো অভিজ্ঞ না।
আমার অভিজ্ঞতার চেয়ে দরকার হলো পেশাদার দেশপ্রেম,আমার মধ্যে একটা পজিটিভ অ্যাটিটিউড দরকার, ঈমান-আকিদা দরকার। যে সার নিয়ে ব্যবসা করবেন তার এই ব্যবসা থেকে যে সেবা দেওয়ার মানসিকতা রাখবেন না, তার ব্যাপারে আমরা কঠোর হব। আমাদের সারের ব্যাপারে যে আইন-টাইন আছে, এটার থেকেও স্পেশাল পাওয়ার এ্যাক্ট আছে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন আছে, আমরা সেটা প্রয়োগ করব।

পুলিশ কমিশনার মাবুদ বলেন, ‘আইন প্রয়োগ যেটা হচ্ছে, তাৎক্ষণিক একটা কোর্ট বসে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে,আলহামদুলিল্লাহ এটা খুবই ভালো। কিন্তু বিষবৃক্ষ শুধু একটা ডাল কেটে দিলে হবে না, বিষবৃক্ষটা শিকড়সহ উপড়ে ফেলতে হবে। আর শিকড়সহ যদি উপড়াতে হয়, ওইটাতে একটা পদক্ষেপ তার পাশাপাশি তার আর্থিক ব্যবস্থাপনা, তার আত্মীয়স্বজন কোথায় কী আছে, গত ১৭ বছর, ১৮ বছর, ২০ বছরে কী করছে, ভাই, শালা, সম্বন্ধী, বউ যারা আছে তারা কী করে আমরা চৌদ্দগোষ্ঠীর খবর নিয়ে ইনশাল্লাহ আমরা ব্যবস্থা নেব।হয়তো ছোট্ট একটা বিষয়, হয়তো সে ৫০০ টাকা বাড়াইছে। কিন্তু ৫০০ টাকার বিষয়টাকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে এটাকে আমরা সর্বোচ্চভাবে দেখব।’

রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, বলেন, ‘ আমাদের মূল কাজটা হচ্ছে বরাদ্দে কোথাও সমস্যা নেই, আমাদের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টে আমাদের সমস্যা। যেটা সবাই বলে আসছেন আমাদের মনিটরিং। তো মনিটরিংয়ের যেটা আমাদের পুলিশ কমিশনার মহোদয় বলেছেন, আমরা এখনও ফ্যাসিস্টমুক্ত হতে পারিনি। এই কাজটা আমাদেরকে করতে হবে। এই কাজটাই যদি আমরা করতে পারি, তাহলে এই আমাদের ফেসবুক বা ইউটিউবের মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন দিয়ে মানুষের ভিতরে আতঙ্ক তৈরি করার যে একটা হীন প্রয়াস কারা করছে, দেশের ভিতরেও আছে, দেশের বাহির থেকেও করতেছে এই জিনিসগুলো আমাদের খেয়াল রাখতে হবে ‘

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চিলে কান নিয়ে গেছে না দৌড়াইয়া, এখানে আমাদের বাস্তবতার সাথে আসতে হবে। যেহেতু আমাদের সরবরাহ ঠিক আছে, কিন্তু ভোক্তা পর্যন্ত যাওয়ার যে চেইনটা আছে, এই চেইনে যাতে কোথাও ঝামেলা না হয়। যেটা আমাদের যে এই ডিলার যারা আছেন, তারা অনেকে পলাতক আছেন। তাদের পক্ষে যারা কাজ করছেন এই যে আমাদের এসপি গাইবান্ধা বললেন যে তারা তো পালিয়ে আছে, কিন্তু তাদের পক্ষে কাজ করতেছে। যে লাভটুকু হচ্ছে, সেবার মানসিকতা নিয়ে তো করছেই না, বরং সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিনিয়োগ করতেছে তারা। এই লাভটা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বণ্টন করতেছে। তো এই জিনিসগুলো আমাদের মনে রাখতে হবে । এটা পুনর্মূল্যায়ন যাতে হয়। ওই সময় যারা ছিলেন, তাদের ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে তাদের যেটা এই ডিলারশিপ বাতিল করার ব্যবস্থা করে দেওয়া এটা করলে একটা জিনিস আমাদের অনেক জায়গায় চলে আসবে।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ আমাদের একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, বিএনপি গভর্মেন্ট যখন ক্ষমতায় ছিল ১৯৯৬-২০০৬, ওই সময় কিন্তু কানসাটে এই বিদ্যুৎ এবং এই সার নিয়ে বিভিন্ন সময় ঝামেলা তৈরি করেছে। আমাদের এই সরকার এবং বিরোধী দল এখন যারা আছেন, তারা সবাই ফ্যাসিস্টের দ্বারা কিন্তু নির্যাতিত। আজকে সংসদে যারা আছেন, সবাই কিন্তু ফ্যাসিস্টের দ্বারা নির্যাতিত মানুষ একসাথে সংসদে আছেন। এই দেশটা আমাদের সবার। এটা ফ্যাসিস্টমুক্ত রাখতে গেলে আমাদেরকে বিরোধিতাও করব, আবার একটা জায়গায় এক হয়ে যাব। আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এক জায়গায় আমরা সবাই এক এই দেশের ব্যাপারে। এই দেশটা সবার আগে বাংলাদেশ। এটা হচ্ছে আমাদের দেশপ্রেমের স্লোগান, এটা পার্টির কোনো স্লোগান না।’

বিভাগীয় কমিশনার ) শহিদুল ইসলাম, বলেন, ‘ কৃষি সেক্টরটাকে কোনোক্রমেই আমরা যেন কোনো রকমের গাফিলতি প্রদর্শন না করি। বিশেষ করে আমরা যারা এগ্রিকালচার লাইনে কাজ করতেছি। এজন্য আমি আপনারা যারা এক্সটেনশন ডিপার্টমেন্টে কাজ করছেন, তারা তাদেরকে অনুরোধ করব আপনারা ভালো কাজ করছেন, আরও ভালো করবেন। কেউ কেউ যে খারাপ কাজ করেন, সেটাও আমরা ইউএনও থাকতে দেখেছি। সেই উদাহরণ আমরা এখানে না টেনে আমরা বলি যে, আমরা সবাই ভালো কাজ করি দেখেই আমরা আজকে ১৮ কোটি মানুষ অন্তত তিন বেলা খেতে পাচ্ছি। তাই সার নিয়ে যেন ন্যুনতম কোন গাফিলতি না হয়। যারাই অস্থিরতা তৈরির চেস্টা করবে। সাথে সাথে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয় সচিব, সেলিম খান বলেন, ‘ সরকার পর্যাপ্ত মজুদ রেখেছে, ইউরিয়া এবং নন-ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এখানে কোন ধরণের ঘাটতি নেই। আপনারা বলছেন যে বরাদ্দ নেই, আবার দেখেন আপনাদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসছে যে টাকা দিলে সার পাওয়া যায়। তার মানে কি? তার মানেটা কি? সরকার সার দিয়েছে, সেই সারটা কোনো না কোনোভাবে সেটাকে লুকিয়ে রেখে অথবা এরকমও করা হয়েছে, আমাদের তথ্য আছে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমাদের কাছে তথ্য আছে আপনারা সারের ডিও পাওয়ার পর সার না তুলে সেটাকে মজুদ রাখা হয়েছে। সময়মতো সেই সারটাকে হয় পাচার হবে অথবা বেশি দামে বিক্রি হবে। এইগুলা কৃষি মন্ত্রণালয় বরদাস্ত করবে না ‘

মতবিনিময় সভায় বলা হয়, দেশে ইউরিয়া, টিএস, ডিএপি এমওপি সারের মোট চাহিদা ১৮ লাখ ৯ হাজার ৫০৩ ম্রেটিক টন। (গ্রাফ-০১) সমপরিমান সার মজুদ এবং চাহিদা অনুযায়ী সরববরাহ চলমান।

প্রসঙ্গত: চাহিদা অনুযায়ী ন্যায্য দামে সার পেতে ৯ আগস্ট নীলফামারীর সৈয়দপুরে এবং ১০ আগস্ট লালমনিরহাটের কালিগঞ্জে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় কৃষকরা।

বিক্ষোভকারী কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামে প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা হওয়ার কথা; কিন্তু বাজারে সেটি ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিএপি সারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ; আর ইউরিয়া সারের নির্ধারিত দাম প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও বাজারে তা ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সমামা/বাতায়ন২৪ডটকম/এইচআরবি

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com