কুড়িগ্রামে চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ১০টি বাইক
বাতায়ন২৪ডটকম || কুড়িগ্রাম || ২০ এপ্রিল ২০২৬
কুড়িগ্রামে চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চক্রটির কাছ থেকে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি।
পুলিশ জানায়, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কোর্ট চত্বর, নিউরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সদর হাসপাতাল ও জিয়া বাজার এলাকায় চারটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১৭ জানুয়ারি নিউরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একটি টিভিএস অ্যাপাচি ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে পুলিশ। পরে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকা থেকে শাহজামাল ওরফে বাবু ও নুর ইসলামকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালমনিরহাট, উলিপুর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শাহজামাল ওরফে বাবু মিয়া, নুর ইসলাম, খাইরুল ইসলাম বাবু, রেজাউল হাসান ওরফে বারেক, রফিকুল ইসলাম, মিটুল মিয়া ওরফে পাশা, খায়রুল আলম, আজিজুল হক ও আনিছুর রহমান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরি করে কম দামে বিক্রি করত। পরবর্তীতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেগুলো বেশি দামে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করত।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া ১০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে দুটি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে এবং বাকি সাতটি কুড়িগ্রাম থানায় সংরক্ষিত আছে। এগুলোর মালিকানা যাচাই চলছে।
এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট সদর ও রাজারহাট থানায় পৃথক চারটি মামলা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, “চোর চক্র দমনে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান চলবে।”
বাতায়ন২৪ডটকম || মামুন হাসান