স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||
সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয় ধারণ না করে সততা, সাহস ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকের কাজ সাংবাদিকতা করা, রাজনীতিবিদ হওয়া নয়। সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা এবং জনস্বার্থে সমালোচনা করাই সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির এক যুগপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন টকশোতে সাংবাদিকদের অনেক সময় রাজনীতিবিদদের চেয়েও বেশি রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। এর পেছনে সুবিধাভোগী হওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। সুবিধাভোগী হওয়া ছাড়া একজন সাংবাদিকের রাজনীতিবিদের চেয়েও বেশি রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের কোনো প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, আজ বিএনপি ক্ষমতায় আছে, কাল নাও থাকতে পারে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারে, আবার আওয়ামী লীগও ফিরে আসতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকদের দায়িত্ব হচ্ছে, নিজেদের অবস্থান থেকে সততা বজায় রেখে লেখনীর মাধ্যমে এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করা, যাতে ১০ বছর পরও তাঁদের লেখা সমাজ, দেশ ও ক্যাম্পাসের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
আবু সাঈদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বলেন, আবু সাঈদ একটি উদাহরণ হয়ে থাকতে পারতেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে পেরেছি? এত বড় একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও আমরা কতটা শিখেছি, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দুই বছরের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পার হয়ে বিএনপির সরকার এসেছে। বর্তমান সরকারকে অতীতের অনেক নেতিবাচক বিষয় সামাল দিতে হচ্ছে, তাই পরিবর্তনের জন্য সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু গত আট-নয় মাসে বাস্তবিক অর্থে কতটা পরিবর্তন দেখা গেছে, সেই প্রশ্নও রয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক চর্চার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেসব কাজ করতেন, এখন বিএনপি কিংবা বিরোধী দলের অনেকের মধ্যেও একই ধরনের ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে কবে? এই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের মঙ্গল কামনা করার সুযোগ থাকবে না।
টেলিভিশনের আলোচনা ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে কামরুল ইসলাম বলেন, আগে টেলিভিশনের পর্দায় যে ধরনের রাজনৈতিক চরিত্র দেখা যেত, এখন তার উল্টো অবস্থানে একই ধরনের আচরণ দেখা যাচ্ছে। সাংবাদিকদের সরকারের সমালোচনা করতে হবে। যেসব বিষয় ভালো নয়, সেগুলো সাহসের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। আর সরকারের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সেই সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যে চেয়ারে বসে কেউ সমালোচনা গ্রহণ করতে পারেন না, সেই চেয়ার তাঁর জন্য উপযুক্ত নয়। সমালোচনা মানুষকে শুদ্ধ করে এবং নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করে। সরকারের সব সিদ্ধান্ত ভালো হবে, এমন নয়। তবে সাংবাদিকেরা সাহসের সঙ্গে ভুল সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরলে এবং তাতে দেশের ও জনগণের মঙ্গল হলে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো দেশে গণআন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থান হতে পারে। কিন্তু একটি গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে জাতীয় মসজিদের খতিবের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা কিংবা জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পালিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি কেন যুক্ত হবে, সেই প্রশ্ন রয়েছে। এসব ঘটনা দুঃখজনক।
আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে কামরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতি শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পরিবর্তনের যে চেষ্টা হয়েছিল, বর্তমান বাংলাদেশ তারই একটি ফসল হতে পারে। তবে এই পরিবর্তন কতটা ধরে রাখা যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে এমন একটি দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যৎমুখী চিন্তা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং সততা প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশকে সবার জন্য বাসযোগ্য, কর্মমুখী ও সৎ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম