সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরে অটো চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনিতে নিহত ২, বাঘের কামড়ে আহত শরীফা বেগমের অবস্থা আশংকা জনক ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক অভিযানে ফেন্সিডিল ও এস্কাফসহ দুইজন গ্রেপ্তার দিনাজপুরে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার পীরগাছায় ওয়ারিশি জমি নিয়ে বিরোধ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ডিবি পুলিশের হাতকড়াসহ মাদক ব্যবসায়ী বিএনপি নেতার পলায়ন তারাগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবে দুঃসাহসিক চুরি ও ভাংচুর, থানায় অভিযোগ তারাগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু, আহত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রংপুরে খানকা শরিফের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর, মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়াল ব্রেন্ট ক্রুড
রংপুরে অটো চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনিতে নিহত ২,

রংপুরে অটো চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনিতে নিহত ২,

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনিতে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় চোরদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন তিনজন। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর পানাপুকুর পুকুরখুলির দোলার তিস্তা সেচ ক্যানেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, নোহালী ইউনিয়নের কচুয়া বাগদহারা গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে এজারুল মিয়া ওরফে কানা রেজাউল এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোলকোন্দ গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে সাদিকুল ইসলাম। তাঁদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে আহত অটোরিকশার মালিক সোহেল মিয়া, স্থানীয় রাজমিস্ত্রি নাসির উদ্দিন ও তানজিমুল ইসলামকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে গঙ্গাচড়ার বাগপুর গ্রামে অটোরিকশা, ভ্যান, গরু ও ছাগল চুরির হিড়িকের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। চুরির আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। তাঁদের অভিযোগ, বারবার চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। স্থানীয়দের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে রোববারের এ ঘটনায়।

প্রাথমিক তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর জানান, ভোরে বাগপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার আব্দুল মতিনের ছেলে সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেন অটোর মালিক সোহেলসহ স্থানীয় যুবক নাসির উদ্দিন, তানজিমুল, আব্দুস ছাত্তার ও হারুন। এ সময় চোরেরা বড় কাটিং প্লাস দিয়ে তাঁদের হাতে ও মাথায় আঘাত করে নিজেরাই অটোরিকশা চালিয়ে যেতে থাকে। পরে তানজিমুলের বাড়ির কাছে অটোরিকশাটি উল্টে গেলে সেটি রেখেই দুই চোর পুকুরখুলির দোলার আমনখেতের ভেতর দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

মসজিদের মাইকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চার গ্রামের মানুষ চারদিক থেকে তাঁদের ধাওয়া করেন। পরে তিস্তা সেচ ক্যানেলে উঠলে সেখানে উত্তেজিত জনতা তাঁদের গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ। খবর দেওয়া হয় অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ক্রাইম সিনকে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ক্রাইম সিন তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর থানায় নিয়ে যায়। দুপুরে লাশ দুটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান ও র‍্যাবের একটি দল।

সোহেলের বাড়ির ঠিক বিপরীত পাশে মসজিদ। ওই মসজিদের ইমাম মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি মসজিদের বারান্দায় দাঁত পরিষ্কার করছি, এমন সময় দেখি অটো বের করে নিয়ে যাচ্ছে। তখন অটোর মালিক দৌড়ে অটোর সামনে আসছেন। তখন আমিও দৌড় দিই এবং চিৎকার করি। পরে লোকজন বের হয়। এরপর আমরা নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষ করে সামনে এগিয়ে গিয়ে শুনি, চোররা গণপিটুনিতে মারা গেছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী বৃদ্ধ আলতাফ হোসেন বলেন, ‘নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকেছি। ফজরের সুন্নত নামাজ পড়ছি, ফরজ পড়তে কাতারে দাঁড়িয়েছি। এমন সময় সোহেল চিৎকার দিলে মসজিদ থেকে বেরিয়ে দেখি, তাকে ছেঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে! এ সময় মসজিদের মাইকে “চোর এসেছে” বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। তারপর কী হয়েছে, আমরা আর বলতে পারি না।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অটোরিকশার মালিক সোহেল মিয়া জানান, ‘তখন আমি ঘুমাইছিলাম। আমার বাড়িওয়ালি আমাকে কইতেছে, “গো, আমার অটো বাইরে নিয়ে গেছে গো, অটো বের করে নিয়ে গেছে।” আমি বারান্দার দরজা দিয়ে বের হয়ে অটোর সামনে এসে দাঁড়াইছি। আমাকে প্রচুর মারলো ওরা। পরে আমি অটোর পেছনে উঠে আটকানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ওরা আমাকে ২০ গজ পেছনের রাস্তায় দিয়ে ছেঁচড়ে নিয়ে যায়। পরে আমি ওখানে উল্টে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরলে দেখি, আমি হাসপাতালে।’

বড়বিল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্য চাঁদ মিয়া জানান, ‘সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে চিল্লাচিল্লি শুনি – চোর বের হয়েছে, চোর বের হয়েছে। অটো চুরি করে যাওয়ার সময় বড় কাটিং প্লাস দিয়ে দুজনকে মারছে। আহত দুজনের মধ্যে একজনের নাম নাসির, আরেকজন তানজিমুল। মাইকের আওয়াজ শুনে ওকরা বাড়ি, গিলার পাড়, নগরবাড়ী ও বাগপুরের লোকজন একত্র হয়। অটোটি তানজিমুলের বাড়ির কাছে মোড় ঘোরার সময় পড়ে গেলে অটো রেখে চোরেরা ধানখেত দিয়ে পালানোর সময় পুকুরখুলির পাতারে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে। সেখানে তাদের পিটিয়ে মারে জনতা।’

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘মাইকের ঘোষণা শুনে আমরা দৌড় দিছি। গিয়ে দেখি, নাসির উদ্দিন ভাইকে একটা কোপ দিছে। উনি পড়ে আছেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিছি। একটু সামনে গিয়ে দেখি, অটোটা পড়ে আছে। ওখানকার তানজিমুল, ছাত্তার, ডন বাদশা – ওরা ঠেকাইছে। ওদের একজনকে হাঁটুতে কোপাইছে। আরেকজনের অণ্ডকোষ চিপে ধরছে। মাইকে যখন ঘোষণা দিছে, তখন দক্ষিণ পানাপুকুর, উত্তর পানাপুকুর, বাগপুরবাসীসহ চারদিক থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার লোক ঘেরাও করার পর তারা আক্রমণের শিকার হয়। এরপর কে, কীভাবে মেরে ফেলেছে, বলতে পারি না।’

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী এলিজা বেগম বলেন, ‘সকালে “চোর আসছে, চোর আসছে” চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠি। শুনি, চোর অটো নিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে কুপিয়েছে। তাঁর শরীরে দুটি সেলাই পড়েছে। আরেকজনের অণ্ডকোষ চেপে ধরে আহত করেছে। অটোর মালিক সোহেলকেও পিটিয়ে আহত করেছে।’

আহত নাসিরের স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ভোরবেলা বাইরে গরু বের করে। এ সময় মাইকে চুরির ঘটনা ঘোষণা করা হচ্ছিল। গরু বেঁধেই দেখে সামনে অটো। তখন সে দুহাত প্রসারিত করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন চোরেরা তাকে কোপ মারে। আমার স্বামী এসে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আমি দৌড়ে এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তার কপালে তিনটি সেলাই পড়েছে।’

আহত তানজিমুলের মা তহুজ্জা বেগম বলেন, ‘মাইকে আওয়াজ শুনেই আমিসহ আমার ছেলে তানজিমুল বের হই। বের হওয়ার পর দেখি, আমার বাড়ির সামনে মোড় ঘুরতেই অটোটি পড়ে গেছে, রাস্তার পাশে। সেখানে দুটি সিমেন্টের বস্তা ছিল। দুইজন চোর দোলার দিকে দৌড় মারে। আমার ছেলে ছাত্তার, ডন বাদশাসহ বেশ কয়েকজন মিলে চোরদের ধাওয়া দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন দুইজন চোর আমার ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপায়। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাই।’

বাগপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রায়ই অটো-ভ্যান চুরি হচ্ছে। কিছুদিন আগে দুটি অটো চুরি হয়েছে। একটা ভ্যান বের করেছিল। এলাকাবাসী সজাগ হলে সেই ভ্যান ছেড়ে চোর পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, এক খেয়েছে মাদক, আরেক খেয়েছে চোর। যারা মাদক খায়, তারাই চোর। সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় পাঁচ-ছয়টি অটো ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের খুব উপদ্রব।’

বাগপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, ‘আমাদের এলাকায় চোরের উপদ্রবের কারণে আমাদের রাত জেগে পাহারা দিতে হয়। গরু-ছাগল, অটো, ভ্যান, রিকশা নিয়ে আমরা খুব বিপাকে আছি। আমাদের এদিকে থানা-পুলিশও খুব গুরুত্ব দেয় না। আমরা খুব আতঙ্কে থাকি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘গ্রামের মানুষ আমরা সবাই রাত ৩টা-৪টা পর্যন্ত জাগনা থাকি। গ্রামের মানুষ রাতে ঘুমাতে পারে না। অটো চুরি করে, ভ্যান চুরি করে নিয়ে যায়, গরু চুরি করে। কিছুদিন আগে একজন অটোচালকের মাথা ফাটিয়ে অটো নিয়ে গেছে। সেই বেচারা গরিব মানুষ এখন বাড়িতে বেকার বসে আছে। তিনি আরও বলেন, ইউসুফ আলী মুন্সির ছেলে মেনাজের অটো চুরি হয়েছে। সে যে কিছু করে খাবে, তার কোনো বুদ্ধি নাই। কিন্তু পুলিশ এটা দেখেও না। মানুষ খুবই ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে আজ।’

# দুই সন্তানকে নিয়ে হতাশায় সাদিকুলের স্ত্রী:

সাদিকুলের বাড়ি দক্ষিণ কোলকোন্দ বাঁধের পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, সাদিকুল ওই বাড়িতে থাকতেন না। সেখানে একটি ঘর থাকলেও সেটি এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা রতন মিয়া বলেন, ‘গত পরশুদিন সাদিকুল এসেছিল ঘর বিক্রি করার জন্য। সে গত পাঁচ-ছয় মাস যাবৎ তার শ্বশুরবাড়ি এলাকায় থাকে। গ্রামে ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত সে। এর আগে ধানও চুরি করেছিল। কিন্তু এত বড় ধরনের কোনো কিছু আগে শুনি নাই। সাদিকুল কখনো চায়ের দোকানে থাকত, কখনো ঢাকায় থাকত।’

আলেমা বেগম নামের এক প্রতিবেশী জানান, ঘরটি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য এলাকার লোকজনকে বলেছিলেন সাদিকুল। কিন্তু তাঁর মা বলেছিলেন, ঘরটি তাঁকেই দিতে। মা তাঁকে টাকা দেওয়ার কথাও ছিল। তিনি আরও জানান, সাদিকুল ইসলাম অনেক আগে থেকেই এলাকায় চাল, তরিতরকারি, আলু, তামাকসহ বিভিন্ন ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ইতিপূর্বে বাবুল এমপির বাসায়ও চুরি করেছিলেন। তবে এত বড় চোর ছিলেন, তা এলাকাবাসী জানত না। তাঁর দাবি, বাইরে গিয়ে সাদিকুল বড় চোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

সাদিকুলের শ্বশুরবাড়ি মন্থনায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অনেক মানুষের ভিড়। দুই সন্তানকে নিয়ে কাঁদছেন স্ত্রী শারমিন বেগম।
শারমিন বেগম জানান, ‘আমার স্বামী ওই বাড়িতে তো থাকে না। না, ওখানে ঘরের সমস্যা, বাড়ির ঘর ঠিক করবে, তারপরে এখান থেকে আমরা যাব। গতকাল আমাকে বলেছে, কাজ-কাম নাই, আমি ঢাকা চলে যাই। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে তুমি এখানে থাকো। আমি যে টাকা পাঠিয়ে দেব, তারপরে ঘর ঠিক করব। গতকাল (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভাত-রুটি খেয়ে ঢাকায় যাবে বলে বাইরে গেছে। পরে ফোনে বলল, আবার এসে ব্যাগ নিয়ে যাবে। কিন্তু আর আসল না। পরে শুনলাম, সে আর দুনিয়াতে নাই। আমার দুটি বাচ্চাকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? আমি এর বিচার চাই। তারা আমার স্বামীকে না মেরে পুলিশে দিতে পারত।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান বলেন, ‘চোর সন্দেহে যাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা ছিল। এর মধ্যে এজারুলের নামে থানায় ওয়ারেন্ট ছিল। তাঁদের মধ্যে একজন নোহালী ইউনিয়নের, আরেকজন কোলকোন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা। এ ব্যাপারে নিয়মিত হত্যা মামলা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে একটি অপমৃত্যুর জিডি হয়েছে। তার আলোকে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ওই এলাকায় চুরির বিষয়ে কড়া নজরদারি করা হচ্ছে।’

পুলিশের তথ্য বলছে, পুকুরখুলির দোলার মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা সেচ ক্যানেলের পাশেই গণপিটুনিতে নিহত সাদিকুল ও এজারুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঠিক নয় মাস আগে এই ঘটনাস্থলের ১০০ গজ পশ্চিমে একজন অটোচালককে গলা কেটে হত্যা করে তাঁর অটো ছিনিয়ে নিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। পুলিশ বলছে, গত তিন মাসে এই এলাকায় অন্তত ১২টিরও বেশি অটো ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com