হাবিবুর রহমান হাবিব| পীরগাছা প্রতিনিধি, রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুরের পীরগাছায় শাশুড়িকে সম্মান দিয়ে কথা বলার জন্য বাবার বকুনি ও চড় খেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ হাসানুর রহমানের (২২) বিরুদ্ধে। ঘটনার দুই দিন পর রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে পীরগাছা থানায় এসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি।
নিহত মাহাবুর রহমান মহুবার (৫৫) উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া এলাকার মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবা মাহাবুর রহমানের সঙ্গে ছেলে হাসানুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। এর আগে সকালে হাসানুরের শাশুড়িসহ কয়েকজন তাদের বাড়িতে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসানুর তাঁর শাশুড়িকে বসতে বা খাবার দিতে বলেননি। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে বিরোধ তৈরি হলে বাবা মাহাবুর রহমান ছেলেকে শাশুড়িকে সম্মান দিয়ে ভাত খেতে বলার জন্য নির্দেশ দেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বাবার কথা না শোনায় একপর্যায়ে মাহাবুর রহমান ছেলে হাসানুরকে চড় দেন। শাশুড়ির সামনে বাবার হাতে চড় খেয়ে ক্ষুব্ধ হন হাসানুর। পরে পাশে থাকা একটি ছুরি নিয়ে বাবার পেটে ছুরিকাঘাত করেন তিনি।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত মাহাবুর রহমানের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পর হাসানুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান। পরে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজেই পীরগাছা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
পীরগাছা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাবাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে আত্মগোপনে ছিলেন। রোববার রাতে তিনি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পরদিন শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাম্বুলপুর বাজারে মাহাবুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলের ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। মানববন্ধনে স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি আরও জানতে পেরেছেন, এর আগেও হাসানুর তাঁর বাবার গায়ে হাত তুলেছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম