স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |রংপুর| বাতায়ন২৪ডটকম
রংপুর মহানগরীতে প্রধান ফটকে তালাবদ্ধ নিজ বাড়ি থেকে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনাটির ক্লু উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। এক ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনারের দাবি মাদক সেবনের সময় দেখে ফেলায় পরপর তাদের হত্যা করে দুই মাদকসেবি। পরে স্বর্নালংকার লুট করে নিয়ে যায়। হত্যাকান্ডের পর বাড়িতেও ইয়াবা সেবন ও গোসলও করে খূনিরা। এদিকে কারমাইকেল কলেজ এবং জিলা স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে দোষিদের বিচার নিশ্চিতের দাবি করেছেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১২ টায় রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চাঞ্ছল্যকর এই হত্যাকান্ড নিয়ে ব্রিফিং করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, ‘ঘটনার সাথে সাথেই আমাদের পুলিশের সকল সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, মিডিয়া কর্মী, সমাজকর্মী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকান্ডের তথ্যটা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। গণপতি চক্রবর্তী স্যার ছিলেন একটা সম্মানিত লোক। উনারা উনার ফ্যামিলি ছিল। কারও সাথে কোনো কলহ-বিবাদ কিছু ছিল না। আমরা ওই এলাকার সিদ্ধার্থ এবং মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতারের মাধ্যমেই স্পস্ট হয় ঘটনার মোটিভ।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ কমিশনার ঘটনার বর্ননা দেন ব্রিফিংয়ে। দাবি করেন, গনপতি স্যারের পাশের দেবু চক্রবর্তির বাসার পার্শ্ববর্তী বাসার উপর দিয়ে দুজন খুনী তাদের নাম মুগ্ধ দাস, আরেকজনের নাম সিদ্ধার্থ গনপতি স্যারের ছাদে যায়। এটা বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে। ওই ছাদে বসে তারা আড্ডা মারে ও ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবা সেবন করারকালীন গণপতি স্যার শব্দ শুনে উপরে যান। তিনি সেময় খালি গায়ে ছিলেন, কাঁধে একটা গমছা ছিল। তিনি ওদেরকে ছাদ এ বসে আড্ডা দেয়া ও মাদক সেবনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা ভয় পান। আসামিরা তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্যারের গলায় যে গামছাটা ছিল, সেই গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে উনাকে সেখানে হত্যা করেন।

কমিশনার আরও দাবি করেন, ‘ গণপতি চক্রবর্তী স্যারকে খুন করা হচ্ছে, তখন উনি বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং কিছু শব্দ হয়। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী স্যারের স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে বোলা নিচের বাসা থেকে উপরে আসার চেষ্টা করেন। উপরে আসার সময় খুনিদ্বয় তাকে সিঁড়ির ছাদের উপরে থাকা গামছা পেঁচিয়ে সিঁড়ির মধ্যে হত্যা করেন।”
পুত্র ও কন্যাকে হত্যার বর্ননা দিয়ে আবেগাল্পুত হয়ে পড়েন পুলিশ কমিশনার। বলেন, প্রিতিলতা চক্রবর্তির চিৎকার-চেঁচামেচিতে উনার মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী সে যখন এগিয়ে আসে। এসময় তারা প্রার্থী চক্রবর্তীকে খুন করে গামছা পেঁচিয়ে। খুনিদের বক্তব্যে আমি যেটা শুনলাম, প্রার্থী চক্রবর্তী মারা যাচ্ছিল না। ৪/৫ মিনিট লাগে তার প্রাণ যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সময়ে তারা রশি দিয়ে তার গলায় এবং মুখে পেঁচিয়ে ধরে। একটা প্যাঁচ গলার ওপর দিয়ে যায়, একটা প্যাঁচ মুখের ওপর দিয়ে যায়। তারা এত জোরে এই রশিটা টান দেয়, তার মুখের চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখটা ঠিকরে বের হয়ে যায়।’

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘প্রার্থী চকবর্তিকে মারার পরে খুনিদ্বয় নিচে যায়। নিচে গিয়ে ছোট ছেলে প্রিয়মকে হত্যা করে। এসময় বর্ননা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন পুলিশ কমিশনার। বলেন, প্রিয়ম নামের ছোট ছেলেটাকে মারার কারণ হলো সিদ্ধার্থের একটা ছোট ভাই আছে অপূর্ব। অপূর্ব এই খুন হওয়া নিষ্পাপ শিশু প্রিয়ের সাথে খেলাধুলা করে এবং প্রিয়ম এই খুনিদেরকে চেনে। প্রিয়ম এবং অপূর্ব ছোট ছোট শিশু, তারা বন্ধুবান্ধব একসাথে খেলাধুলা করে। তখন সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত নেয় যে প্রিয়মকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবে। না দিলে সে বলে দিতে পারে। পরে সিদ্ধার্থ এবং মুগ্ধ দুজনে একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিষ্পাপ শিশুর ওপর। কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে, তার চোখ ঠিকরে বের হয়ে যায়। এরপরে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ‘
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘শুধু খুন করেই তারা চলে ক্ষ্যান্ত হননি। পরে তারা ওই বাসায় প্রিয়মের বাথরুমে গোসল করে। প্রথমে সিদ্ধার্থ গোসল করে। সিদ্ধার্থ বের হওয়ার পরে মুগ্ধ গোসল করে। গোসল করার পরে তাদের ডাইনিং টেবিলে বসে তারা খেজুর খায়। সেখানে একটা বয়েমে খেজুর ছিল। খেজুর খাওয়ার পরে তাদের কাছে একটা পিস ইয়াবা ছিল। তারা ডাইনিং টেবিলে বসে সেবন করে। ইয়াবার আলামত আমরা পেয়েছি। ইয়াবা সেবনের পরে সকাল হয়ে যায়। জুমার দিন ছিল। তারা অপেক্ষা করতে থাকে বাইরে লোকজন যেন কমে যায়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘ যখন জুমার নামাজের সময় হয়, তখন মুসল্লিরা নামাজে ব্যস্ত ছিল, রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল, দুজন বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এসময় তারা লুট করে নিয়ে যায় বিপুল পরিমান স্বর্নালংকার। সিদ্ধার্থ একটা স্বর্ণের দোকানের কারিগর। পি কে পাল জুয়েলার্সে ৮ বছর যাবত স্বর্ণের কাজ করে। কাজেই সে কোনটা স্বর্ণ, কোনটা ইমিটেশন সে চেনে। সেকারণে একটা স্বর্নের চুরি সে আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে। আমরা যখন কালকে আলামতটা পেলাম যে একটা স্বর্ণের চুরি কিনা পরীক্ষা করার জন্য আগুন দিয়ে টেস্ট করা হয়েছিল, তখন আমরা অনুমান করেছিলাম স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ হয়তো কেউ থাকতে পারে। আমাদের সে অনুমানটা সঠিক হয়, সিদ্ধার্থ স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ।’

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘ তারপরে খূনিদয় এই ঘটনাকে ডাকাতি বলে যেন পুলিশ মনে করে, সেজন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জিনিসপত্র এলোমেলো করে। অর্থাৎ তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করে। দুপুরের দিকে তারা বের হয়ে যাওয়ার আগে সে বাসায় দুইটা ফোন ছিল, ফোনগুলো তারা ডিটারজেন্ট দিয়ে বালতিতে ভিজিয়ে রাখে। ফোনে যেন কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট না না থাকে, সেই উদ্দেশ্যে তারা এটা পানিতে ভিজিয়ে রাখে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রে, অর্থাৎ শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হয়ে এই ঘটনাটা তারা সারাদিন ঘটায় ‘
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘ আমরা কিছু স্বর্ণালঙ্কার ওদের দেখানো মতে উদ্ধার করেছি, যেগুলা তারা নিয়ে যায়। সেগুলো ওরা মন্দিরের পিছনে একটা পরিত্যক্ত পরিত্যক্ত জায়গায় সেখানে রেখে দেয়। তাদের দেখানো মতে আজকে ওই জায়গা থেকে আলামতগুলা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘ মুগ্ধর মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ, অর্থাৎ তারা দুজনই আত্মীয়। এই ঘটনা ঘটানোর আগে তারা একটা বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করে, সেটা হলো সীমান্তের বাসায়। সীমান্ত খুনের সাথে ছিল না, কিন্তু সীমান্তের বাসায় তারা বসে ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবা সেবন করার পরে তারা এই বাসার ছাদে এসে সেবন করে। মুগ্ধ সিটি বাজারের রামনাথের মাছের দোকানে। মুগ্ধর বাসার সামনে খুশি, ওরফে প্রশান্ত নামে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে, যে ইয়াবা ব্যবসা করে এবং তার থেকে ইয়াবা কিনে নেয়। প্রতি পিস ৩৫০ টাকা ধরে তারা ইয়াবা কিনে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘ এরপরও আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগুনো হচ্ছে। নতুন কোন কিছু থাকলে তা ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।
এদিকে এ ঘটনার বিচার দাবি করে রোববার দুপুরে মানববন্ধন করেছে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে। একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে নগরীর মাছয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তি, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তি, কন্যা কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজি বিভাগের সদ্য মাস্টার্স পাশ করা প্রার্থী চক্রবর্তি ও পুত্র জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তি। অবসরে যাওয়ার পর নগরীর সমবায় মার্কেটের চেম্বার দিয়ে হোমিও চিকিৎসার প্রাকটিস করতেন গণপতি।
শনিবা (২২ আগস্ট) রাত ১১ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মাছুয়া পাড়ার মন্দিরের পাশে রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর তালাবদ্ধ দোতলা বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) লাশ দোতলার ছাদ, সিঁড়ির চিলেকোঠার নিচ থেকে স্ত্রী প্রীতিলতা বোলা চক্রবর্তী(৫৫) , মেয়ে কারমাইকেল কলেজ থেকে সদ্য মাস্টার্স পাস করা প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ঘরের খাটের নিচ থেকে পুত্র রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায়।

নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তি জানান, সব শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বড় বোন প্রিতিলতা চক্রবর্তির সাথে ফোনে কথা হয়েছিল তার। কিন্তু শনিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ৯ টায় দিকে দিদিকে ফোন দিলে বন্ধ পাই। পরপর জামাই বাবু, ভাগনি ও ভাগনেকে ফোন দেই।কিন্তু সবার ফোন বন্ধ থাকায় স্বামীকে নিয়ে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মাছুয়াপাড়ার দিদির বাড়িতে যাই।
পুজা চক্রবর্তি জানান, সেখানে গিয়ে দেখি প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করি। তারা কিছুই বলতে পারে না। পরে পাশের তিনতলা দেবুদার বাসায় নক করি। তারা গেটথেুলে দিলে ভেতর দিয়ে দিদির বাড়িতে ঢূকে দেভি সব এলোমেলো। আলমিরাসহ সব আসবাবপত্র খোলা। মেঝেতে ছড়ানো ছিটানো সব কিছু। সাথে সাথে আমার স্বামী বিপুল আচার্য্যকে থানায় পাঠাই।
নিহত গনিপতি চক্রবর্তির ভায়রা বিপুল আচার্য্য জানান, প্রথমে আমি ট্রিপল নাইনে ফোন করি। তারা আমাকে পরামর্শ দেন কোতয়ালী থানায় যাওয়ার। পরে কোতয়ালী থানায় গেলে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙখলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা আসেন। তারা কর্ডন করে ফেলেন পুরো বাড়ি। এরপর বাসায় ছাদে ওঠার সিড়ির চিলে কোঠার নীচে মা প্রিতিলতা আর মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তি, ছাদে উঠার দরজার বা পাশে গণপতি চক্রবর্তি এবং দোতলার খাটের নীচে প্রিয়মের লাশ সনাক্ত করেন। এসময় মশারি টানানো ছিল গণপতির বিছানায়। হয়তো শোয়ার প্রস্তুতি ছিল তার। পাশের টেবিলে ছিল প্রিয়মের স্কুলের আইডিকার্ড।
পুলিশের ধারণা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার পর ঘটে এই নির্মম ডাকাতি ও হত্যাকান্ড।
রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর সিআইডির এসপি(ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী জানান, “আমি এখানে দেখলাম. ছাদের উপরে একজন পুরুষ মানুষের ডেডবডি পেয়েছি, মানে ডিকম্পোজ হয়ে গেছে, তিন-চার দিন আগের লাশ হবে সম্ভবত। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলা যাবে কতদিন আগের। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ডিকম্পোজিশন দেখে মনে হয় তিন-চার দিন আগের।

সেখানে যাওয়ার আগে চিলেকোঠায়, সেখানে মা এবং মেয়ের দেহও পড়ে আছে, সেটাও ডিকম্পোজ। এবং শোবার ঘরে, একটা শোবার ঘরে দেখলাম ওনার ছেলের লাশটা একদম… দেয়াল এবং খাটের সাথে লাগানো অবস্থায় একদম ভেতরে ফেলে রাখা। আপাতদৃষ্টিতে আমি যেটা পেলাম এখানে… তাদের বৈদ্যুতিক সংযোগটা বিচ্ছিন্ন। এবং পারিপার্শ্বিকতা, ভেতরের যে অবস্থা, তাতে আমার মনে হয় যে প্রাথমিকভাবে আমি মনে করছি এটা ডাকাতির ঘটনা। তবে তদন্ত না করে শেষ কথা বলা যাচ্ছে না। তাদের সমস্ত… আসবাবপত্র যেগুলোতে আমরা সাধারণত টাকা-পয়সা বা গহনা-পত্র রাখি, সমস্ত কিছু ড্রয়ার ভাঙা ছিল। তাতে করে আমার মনে হচ্ছে এটা ডাকাতির ঘটনা হতে পারে। আমরা এখন পর্যন্ত যে তথ্য পেয়েছি তাতে এটা শুক্রবার ভোরের দিকে. অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, শুক্রবার ভোরের দিকে কোনো এক সময় এই ঘটনাটা ঘটেছে।”
রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তি জানান, “আমরা এই চারটা যে মৃতদেহ উদ্ধার করেছি, প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে এটা খুন। এদের সবাইকেই হচ্ছে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করা হয়েছে। এবং… এই খুনের পিছনে মোটিভ, ইনটেনশন এখনও ক্লিয়ার না। তবে বাড়িটা যেভাবে তছনছ করা হয়েছে, তা সেখানে.. সেখান থেকে টাকা-পয়সা বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। আমরা অনেকগুলো বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করে এগোচ্ছি। এবং আমরা আশা করছি যে খুব দ্রুতই এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত আছে, এটা বের করে ফেলতে পারব।
সনাতন চক্রবর্তি জানান, ‘ প্রত্যেকটি মৃত দেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে, এটা আসলে সুরতহাল রিপোর্ট পুরোপুরি আসলে তখন বোঝা যাবে। তবে আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা দেখেছি যে সবাইকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। সবার মুখের মধ্যে গামছা বা নাইলনের দড়ি পেঁচানো ছিল।’
মহানগর কোতয়ালী থানার ওসি নাজমুল কাদির জানান, এ ঘটনায় গনপতি চক্রবতির বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তি বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের নামে মামলা করেন।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম