স্টাফ করেসপনডেন্ট, রংপুর।। বাতায়ন২৪ডটকম।।
‘ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ভোট দিবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেন নাই। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পযন্ত আন্দোলন থেকে এক চুল পরিমানও না সরার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান।
শনিবার ( ১১ জুলাই) বিকেলে বৃষ্টিস্নাত রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। গণভোটের রায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সিমান্তে পুশ ইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে ১১ দল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমীর বলেন, ‘ যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য এই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ভোট দিবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেন নাই। আজকে আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে এই গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে।কিন্তু
পরিষ্কার কথা, আমরা জাতির সাথে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি। লড়াই আমরা করে যাব। গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব ইনশাআল্লাহ। এক থেকে এক চুল পরিমাণও আমরা সরবো না। এই আবু সাইদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যস্ত করে– ব্যক্ত করে গেলাম।‘
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে কোন ধানাই পানাই চলবে না উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, ‘ তিস্তা অঞ্চলের মানুষের দুঃখ। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তিস্তার বালুচরে কুদাল মেরে প্রথমেই বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রা শুরু করব। দুঃখের বিষয় তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকার দল অনেক ভালো ভালো কথা বলছে। আর নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে দশ টাকারও কোন বরাদ্দ রাখে নাই। আমরা আর কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, দেখতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই [ এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে ইনশাল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা, সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে এগারো দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাল্লাহ [ অতএব, সাফ কথা তিস্তার ব্যাপারে কোন ধানাই পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে ‘
সীমান্তে পুশ ইন নিয়ে কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত আমীর বলেন, ‘ বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুরসুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সাথে সমান তালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদেরকে অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। তার বয়ে কাকে খুশি করার জন্য কোন দেশের শাসক আপনারা?
সরকারকে উদ্দেশ্যে করে জামায়াত আমীর বলেন, ‘ বাংলাদেশের জনগণের মাটির পালস বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কি হয় সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। যেই দেশে ছাদাবাস তো দূরের কথা তাদের ছায়াও সহ্য করা হবে না। দুর্নীতি করার প্রয়োজন কারো হবে না। সম্মানজনকভাবে সবাই বাঁচতে পারবে। এরপরে নিজের বসবার থেকে কেউ দুর্নীতি করলে তাকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। প্রধানমন্ত্রী হলেও না, তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে। [বাঁচাতোর শব্দ] সম্মানিত ভাইয়েরা, এ দেশ আমাদের আল্লাহর রক্ষাকর্তা। আমরা যতদিন বেঁচে থাকব, দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটা বালুর উপরেও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না।’
এনসিপি আাহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথিরা বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরুর পরই শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। মঞ্চ থেকে আহবান করা হয় মাঠে থেকে যাওয়ার। বৃষ্টি ভিজেই ৩ ঘন্টা মাঠে থাকেন নেতাকর্মীরা।রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন। বৃষ্টির কারণে সমাবেশে বিঘ্ন হলেও মাঠ ছাড়েননি নেতাকর্মীরা।
বাতায়ন২৪ডটকম।। সমামা