জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ডাকা সালিশি বৈঠক ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন স্থানীয় এক জাতীয় পার্টি (জাপা) নেতা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনায় দুই নারীসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | গাইবান্ধা (সুন্দরগঞ্জ) | বাতায়ন২৪ডটকম | ০৬ জুলাই ২০২৬
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (৬ জুলাই) সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত মো. আব্দুর রাজ্জাক মিয়া (৪৫) ওই গ্রামের মৃত খাইরুজ্জামানের ছেলে এবং স্থানীয় জাতীয় পার্টির ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে একই পরিবারের গোলজার হোসেন (৬৫), তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম (৪৫), ছেলে লিটন মিয়া (২৮) ও রিপন মিয়া (১৯) এবং মেয়ে রত্না আক্তার (৩০)-কে আটক করা হয়েছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের মৃত আছর উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের ঘরের ছেলে গোলজার হোসেনের সঙ্গে আছর উদ্দিনের আপন ছেলে আমজাদ হোসেনের ২২ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম লেবুর সভাপতিত্বে রোববার বিকেলে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালিশি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই আব্দুর রাজ্জাক মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গোলজার হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা রোসনা বেগম অভিযোগ করেন, “চেয়ারম্যান এবং বিএনপির নেতা বাবুল আহমেদের সামনেই আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তারা কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, “সালিশি কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আমরা সেখান থেকে সরে আসি।”
এদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে সেখানে আর যাননি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, “ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাতায়ন২৪/মাহমুদুল