স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||
প্রধানমন্ত্রীর ডাকা গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের দফাদার জামশেদ আলী (৪৮)। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের প্রবেশপথে এ ঘটনা ঘটে। সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগমুহূর্তে অসুস্থ হয়ে পড়ে গেলে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জামশেদ আলীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা।
শনিবার সকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। এ সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জামশেদ। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত বিমান বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জামশেদ আলী লোহানীপাড়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের দফাদার ছিলেন। মহাসমাবেশে যোগ দিতে বদরগঞ্জ থেকে মোট ৮৪ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য ঢাকায় গিয়েছিলেন।
এদিকে মহাসমাবেশে গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সেই ঘোষণা শোনার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন জামশেদ।
জামশেদের স্ত্রী নুর নাহার বেগম বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তাঁর স্বামী। তাঁর মৃত্যুতে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বড় আশা নিয়ে আমার স্বামী মহাসমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। আশা ছিল, বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা আসবে। প্রধানমন্ত্রী সেই ঘোষণা দিয়েছেন, কিন্তু আমার স্বামী তা শুনতে পারলেন না। সেই সুবিধা ভোগ করে যাওয়ারও সুযোগ হলো না তাঁর।’
স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি প্রশাসনের কাছে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম/