স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||
রংপুরের কাউনিয়ায় ফখরুল ইসলাম রতন হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি ও বালাপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হায়দার আলীকে নির্দোষ দাবি করে তাঁকে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। ঘটনার সময় হায়দার আলী তাঁদের সঙ্গে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করছিলেন দাবি করে তাঁরা মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠের পাড় বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হায়দার আলীর চাচা মো. জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, হায়দার আলী বালাপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং বালাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ৬৪ নম্বর নির্বাহী সদস্য।
লিখিত বক্তব্যে জসিম উদ্দিন বলেন, ফখরুল ইসলাম রতন হত্যা মামলার এজাহারে ইউপি সদস্য হায়দার আলীকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অথচ ঘটনার সময় তিনি তাঁদের সঙ্গে মসজিদে জামাতে আসরের নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে তাঁরা দেখতে পান, হত্যাকাণ্ডের শিকার রতনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় মসজিদে উপস্থিত অন্য মুসল্লি ও আশপাশের দোকানদারদের বক্তব্য নেওয়া হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সহায়তা হতে পারে। এ কারণে কোনো অনুমান বা পক্ষপাতের ভিত্তিতে নয়, বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, বিগত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিহত রতনের ভাই নয়ন পরাজিত হওয়ার পর থেকেই ইউপি সদস্য হায়দার আলীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে তাঁরা মনে করেন। ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় বর্তমান হত্যা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার বাধাগ্রস্ত করতে চান না। বরং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।
এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাউনিয়া উপজেলা শাখার সহসভাপতি মো. আব্দুল মজিদ (৬২), প্রতিবেশী মো. মফিজ উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী। আয়োজকদের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে এলাকার প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামের মাঠেরপাড় এলাকায় ফখরুল ইসলাম রতনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
রতন স্থানীয় সেভেন স্টার গ্যাংয়ের নেতা নয়নের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিহত ফখরুল ইসলাম রতনের ছোট ভাই ফারুক হোসেন সবুজ বলেন, আমার ভাইকে হত্যার মিশনে যারা অংশ নিয়েছিল আমরা তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা দিয়েছি। এখন আসামী পক্ষ যদি নির্দোষ দাবী করে, সেটা প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।
তিনি আরও বলেন খুনিরা বিভিন্ন যায়গায় ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন তাদের গ্রেফতার করছে না।
এবিষয়ে কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাদল কুমার মণ্ডল বলেন, মামলা তদন্ত চলছে, কেউ নির্দোষ হলে সেটা উল্লেখ করে চার্জশিট দেয়া হবে। আসামীদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যহত আছে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম