স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পূজা না হওয়া মন্দির এবং অন্য উপজেলার একটি মন্দিরের নামে সরকারি জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের তিনটি পূজামণ্ডপের নামে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৮০০ কেজি চাল। এর মধ্যে দুটি মন্দিরের সভাপতির দাবি, সেখানে এবার পূজা অনুষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে, তালিকায় থাকা আরেকটি মন্দিরের অবস্থান গঙ্গাচড়ায় নয়, রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পূজা উদযাপন কমিটিকে তলব করা হয়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, উপজেলার ২১টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে মোট ১২ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় বেতগাড়ী ইউনিয়নের পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দির, পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী মন্দির ও দোন্দোরা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের নাম রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরের নামে ৬০০ কেজি করে মোট ১ হাজার ৮০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তালিকায় থাকা দোন্দোরা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরটি গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ী ইউনিয়নে নয়, রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। অন্যদিকে, বেতগাড়ী ইউনিয়নের পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দির ও পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী মন্দিরের সভাপতিরা জানিয়েছেন, তাঁদের মন্দিরে এবার পূজা অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপরও সরকারি চালের বরাদ্দ তালিকায় মন্দির দুটির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি স্বাধীন চন্দ্র রায় বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আমি কোনো স্বাক্ষর করিনি। পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন চন্দ্র এসব কাজ করেছেন। পরে জানতে পেরেছি।”
পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী মন্দিরের সভাপতি পরিমল চন্দ্র রায় বলেন, “২০২৫ সাল থেকে এখানে কোনো পূজা উদযাপন করা হয়নি। এবারও হবেনা কে বা কারা এসব কাজ করেছেন, আমরা তাঁদের শাস্তি চাই।”
মন্দিরের সভাপতিদের বক্তব্য এবং বরাদ্দ তালিকার তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকায় বরাদ্দ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মন্দিরগুলোর অবস্থান, পূজা আয়োজন এবং চাল পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অন্য উপজেলার একটি মন্দিরের নাম গঙ্গাচড়ার তালিকায় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) মোঃ মাইদুল ইসলাম বলেন, “এটা কোনো বিষয় না, এগুলো অটোমেটিক ঠিক হবে।” তবে কীভাবে বিষয়টি সমাধান করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
অন্যদিকে, পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায় বলেন, “এটা ভুল হয়েছে, আমরা ফেরত দেব।” তবে বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে কতটুকু চাল ফেরত দেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমরা পর্যবেক্ষণ করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে পূজা উদযাপন কমিটিকে তলব করা হয়েছে। বরাদ্দ ও চাল উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি খাদ্যসহায়তা বরাদ্দ ও বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও তদারকির দায়িত্ব রয়েছে। এ ঘটনায় বরাদ্দের তালিকা, ডিমান্ড অর্ডার (ডিও), চাল উত্তোলন ও বিতরণের নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম