তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। হামলাকারীরা আমাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গাড়িচালক থেকে শুরু করে আমাদের মিডিয়া টিমের সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই ন্যাক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে যারা অস্ত্র, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক হামলাকারী, তাদের মদদদাতা এবং দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে থানার মোড় এলাকায় তাদের বহরের ওপর হামলা হয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম একটি ব্যাংকে অবস্থান নেন।
পরবর্তীতে রাত পৌনে ৮টার দিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করেননি। হামলাকারীরা তাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয় এবং চালক, মিডিয়া টিমের সদস্য ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে সারজিস আলমসহ একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। কয়েকজনের হাত-পা ভেঙে গেছে এবং অনেকে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, তাদের সহযোগী এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিষয়টি নিয়ে এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে থানার মোড় এলাকায় তাদের বহরের ওপর হামলা হয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম একটি ব্যাংকে অবস্থান নেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, হবিগঞ্জ একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। এই এলাকায় বাইরে থেকে এসে কিছু লোক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। এর জবাবে উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া দেয় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন।
রিংগন আরও বলেন, উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণেই জনতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শান্তিপূর্ণ শহরের পরিবেশ নষ্টের দায় যারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তারাই বহন করবে। এনসিপির নেতাকর্মীরা মিডিয়ায় নিজেদের হাইলাইট করার জন্য অতিরঞ্জিতভাবে তাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।