দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কৃষিতেও সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্য বাদশা ওরফে রাসেল। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ৩ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফলের বাগান ও নার্সারি ‘এবি এগ্রো’। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন তিনি।
বাতয়ন২৪ডটকম ।। পঞ্চগড় প্রতিনিধি ।। ২০ জুন ২০২৬
প্রায় ছয় বছর আগে শখের বশে বাগান গড়ার উদ্যোগ নেন বিজিবি সদস্য রাসেল। সরকারি চাকরির পাশাপাশি ছুটি ও অবসর সময়ে বাগানের পরিচর্যা ও তদারকি করেন তিনি। অন্যান্য সময়ে শ্রমিকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় বাগানের কার্যক্রম। বাগানের সার্বিক দেখাশোনা করেন তার স্ত্রী জান্নাতুল আক্তার পাপড়ি।
বর্তমানে বাগানে মোট ৩০০টি লটকন গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ১২০টি গাছে ফল এসেছে। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা লটকন। উদ্যোক্তার আশা, এবার প্রায় ১৫০ মণ লটকন উৎপাদন হবে। প্রতি গাছে গড়ে প্রায় ৪০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করছেন।
সম্প্রতি দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের চতুরাডাঙ্গী আদাবাড়ি গ্রামে রাসেলের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধ সুপারি গাছের ফাঁকে ফাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা লটকন গাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। সবুজ পাতার আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে হলুদাভ রঙের পাকা লটকন। কোনো কোনো থোকায় শতাধিক ফল ঝুলতে দেখা যায়। বাগানের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে মনোমুগ্ধকর এক প্রাকৃতিক দৃশ্য। গাছে গাছে ঝুলে থাকা লটকনের সমারোহ দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়দের ভিড় বাড়ছে। ইতোমধ্যে ফল সংগ্রহ ও বাজারজাতের প্রস্তুতি শুরু করেছেন উদ্যোক্তা।
লটকনের পাশাপাশি বাগানে রয়েছে ১ হাজার ৭০০টি সুপারি, ২০০টি ব্যানানা ম্যাংগো, ৩০০টি পেয়ারা, ৭০টি মাল্টা, ১০০টি দার্জিলিং জাতের কমলা, ৭০টি পেঁপে, ২০ জাতের আঙুরসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ৫০ জাতের ফলের গাছ। এছাড়া উন্নতমানের ফলের চারা উৎপাদন এবং অর্গানিক ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রস্তুত ও বিপণন করা হয় এখান থেকে।
বিজিবি সদস্য রাসেল জানান, বাগান করতে শুরুতে প্রায় ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে বাগানটিতে প্রায় ১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। গত বছর সুপারি ও লটকন বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বাইরেও সরবরাহ করা হয়।
বিজিবি সদস্য রাসেল বলেন, শখের বশে প্রায় ছয় বছর আগে বাগান শুরু করি। সরকারি চাকরির পাশাপাশি ছুটি ও অবসর সময়ে বাগানের পরিচর্যা করেছি। শুরুতে ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে কাজ করলেও কয়েক বছর পর ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষে আরও মনোযোগী হই। বর্তমানে আমার বাগানের ১২০টি লটকন গাছে ফল এসেছে। প্রতি গাছে ২০ কেজি থেকে প্রায় এক মণ পর্যন্ত ফল রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে পারলে এ বছর লটকন বিক্রি করে ভালো আয় হবে বলে আশা করছি।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পঞ্চগড় জেলায় বর্তমানে প্রায় ৬৬০ হেক্টর জমিতে সুপারি এবং ৪৫ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ রয়েছে। জেলার মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য বেশ উপযোগী।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাঈম মোর্শেদ বলেন, চাকরির পাশাপাশি বিজিবি সদস্য বাদশার বাণিজ্যিক লটকন চাষ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দেবীগঞ্জের অনুকূল মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে সঠিক পরিচর্যার সমন্বয়ে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি এলাকায় বাণিজ্যিক ফল চাষের সম্ভাবনাকেও আরও শক্তিশালী করছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সার্বিক কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে তার পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, চাকরির পাশাপাশি রাসেলের এমন কৃষি উদ্যোগ এলাকার তরুণদের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রাণিত করছে। তার সাফল্য প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষিতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব।
বাতায়ন২৪ডটকম ।। খাইরুল