স্টাফ করেসপনডেন্ট, বাতায়ন২৪ডটকম, রংপুর।।
মঙ্গলবার ( ৭ এপ্রিল) দুপুরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি। এসময় সোহাগ অভিযোগ করেন, আমি বরাবরই অপেক্ষা করে এসেছি। যে এই মামলায় স্বাক্ষ্য গ্রহনের জন্য কবে আমাকে ডাকা হবে। তিনচারদিন আগে শহীদ আবু সাঈদ ভাইয়ের পরিবারসহ আমাদের একজন স্বাক্ষী আরমান ভাই তারা ট্রাইবুনালে যান। মামলাটির রায়ের বিষয়ে কতদুর প্রস্তুতি সেটা জানার জন্য। তারা সেখানে গিয়ে যাদের স্বাক্ষ্য নেয়া হয়নি, তাদের বিষয়ে বিশেষ করে আমার স্বাক্ষ্য গ্রহনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন যে আমার স্বাক্ষ্য গ্রহন ছাড়াই স্বাক্ষ্য গ্রহণের প্যাটার্ন তারা সাজিয়েছেন। গত ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করেছি। যে তারা কি আপেডেট নিয়ে আসবে। তারা আপডেট নিয়ে আসার পর আমার বিষয়ে কোন আপডেট দিতে পারে নি। আমার স্বাক্ষ্য গ্রঞন করা হবে কিনা।
শাহরিয়ারের অভিযোগ, আমার প্রশ্ন হলো যে আমি আন্দোলনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবু সাঈদ ভাইয়ের সাথে ছিলাম। পরবর্তীতে মামলার শুরু থেকে তদন্ত প্রক্রিয়ার সাথেও ছিলাম। আমার স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা না হলে কিভাবে তদন্ত প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ হলো। এটা কতটা গ্রহনযোগ্য হলো সেটা একটা প্রশ্ন।
শাহরিয়ারের দাবি, ‘ আমি আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কখন লিখিত বা মৌখিকভাবে কোথাও স্বাক্ষী প্রদান করিনি। কিন্তু তা সত্বেও সেই স্বাক্ষীদের রেকর্ড বইয়ে আমার নামে একটি স্বাক্ষ্য উল্লেখিত আছে বলে আমি জানতে পেরেছি। সেই স্বাক্ষ্যটি আমার প্রকৃত স্বাক্ষ্য নয়। সেই বিষয়টি জানাতেই রায়গ্রহনের পূর্বে আমার ব্যাক্তিগত অবস্থান স্পস্ট করতে আমি সংবাদ সম্মেলন করছি।
সংবাদ সম্মেলনে শাহরিয়ার নিজে কি স্বাক্ষী দিতে চান সেটাও লিখিতভাবে পড়েন। শাহরিয়ারে অভিযোগ, আমি রায় পেছানোর আহবান জানাচ্ছি না। কারণ এটা হলো দেশে বিদেশের বহুল আকাংখিত রায়। ২ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে আমি রায় এখনও পাই নি।
শাহরিয়ার বলেন, সাবেক চীপ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের নামে কিছু অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগগুলো এখন পর্যন্ত খতিয়ে না দেখেই নতুন যে চীফ প্রসিকিউর, তিনি দায়িত্ব গ্রহন করার পরে আমার যে দাবি সেটা হলো আগের যে তদন্ত প্রক্রিয়া সেটা একবার হলেও রিভিউ ভোটের মাধ্যমে রায়ের দিতে গেলে রায়টি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কোন সুযোগ থাকতো না। আমি আশংকা করছি যে এই রিভিউটি না হলে এটা নানান পক্ষ দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। রায় পেছানোর বিষয়ে আমি কিছুই বলতে চাচ্ছি না। আমি প্রক্রিয়া নিয়ে আশংকা প্রকাশ করছি।
শাহরিয়ার সোহাগ আবু সাঈদ হত্যা মামলার ২ নং স্বাক্ষী এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার বিভাগের শিক্ষার্থী ২০২৪ সালে বৈষম্যা বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেটের সামনে গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এরপার আন্দোলন দানা বেঁধে উঠে। পরে ৫ আগস্ট পালিয়ে ভারতে যান সেই সময়কার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে এই ঘটনায় ট্রাইবুনাল-২ এ মামলা করেন আবু সাঈদের বড় ভাই। এই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ জন পলাতক।
অন্য ছয় আসামি বর্তমানে কারাগারে। তাঁরা হলেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
গত ৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের ৯ এপ্রিল মামলাটির রায়ের দিন ধার্য করেন।
বাতায়ন২৪ডটকম।। মেমোহি।।