স্টাফ করেসপনডেন্ট, রংপুর।। বাতায়ন২৪ডটকম।।
রংপুরে সিগনাল অপারেটর ক্যাবল ওয়ান বৈধ মালিককে ডিশের ফিড লাইন বুঝিয়ে না দিয়ে আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের অবৈধ আধিপত্য বজায় রাখতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেস্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন সদ্য অব্যহতি পাওয়া জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব।
বৃহস্পতিবার ( ৫ মার্চ) দুপুরে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন তিনি। এসময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গালিব অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে কামালকাছনা এলাকায় সিগনাল অপারেটরের সাথে ডিশের লাইনের ব্যবসা করে আসছিলেন। ২০১৫ সালে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক হারুন অর রশিদ ওরফে কানা হারুন ও ২৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নিজামুদ্দিন সুমন ওরফে রেডিও সুমন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করিয়ে ডিশের লাইনের ব্যবসা দখল করে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে গালিব বলেন, ‘ ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্যাবল ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহানগর যুবলগের যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে ডিশের ব্যবসা ফিরিয়ে পাওয়ার চেস্টা করি। কিন্তু ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ আমার ব্যবসা দখলমুক্ত না করে উল্টো নানাভাবে ছলচাতুরির আশ্রয় নেয় এবং রেডিও সুমনের স্ত্রীকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে লাইন কেটে দেয়ার মিথ্যা অভিযোগ আনে। যা আমার পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ও ব্যাবসায়িক সুনাম দারুণভাবে ক্ষুন্ন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে গালিব দাবি করেন, ‘নগরীর প্রেসক্লাবের সামনে ক্যাবল ওয়ানের অফিসের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আমি ঘটনার সময় কামালকাছনার নিজ বাড়িতে ইফতারের পর ফেসবুকে ওই ভিডিওটি দেখতে পাই। সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। এমনকি ওই ঘটনাটিও আমার নলেজে ছিল না। আমি জানতামও না। যা ওই ভিডিওটিতেই স্পস্ট হয়। কিন্তু উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে ওই ঘটনার সাথে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারের মাধ্যমে আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক জীবনের মানহানি করা হয়েছে। তবুও আমি ক্যাবল ওয়ান অফিসে সংঘটিত অনাকাংখিত ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে গালিব দাবি করেন, যুবলীগ সন্ত্রাসী হারুন অর রশিদ ওরফে কানা হারুণ জুলাই বিপ্লবের সময় ৪ আগস্ট ২০২৪ সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র উচিয়ে প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের গুলি করেছে। অনেক মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনও অনেকে পঙ্গু ও আহত হয়ে অনিশ্চিত জীবন যাপন করছেন। জুলাই বিপ্লবের হত্যা, হত্যা চেস্টা, অর্থ ও অস্ত্র জোগানদেয়াসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কানা হারুণ এখন কারাগারে। আপনারা দেখেছেন পুরো আন্দোলনের সময় যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানের ক্যাবল ওয়ান অফিস থেকে কিভাবে অস্ত্র সরবরাহ এবং অর্থ দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেস্টা করা হয়েছে। কিন্তু সেই আওয়ামীলীগ নেতার ক্যাবল ওয়ান আমার বৈধ ব্যবসা আমাকে বুঝিয়ে না দিয়ে আবারও আওয়ামীলীগের সেই দখলবাজ কানা হারুনকে কারাগার থেকে ব্যবহার করে শান্তিপূর্ন রংপুরকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াশ চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে গালিব আরও অভিযোগ করেন, ‘জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনের অস্ত্র সরবরাহ, অর্থ দিয়ে আন্দোলন দমানোর মামলার অন্যতম আসামী কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়া, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও ক্যাবল ওয়ানের মালিক মিজানুর রহমান মিজান, যুবলীগ নেতা আবুল ফজল ইউনুছ রিতুসহ আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের অনেক নেতার। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বিগত অন্তর্ববর্তিকালীন সরকার মিজানসহ অন্যদের গ্রেফতার করে নি। বর্তমান প্রশাসনও তাদের গ্রেফতার না করায় তা বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন উস্কানীমুলক কর্মকান্ড করার মাধ্যমে রংপুরকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। আমরা অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার দাবি করছি।’
গালিব সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয়তাবাদি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিপ্লবী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে গালিব তার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহাজীবনের নিরাপত্বা এবং ডিশের ব্যবসা দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
গত ১ মার্চ নগরীর ক্যাবল ওয়ানে অফিসে হামলা ও হত্যার হুমকির ঘটনায় জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু, সহ সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব, জেলা তাতী দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুনসহ ১০/১২ জনের নামে দুটি পৃথক মামলা করে ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ। মিথুন ও গালিবকে পুলিশ গ্রেফতার করলে তারা পরের দিন জামিন পান। এছাড়াও মামলার অপর মনুকেও জামিন দিয়েছে আদালত। এ ঘটনায় মনু ও গালিবকে সব পদ পদবী থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় যুবদল।
বাতায়ন২৪ডটকম।।