গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়ার কেশালীডাঙ্গা কেএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাহার বানু সুলতানার বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার বাড়িতে থাকা আরেক শিক্ষক এসএম কামরুল হাবিব সুমনকেও লাঞ্ছিত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নাহার বানু সুলতানা এবং এসএম কামরুল হাবিব সুমন।
ভুক্তভোগী নাহার বানু সুলতানা উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের নুরপুর (ফকিরপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা এবং জামালপুর মজিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এসএম কামরুল হাবিব সুমন সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা।
লিখিত বক্তব্যে নাহার বানু সুলতানা বলেন, কলেজ জীবনের এক বান্ধবীর বড় ভাই হওয়ায় সুমনকে তিনি ‘বড় ভাই’ হিসেবেই সম্মান করে চলেন, এবং উভয় পরিবারের মধ্যেও মানবিক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী কছির উদ্দিনের ছেলে আজাহারুল ইসলামের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে প্রতিপক্ষরা তার ওপর শত্রুতা পোষণ করতে থাকে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে সুমনকে ফোন করে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস আনতে বলেন। সুমন বাড়িতে আসার কিছুক্ষণ পরই প্রতিপক্ষরা দলবদ্ধ হয়ে বাড়িতে ঢুকে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা, শ্লীলতাহানি, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তার গলায় থাকা ১ ভরি স্বর্ণের চেইন, নগদ টাকা ও ঘরের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।
এসময় বাঁধা দিতে গেলে নাহার বানু ও সুমনকে অবরুদ্ধ করে রাখে হামলাকারীরা। পরে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়, যা পূর্বপরিকল্পিত ও ভিত্তিহীন দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতিপক্ষরা তাকে বাড়িতে না উঠতে হুমকি দিচ্ছে এবং উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন নাহার বানু সুলতানা।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দিন খন্দকার জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।