স্পেশাল করেসপনডেন্ট, রংপুর।। বাতায়ন২৪ডটকম।।
এবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কক্ষে ভিসির উপস্থিতিতে একজন ডেপুটি রেজিস্টারকে বেধড়ক মারধোর করে মাথা পাঠিয়ে দিলো জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ চার কর্মকর্তা নেতা ও ছাত্রলীগের একজন সাবেক নেতা। আহত কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় ভিসির বিরুদ্ধে নিশ্চুপ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি হয়েছে। ভিসির দাবি অভিযুক্তরা যত বড় শক্তিশালীই হোকনা কেন কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (৪নভেম্বর) সন্ধা সোড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যকার এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বৃহস্পতিবার ( ৫ নভেম্বর) রাতে। ঘটনাটি ঘটেছে প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় ভিসি ড. মো. শওকাত আলীর রুমে। এসময় সেখানে ভিসিসহ ২ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভিসি, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ প্রতিবেদককে।
ঘটনার সময় যারা মারপিটে অংশ নেন তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামেরসভাপতি ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ড. রোকনুজ্জামান, সহ-সভাপতি ও সংস্থাপন শাখার উপ রেজিষ্টার ড. জিয়াউল হক, সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর উপ-গ্রন্থাগারিক মামদুদুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিষ্টার মো. তারিকুল ইসলাম তারেক এবং রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ( ২০১৪ এর জুলাই আন্দোলনে ছাত্রলীগকে হেলমেট সরবরাহের দায়ে অভিযুক্ত) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী রেজিষ্টার রেজাউল ইসলাম লাবু।
উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে পাঠানো ‘ রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের দোসর ও জামায়াতের পুনর্বাসন’ (প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগপত্রটি সংরক্ষিত আছে) বিষয়ক একটি অভিযোগের বিষয়ে ইতিহাস বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান ও প্রভাষক (সনদ জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন সিন্ডিকেট কর্তৃক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়) মোহাম্মদ ইউসুফের মধ্যকার বচসার সময় বাংলা বিভাগের উপ-রেজিষ্টার রফিকুল ইসলাম কথা বললে এই ঘটনা ঘটে। প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সহ-সভাপতি সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা অতিরিক্ত রেজিষ্টার ড. জিয়াউল হক ঘুষি মারেন। এরপর ফোরামের সভাপতি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রিসার্স অফিসার ড. রোকনুজ্জামান তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন ও মারধোর করেন। পরে তাকে মারধোরে অংশ নেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উপ-গ্রন্থাগারিক মামদুদুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিষ্টার তারিকুল ইসলাম তারেক এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি রেজিষ্টার রেজাউল ইসলাম লাবু ( রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াসহ অন্যান্যদের হেলমেট সহায়তায় অভিযুক্ত বর্তমানে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের শীর্ষ নেতার আনুকুল্য দাপিয়ে বেড়ানো) মারধোর করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিতরা জানান, এসময় ভিসি তার চেয়ারে বসে গালে হাত দিয়ে চুপচাপ ছিলেন। এক পর্যায়ে রফিকুল ইসলামকে মারতে মারতে বাইরে বের করে এনে করডোরে থাকা ফুলের টব ও কাচের বোতল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন ফোরাম সভাপতি ড. রোকনুজ্জামান ও সহ সভাপতি ড. জিয়াউল ইসলাম এতে তার মাথা ফেটে যায়। এসময় সেখানে উপস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের অতিরিক্ত রেজিষ্টার গোলাম মোস্তফা, গণিত বিভাগের উপ রেজিষ্টার আনোয়ার হোসেন (মিঠু) মার্কেটিং বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম, প্রকৌশল শাখার (তড়িৎ) সহকারী প্রকৌশলী আহসানুল হাবিব, একাডেমিক শাখার কম্পিউটার প্রোগ্রামার মনজুরুল ইসলাম মারধোরকারী কর্মকর্তাদের নিবৃত করার চেস্টা করেও তারা সফল হন নি। পরে সহকর্মীদের সহযোগিতায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথায় একাধিক সেলাই দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বুকে এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম হয়েছে।
কি ঘটেছিল সেখানে: মাথা ফেটে যাওয়া বাংলা বিভাগের উপ-রেজিষ্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ আমরা ভিসির রুমে রেজিষ্টার স্যারের সাথে দেখা করতে যাই। তিনি রুমে ছিলেন না। আমরা তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। এসময় ইতিহাস বিভাগের মনিরুজ্জামান স্যার ও ইউসুফ স্যার ইউজিসিতে পাঠানো অভিযোগ নিয়ে তর্ক বিতর্ক করছিলেন। ইউসুফ স্যার মনিরুজ্জামান স্যারকে বলতেছিলেন- আপনি নাকি বলেছেন যে আমি আপনাদের বিরুদ্ধে ইউজিসিতে অভিযোগ দিয়েছি। তথন মনিরুজ্জামান স্যার ভিসি স্যারকে উদ্দেশ্য করে বলেন আমি কি কখনও স্যার এধরণের কথা বলেছি। এনিয়ে তাদের বিতর্ক হচ্ছিল। তখন আমি মামদুদুর রহমানকে কে (উপ-গ্রন্থাগারিক, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার) উদেশ্য করে বলি এটা যারাই দিক না কেন। আপনারা সিনিয়র এটার একটা ব্যবস্থা করেন। সেখানে উপস্থিত গোলাম মোস্তফা স্যারও (অতিরিক্ত রেজিষ্টার, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক) সায় দেন। তখন পাশে থাকা আনোয়ার মিঠু ( উপ রেজিষ্টার, গণিত বিভাগ) বলে- স্যার এটার বিহিত করতে হবে। আমি আবার তার সাথে সুর মিলিয়ে বলি যে, স্যার এই ধরণের বিষয় হয় জুনিয়র না হয় সিনিয়ররা দেয়। সিনিয়র বা জুনিয়র যে কেউ হোক, এটা তদন্ত করে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবে একটা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। আমার বিরুদ্ধে বা অন্য কারো বিরুদ্ধে চিঠি পাঠায় দিয়ে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় নষ্ট করে ফেলছে।’
রফিকুল ইসলাম বলেন, এসময় পশ্চিম পাশে বসে থাকা ড. জিয়াউল হক (সংস্থাপন শাখা ও সহ সভাপতি জাতীয়তাবাদি কর্মকর্তা ফোরাম) ) বলে উঠে এখানে সিনিয়ররা কথা বলতেছে। আপনি সিনিয়রদের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় জানেন না। এই কথা বলে উনি এসে আমাকে ঘূষি মারে। এক পর্যায়ে জাতীয়তাবাদি কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি রোকনুজ্জামান (রিসার্স অফিসার, রিসার্চ ইন্সটিটিউট) আমাকে শুয়োরের বাচ্চা, কুকুরের বাচ্চা বলে গালি দিয়ে মারতে থাকে। এরপর আবারও জিয়া, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উপ-গ্রন্থাগারিক পরিচালক মামদুদুর রহমান ( সাধারণ সম্পাদক জাতীয়তাবাদি কর্মকর্তা ফোরাম), সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিষ্টার তারিকুল ইসলাম ( যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জাতীয়তাবাদি কর্মকর্তা ফোরাম), সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি রেজিস্টার রেজাউল ইসলাম লাবু ( রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি) এসে আমাকে এলোপাতাড়ি মারা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা আমকে ভিসি স্যারের রুম থেকে করিডোরে বের করে আনে। করিডোরে থাকা ফুলের টব দিয়ে রোকন এবং কাচের বোতল দিয়ে জিয়া আমাকে মারতে থাকে। এতে আমার মাথা ফেটে যায়। বুক এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়। তারপর আমি অন্যান্য সহকর্মীদের সহযোগিতায় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করছি।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অসুস্থ্য থাকায় আমি এখনও মামলা ও অভিযোগ করতে পারিনি। আগামী রোববার আমি ভিসি ও রেজিস্টারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার চাইবো। তাদের কাছে আমার কথা-আমি যদি প্রকৃতপক্ষে অপরাধী হই তাহলে আমাকে আপনি বিচার করেন, আর যদি অন্য কেউ প্রকৃতপক্ষে অপরাধী হয়, আপনার কাছে ভিডিও ফুটেজ আছে, সেটা দেখে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন । তারা যদি এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ না নেন তাহলে থানায় মামলা করবো।’
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ ভিসির উপস্থিতিতে আমাকে মারা হলেও ভিসি ওখানে কোনো কথাবার্তা বলেন নি। উনি মুখে মুখে হাত দিয়ে শুনতেছিলেন। দুই স্যার তর্ক-বিতর্ক করার সময়ও তিনি কোন কথা বলেন নি। রোকন যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করল, সেটারও তিনি কোনো প্রতিবাদ করল না। স্যার যদি বলতেন সবাই চুপ থাকেন, কোনো কথা বলবেন না। তাহলেএই সমস্যাটা সৃষ্টি হতো না। আমার কাছে মনে হয়েছে। . এ ধরনের প্রশাসন কখনো কাম্য নয়। আমার মনে হয়েছে ওরা ভিসি স্যারকেই একদিন মারবে। তারপরেও ভিসি স্যার কিছু বলবেন না।’
যা জানালেন দুই শিক্ষক: ঘটনাটি যাদের তর্কবিতর্ককে ঘিরে-তাদের একজন ব্যপারে ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ ইউসুফ ( জাল সনদের জন্য তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়) জানান, ‘আমাদের যে মনিরুজ্জামান ভাই (ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক) আছে, উনার বিরুদ্ধে আমিনুর রহমানের নামে কেউ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ইউজিসিতে। ওইটা নিয়ে ভিসির রুমে আমরা কথা বলতেছিলাম যে, কিছু না হতেই এখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিযোগ দেয়। কে কার বিরুদ্ধে দেয়, কি নাম নিয়ে দেয়, এটার কোনো যাচাই-বাছাই নাই। একজন আরেকজনকে দোষারোপ করতেছে শুধু। তখন রফিক ভাই মামদুদুর ভাইকে দেখিয়ে বলতেছিল যে, আপনারা তো সিনিয়র বিশ্ববিদ্যালয়ের, আপনারা তো জানেন যে এখানে কে কার বিরুদ্ধে লিখিত দেয়। আপনারা বের করেন। এটা তো আসলে সিনিয়রদের জানার কথা কে কার বিরুদ্ধে লিখিত দেয়, আমরা যারা জুনিয়র আছি তারা তো জানার কথা না। পরে রফিক সাহেব মামদুদুরকে বলে- আপনি নাকি মিঠু টাকা দিয়ে প্রমোশন নিছে এই কথা বলে বেড়াচ্ছেন। তখন আমিনুর রফিককে বলে-কে বলছে এই কথা, প্রমাণ দেন। এভাবে এক-দুই কথাতেই মূলত গ্যাঞ্জামটা হইছে। গ্যাঞ্জামটা আমার আর মনিরুজ্জামানস্যারের কোনো কথার ইস্যুতে হইছে তা নয়, ইস্যুটা হলো মূলত তাদের ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ ছিল। রফিক ভাই যেভাবে বলতেছিল, তাতে মনে হয় পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে সুযোগ পেয়ে ধরেছে।
শিক্ষক ইউসুফ বলেন, ‘ এটা তো প্রথম নয়। এর আগের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল লতিফ স্যার ভিসিকে বলেছিলেন আপনি এখানে কেন? আপনি তো থাকার কথা জেলে। এখন ভিসি স্যার যে কি উদারতা দেখান, এগুলার কারণে এমন হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা অফিস টাইমের বাইরে স্যার তো কাজ করে। ওখানে যাইয়া সবাই আড্ডা দেয়। স্যার ইদানিং আবার কান কথা শুনতেছে, যেটা আগে ছিল না। একটা পক্ষ অফ হয়ে গেছে, এখন তো মাঠে কোনো খেলোয়াড় নাই। একা হওয়াতে যারা একেবারে কুয়োতো ছিল, ওরা এখন বড় বড় নেতা হয়ে গেছে, সবকিছু মেইনটেইন করে।’
এ বিষয়ে ইতিহাস বিভাগের অপর শিক্ষক সহকারি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান জানান, ‘ ইউজিসিতে দেয়া আবেদনের বিষয়ে উপযাচক হয়ে ইউসুফে আমার বিরুদ্ধে ভিসির উপস্থিতিতে আমাকে ব্লেম দিচ্ছিল যে আমি ইউসুফকে দোষারোপ করেছি। আমি এসব বিষয়ে কোন কথা বলিনি। যেহেতু যার নাম ও পদবি ব্যবহার করে ওই অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তিনি সেটা অস্বীকার করেছেন। তাই এটা নিয়ে আমাদের কোন কথা নাই। কিন্তু এরমধ্যেই ইউসুফের উস্কানীতে মাহমুদুর রহমানসহ অন্যান্যরা রফিক সাহেবের ওপর হাতে তোলে মারপিট করে। ভিসির রুমে ভিসির উপস্থিতে এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করেছে। এটা হওয়া উচিৎ হয় নি। তদন্ত কমিটি করেছেন ভিসি স্যার। দেখি কি ব্যবস্থা নেয়া হয়।’
এ ব্যপারে ঘটনায় অংশ নেয়া জাতীয়াবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি ও রিচার্স ইন্সটিটিউটের রিসার্স অফিসার ড. রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘ ইউজিসিতে অভিযোগের বিষয়ে দুই শিক্ষকের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এ সময় কর্মকর্তা রফিক শিক্ষকদের কথার মাঝখানে কথা বলায় তাঁকে আমরা যারা কর্মকর্তা ছিলাম তারা তাকে কথা বলতে নিষেধ করি। কিন্তু রফিক আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে এলে উপস্থিত কর্মকর্তারা তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। আমিও তাকে মারিনি কিংবা গালাগালি করিনি। ‘
যা জানালেন রেজিষ্টার: এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার প্রফেসর ফেরদৌস রহমান জানান, ‘ ঘটনার সময় আমি ভিসির রুমে ছিলাম না। তবে ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাটি খুবই মর্যাদাহানিকর। ভিসির রুমে ভিসির উপস্থিতে এ ধরণের মারমারিতে জড়ানো। এ ঘটনায় ছাত্র উপদেস্টা মাসুদ রানাকে আহবায়ক, প্রক্টর ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব ও শহীদ মুখতার এলাহী হলের প্রভোষ্ট ড. এটিএম জান্নাতুল বাশারকে সদস্য করে তিন সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ‘
যা জানালেন ভিসি: ঘটনাটি প্রসঙ্গে ভিসি ড. এম শওকাত আলী জানান, ‘আমি আমার চেয়ারে বসে কাজ করছিলাম। আমি তো ওদের কাউকে ডাকিও নাই। কাউকে কিছুই বলি নাই। তারা ইন্ডিভিজুয়ালি আসছে এবং নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। আমি আমার কাজ করতেছিলাম।,অফিস টাইমের পরেও আমাকে কাজ করতে হয়। মারামারি শুরু করলে আমি ওদের বের করে দিয়েছি। পরে বাইরে গিয়ে ওরা হাতাহাতি করছে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তারপর কলাপসিবল গেটটা আমরা লাগায় দিছি। এই কর্মকর্তারা কি অল-ইন-অল হয়ে গেছে নাকি? এদের দিয়ে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে?
হাতাহাতিতে জড়ানোর কারণ প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, ‘ মনে হয় ওদের ইন্টারনাল বিষয় ছিল। আগে থেকেই মনে হয় ওদের সমস্যা ছিল। আমি যতটুকু তথ্য পাইলাম। খেলার মাঠে দুই বছর আগের একটা ঘটনা। আমি আসার আগে তাদের মধ্যে তিক্ত কিছু একটা ছিল মনে হয়, সেটা আমাকে বলল কয়েকজন স্যার এবং যে ভিকটিম সেও আমাকে বলল। সেটার রেশ ধরে এটা করছে ওরা।’
ভিসি বলেন, ‘কথা কাটাকাটি হতেই পারে মানুষের মধ্যে, কিন্তু হাতাহাতি হওয়াটা অন্যায় এবং গর্হিত কাজ। এটা যেই হোক না কেন, তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে। এসব ব্যাপারে আমি জিরো টলারেন্স। আমি তিনজন শিক্ষকের পদাবনতি করলাম নারী কেলেঙ্কারিতে। এদেরও শাস্তি হবে। আমি অলরেডি ওপর লেভেল থেকে কড়া নির্দেশ পেয়েছি—যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে। সিসি ক্যামেরা সব কিছু রেকর্ড করতেছে। সিসি ক্যামেরা সম্পূর্ণ সচল রাখা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা দেখে কাজ করা হবে, এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। এখানে কারো কাছে আমি জিম্মি না। যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে আসতে হবে। এখন অফিস টাইমের পর অনুমতি ছাড়া কেউ আমার অফিসে ঢুকতে পারবে না।’
যা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত: প্রসঙ্গত গত ১৪ অক্টেবার ইউজিসিতে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মনিরুজ্জামান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আমিনুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র দেয়া হয়। এতে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের দোসর ও জামায়াতের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও পেপার কাটিং যুক্ত ছিল। ইউজিসিরি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত পরিচালক ড. মহিবুল হক অভিযোগটি আমলে নিয়ে রেজিষ্টারকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য দেয়ার নির্দেশ দেয় গত ২ নভেম্বর।
ঘটনার আগে এনিয়ে পারস্পারিক দোষারোপ ও তর্ক-বিতর্ক করছিলেন শিক্ষক মনিরুজ্জামান ও মোহাম্মদ ইউসুফ।
ইউজিসিতে পাঠানো চিঠির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যা বললেন: তবে ওই চিঠি পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছেন রেজিষ্টার বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আমিনুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন তার হাতের লেখা ওর কম নয়। প্রয়োজনে ফরেনসিক করা হোক। তবে ক্যাম্পাসে চাউর হয়ে আছে রেজিষ্টার বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মাহমদুদুর রহমানের উদ্যোগে আমিনুর রহমানের নামে ওই চিঠি ইউজিসিতে পাঠানো হয়। বিষয়টি জানার কারণেই দুই শিক্ষকের কথা কাটাকাটির সময় ঘটনার শিকার কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মাহমুদুর রহমানকে জোড় দিয়ে বলেছিলেন বিষয়টি তদন্ত করা হোক। এনিয়ে সেখানে উপস্থিত জাতীয়তাবাদি কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন।
বাতায়ন২৪ডটকম।।