সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরে ফটোগ্রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফি কর্মশালা ‘RE:FRAME 2026’ অনুষ্ঠিত ভূমিহীনদের নেতৃত্বে আগামী দিনের রাজনীতি গড়ার আহ্বান হাসনাত কাইয়ুমের রংপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন আদালতের টিমের পরিদর্শনে ফের হাতাহাতি, ‘ইন্ডিয়া চলে যাওয়ার’ হুমকি কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও ইস্কাপ জব্দ সাংবাদিকতার কঠিন পথেও নীতি-নৈতিকতায় অবিচল ছিলেন আবুল কালাম আজাদ ছয় মাস বেতন বন্ধ, ক্ষোভে মাদ্রাসার সুপারকে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ বদরগঞ্জে সরকারি জমিতে নির্মিত বাড়িতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, গেটে নোটিশ টাঙাল প্রশাসন ওয়ালটনের সঙ্গে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেলের সমঝোতা স্মারক সই বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা-দাফনে বাধা, প্রতিবাদে রংপুরে মানববন্ধন
ভূমিহীনদের নেতৃত্বে আগামী দিনের রাজনীতি গড়ার আহ্বান হাসনাত কাইয়ুমের

ভূমিহীনদের নেতৃত্বে আগামী দিনের রাজনীতি গড়ার আহ্বান হাসনাত কাইয়ুমের

হারুন-অর-রশিদ বাবু||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||

ভূমিহীন, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম। তিনি বলেছেন, যুগে যুগে সাধারণ মানুষ আন্দোলন-সংগ্রাম করে বিজয় ছিনিয়ে আনলেও সেই বিজয়ের সুফল ভোগ করেছে ক্ষমতাবান ও বিত্তশালীরা। তাই নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিহীনদেরই নেতৃত্বের জায়গায় আসতে হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি মাঠের শহীদ মিনার চত্বরে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন রংপুর জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে ‘ভূমিদস্যু হটাও, ভূমিহীন বাঁচাও’, ‘খাস জমির অধিকার ভূমিহীন জনতার’ এবং ‘আগে পুনর্বাসন, পরে উন্নয়ন’ এই স্লোগান সামনে রেখে ভূমিহীন মানুষের অধিকার ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।

অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রংপুরের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নূরলদীন থেকে আবু সাঈদ পর্যন্ত এ অঞ্চলের মানুষ অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জীবন দিয়েছেন। কিন্তু বারবার বিজয় এলেও সেই বিজয়ের সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছায়নি। বরং বড় রাজনৈতিক দল, ক্ষমতাবান ও লুটপাটকারীরা এর সুবিধা ভোগ করেছে।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে জমিদাররা খাজনার নামে মানুষের ওপর শোষণ চালাত। বর্তমানে বাজারব্যবস্থা, পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন করের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। অথচ শ্রমজীবী মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য নেই। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

ভূমিহীনদের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে উপেক্ষিত রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে অসহায় জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভূমিহীন। অথচ তাদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরির বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম শ্রম দিয়ে দেশের সম্পদ সৃষ্টি করেছেন, তারাই আজ জমি ও বসতভিটা হারিয়ে ভূমিহীন হয়েছেন।

সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সমালোচনা করে হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণে ৮৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হচ্ছে। অথচ তাঁর দাবি, বিকল্পভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে অনেক কম অর্থ ব্যয় হতে পারে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ ভূমিহীন ও পুঁজিহীন মানুষের কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তায় বিনিয়োগ করা হলে তারা নিজেরাই দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে সাধারণ মানুষের জন্য বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ অর্থনৈতিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, হত্যাকাণ্ডের অপরাধের বিচার এবং অর্থনৈতিক অপরাধের বিচার পৃথকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পায় এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন।

রাজনীতিতে সম্পদ অর্জনের প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, রাজনীতি করে কারও সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে হবে। জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করলে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির পরিবর্তে মানুষের অধিকার ও কল্যাণই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য যে দলেরই হোক, রাজনীতির নামে লুটপাট ও সম্পদ বৃদ্ধির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

ভূমিহীনদের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভূমিহীনদের সংগঠন ও নেতৃত্ব ভূমিহীনদের মধ্য থেকেই তৈরি হতে হবে। কৃষকের রাজনীতি কৃষকদের, শ্রমিকের রাজনীতি শ্রমিকদের এবং সাধারণ মানুষের রাজনীতি সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। আগামী নির্বাচনের আগেই ভূমিহীন, কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারি হিসাবে দেশে প্রায় ৯১ লাখ ভূমিহীন মানুষ রয়েছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ বুঝতে পারলে দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। ভূমিহীনদের শুধু সহায়তা বা ভাতার ওপর নির্ভরশীল না রেখে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার উদাহরণ টেনে হাসনাত কাইয়ুম বলেন, রাষ্ট্রের অর্থে বড় বড় আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ভূমিহীনদের জন্যও প্রতিটি জেলা শহরে আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের বসতভিটা নেই, তাদের পুনর্বাসন এবং যাদের বাড়ি নির্মাণের জায়গা নেই, তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। ভাড়া পরিশোধের মতো কিস্তিতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ পরিশোধ করে নিজেদের বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের এক অঞ্চলের মানুষের করের টাকা দিয়ে অন্য অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সেই উন্নয়নের সুফল দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরও ভোগ করার অধিকার রয়েছে। উন্নয়নের নামে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে তাদের পুনর্বাসন না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উন্নয়নের আগে পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে তিনি ভূমিহীনদের অধিকার, মর্যাদা, জমির মালিকানা, শ্রমের ন্যায্য মূল্য এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক কনক রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা আমিন উদ্দিন বিএসসি, কৃষি ও কৃষক রক্ষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ জামাল কাদেরী, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের লালমনিরহাট জেলা আহ্বায়ক মো. আব্দুল হামিদ, সহসভাপতি কামরুজ্জামান টিপু, গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক মোছা. শাহীনুর বেগম এবং কৃষক আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম জুয়েল।

সমাবেশে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের রংপুর বিভাগের উপদেষ্টা ও রংপুর জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রায়হান কবীর।

সমাবেশ শেষে নেতারা ভূমিহীনদের অধিকার ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে একটি র‍্যালী করেন, র‍্যালী শেষে জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com