স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||কুড়িগ্রাম||বাতায়ন২৪ডটকম||
ছয় মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। বারবার দাবি জানিয়েও সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ থেকে মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন সহকর্মীরা। এ সময় বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে ‘বেতন চাই, বেতন চাই’ স্লোগানে বিক্ষোভ করেন তারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অবরুদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, সুপারের কারণে সৃষ্ট প্রশাসনিক জটিলতায় টানা ছয় মাস ধরে প্রতিষ্ঠানের ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পাচ্ছেন না। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সুপারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
সহকারী শিক্ষক ইমরুল কায়েস বলেন, ‘আমরা শিক্ষক। মানুষ আমাদের কাছে আরও ভদ্র আচরণ প্রত্যাশা করে। কিন্তু পেটের দায়ে সুপার স্যার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করতে হয়েছে। ছয় মাস ধরে বেতন বন্ধ। আমরা বাজারে যেতে পারি না। আমাদের সংসার কীভাবে চলে? আমরা সুপার স্যারের অধীনে চাকরি করি। তিনি কীভাবে সমস্যার সমাধান করবেন, সেটা তাঁর বিষয়।’
খবর পেয়ে বেলা ৩টার দিকে মাদ্রাসার সভাপতি ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রভাষক শহিদুল ইসলাম আকন্দ পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করেন। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান তাঁর চাচাতো ভাই ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানকে শিক্ষক হিসেবে পদায়ন দেখান। এ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরে অফিস সহকারী পদে বহাল থাকার দাবিতে আদালতে মামলা করেন শফিয়ার রহমান। প্রায় এক বছর আগে করা মামলাটি এখনো চলমান।
পদবি-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় ছয় মাস ধরে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এতে বিরোধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকা অন্য শিক্ষক-কর্মচারীরাও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সুপার সাইদুর রহমান বলেন, অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানের পদবি পরিবর্তন করে তাঁকে ইবতেদায়ি শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ ভুল সংশোধনের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষে (এনটিআরসিএ) কাজ চলছে। পদবি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বেতন নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা নিতে রাজি না হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। সোমবার সকালে দায়িত্ব পালন করতে মাদ্রাসায় এলে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়।
সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, মাদ্রাসার সুপার অফিস সহকারীকে ইবতেদায়ি শিক্ষক হিসেবে পদায়ন করেছেন। এ কারণে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা কেউ বেতন পাচ্ছেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান চান তাঁরা।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম