স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||
লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে পৃথক তিনটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ৬৭ বোতল ইস্কাপ সিরাপ ও ২৮৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের সর্বমোট সিজার মূল্য ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য চোরাচালানের প্রচেষ্টার খবর পেয়ে ১৫ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক তিনটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এর মধ্যে ১৪ অক্টোবর রাত ২টার দিকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি বিওপির আওতাধীন বনচৌকি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ১৭ বোতল ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়। একই দিন সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গংগারহাট বিওপির আওতাধীন উত্তর কুটি চন্দ্রখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৮৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন হাজিটারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৫০ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করেন বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবি জানায়, অভিযান চলাকালে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি দেখে টহলদলের সদস্যরা তাঁদের ধাওয়া করেন। এ সময় চোরাকারবারিরা বহন করা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ফেলে যাওয়া মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা ৬৭ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপের সিজার মূল্য ২৬ হাজার ৮০০ টাকা এবং ২৮৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের সিজার মূল্য ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ করা মাদকদ্রব্যের সিজার মূল্য ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদকপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম