হারুন-অর-রশিদ বাবু||বাতায়ন২৪ডটকম ||
রংপুরের পীরগাছায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন কারাগারে যাওয়া আসামি ও তাঁদের স্বজনেরা। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রংপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক আশিক মাহমুদের আদালতে হাজিরা দিতে গেলে একটি মামলায় জামিন বাতিল করে আটজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় প্রিজন ভ্যান থেকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা, তাঁর ভাই রেজা চেয়ারম্যান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন আসামি।
কারাগারে নেওয়ার পথে রাকিবুল ইসলাম রকি অভিযোগ করেন, পীরগাছা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম এর ভাই ইয়াবা ব্যবসায়ী, তার চাচা চোর, সে নিজে একটা ধান্ধাবাজ চাঁদাবাজ। তাদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় আমাদেরকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। দেউতি আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, তিনি ও ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক কোনো চাঁদা দাবি করেননি। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা তার ভাই রেজা চেয়ারম্যান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
পারুল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রাঙ্গা, সহ-সভাপতি রেজা, যুবদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, মতিন এরা চাঁদাবাজ, ধান্ধাবাজ, বাটপার এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে। তারা এই হয়রানি থেকে মুক্তি দাবি করেন।
মামলা ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর রংপুর জেলা বিএনপির তৎকালীন সদস্যসচিব প্রয়াত আনিছুর রহমান লাকুর স্মরণসভায় গেলে পারুল ইউনিয়ন বিএনপি নেতা রাশেদুল ইসলাম রাশেদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পীরগাছা পুলিশ মামলা না নিলে, ১৭ অক্টোবর স্থানীয় জনতা দেউতি বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সাজু, জালাল, আব্দুর রাজ্জাকসহ অনেকের দাবী, বিক্ষোভের সময় পীরগাছার ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান রেজার গাড়ি যানজটে আটকে পড়ে। আন্দোলনকারীরা গাড়িটি পার করে দেওয়ার চেষ্টা করলে গাড়িতে থাকা,নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলার আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজান মিয়ার জুলাই আন্দোলন নিয়ে অশ্লীল
মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়।
পরে শ্রমিক দলের আহ্বায়ক এনামুল হকের নেতৃত্বে কয়েকজন গাড়িটি রাশেদের বাড়ির সড়কের দিকে নিয়ে যান এবং উত্তেজিত জনতা গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে।
এলাকাবাসীর দাবি স্থানীয় লোকজন, সাংবাদিক ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে রেজা চেয়ারম্যানের মালামাল হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে মালামাল বুঝে পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং রাশেদকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে মন্তব্য করেন মামলার বাদী মোস্তাফিজার রহমান রেজা। ভিডিওটি প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১৫ অক্টোবর আসামিরা তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তা না দিলে হত্যার হুমকি দেন। পরে ১৭ অক্টোবর দেউতি বাজারের কাছে তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে কাচ ভাঙচুর, তাঁকে ও চালককে মারধর এবং গাড়িতে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তিনি অজ্ঞাত ৪/৫ জনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে পীরগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা নম্বর ১৪।
কারাবাসে যাওয়া অভিযুক্তরা হলেন, পশু চিকিৎসক মোঃ রহমত (২৫), মোঃ রাকিবুল ইসলাম রকি (২৫), ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য, দেউতি আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক, রাশেদুল ইসলাম (৩৫), পারুল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রাজ্জাক মেম্বার (৪৫), পারুল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মোশাররফ হোসেন (৩৪) আঃ সালাম(২৮), পারুল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সভাপতি, মো. রানা মিয়া(২৮) অটোরিকশা চালক, দুলু মিয়া (৪০) তিনি।.
আসামিপক্ষের আইনজীবী আলাউদ্দিন আলমগীর বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে ভিত্তিহীন হওয়ায় তারা শুরু থেকেই জামিনে ছিলেন। ১৩ অক্টোবর আদালতে হাজিরা দিতে গেলে জামিন বাতিল করে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। ন্যায় বিচারের জন্য আমরা আইনী লড়াই লড়ে যাবো।
কারাগারে যাওয়া আসামি ও তাঁদের স্বজনেরা মামলাটিকে হয়রানিমূলক দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে মামলার বাদী রেজার এজাহারে চাঁদা দাবি, হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এবিষয়ে মামলার বাদী জানান আমি মামলা করেছি আদালত যে রায় দিবে আমি সেটা মেনে নিবো।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম