স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ||রংপুর ||বাতায়ন২৪ডটকম||
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো বন্ধের প্রতিবাদ করায় কলেজশিক্ষক আরিফুল ইসলামকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যার মামলায় পলাতক এক আসামিকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার হাসান আলী (২০) এ মামলার দুই নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। এর আগে মামলার প্রধান আসামি রহিদুল ইসলামকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এসআরবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার হরিশচন্দ্রপট্টি পুমদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-১৩-এর রংপুরের সিপিএসসি এবং এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জের একটি যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার হাসান আলী লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার গন্ধমরুয়া গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকায় রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী, মাসুদ আলীসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় জুয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতেন কলেজশিক্ষক আরিফুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জুয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কার্যক্রম বন্ধ না হলে পুলিশকে জানানোর কথাও বলেছিলেন তিনি।
এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১ আগস্ট দুপুরে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুলের ওপর হামলা চালানো হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাঁকে লোহার রড দিয়ে মারধর করেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আরিফুল ইসলামের বাবা গত ২ আগস্ট আদিতমারী থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয় (মামলা নম্বর ০৩)। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বলে এসআরবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ১২ আগস্ট মামলার প্রধান আসামি রহিদুল ইসলামকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এবার দ্বিতীয় এজাহারনামীয় আসামি হাসান আলীকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্তে আরেকটি অগ্রগতি হলো।
এসআরবি জানায়, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
**জুয়ার প্রতিবাদ থেকে প্রাণহানি, উঠছে অপরাধ দমনের প্রশ্ন**
একজন কলেজশিক্ষকের বিরুদ্ধে নয়, বরং এলাকায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জেরে তাঁকে হামলার শিকার হতে হয়েছে মামলার অভিযোগের এই দিকটি ঘটনাটিকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে। আরিফুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সবার বিচার নিশ্চিত করা এবং এলাকায় অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণের বিষয়গুলো এখনো আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ।
এইচআরবি/ বাতায়ন২৪ডটকম