সংবাদ শিরোনাম :
দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মার্কেট-শপিংমল-দোকান রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ৩ ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার বিচারের দাবিতে বেরোবিতে মানববন্ধন বিএসএফের গুলিতে আহত ২ ভারতীয় নাগরিক রংপুর মেডিকেলে ভর্তি বিশ্ব বসতি দিবসে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বর্ণাঢ্য র‍্যালি রংপুরে মাউশির তালাবদ্ধ স্টোর থেকে ৪ বস্তা ফাইল রাস্তায় গেল কিভাবে রংপুরে যৌথ অভিযানে ৫০ লাখ মুল্যের কষ্টিপাথর সহ আটক-২ শহীদ আবু সাঈদের কবর ও ঘরবাড়ি উন্নয়নে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলো সরকার পীরগাছায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করলেন জুয়েল রানা রংপুরে অনলাইন জুয়া ও ভিসা প্রতারণার অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার
রংপুরে মাউশির তালাবদ্ধ স্টোর থেকে ৪ বস্তা ফাইল রাস্তায় গেল কিভাবে

রংপুরে মাউশির তালাবদ্ধ স্টোর থেকে ৪ বস্তা ফাইল রাস্তায় গেল কিভাবে

রংপুর মাউশি কার্যালয়ে নথি পাচারের অভিযোগ, উপ-পরিচালক ও পরিচালকের বক্তব্যে অসঙ্গতি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ||রংপুর ||বাতায়ন২৪ডটকম||
রংপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভর্তি চারটি বস্তা দিনদুপুরে সরিয়ে নেওয়ার সময় এলাকাবাসীর হাতে আটকের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তীর উঠেছে মাউশির রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার ও পরিচালক অধ্যাপক মাজেদ আলীর দিকে।

তবে ঘটনাটিকে তারা চুরির ঘটনা বলে দাবি করলেও যে স্টোররুম থেকে নথিগুলো চুরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সরেজমিনে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ ও অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দরজা বা তালায় ভাঙচুরের কোনো চিহ্নও নেই। এমনকি জানালা দিয়েও সেলাই করা চারটি বস্তা বের করে নেওয়া সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। ফলে তালাবদ্ধ ও অক্ষত স্টোররুম থেকে চার বস্তা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল কীভাবে বাইরে গেল এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশের দেয়ালসংলগ্ন সড়কে একটি অটোরিকশায় চারটি সেলাই করা বস্তা তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা বস্তাগুলো আটকে দেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

এ সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন অফিস সহকারী আবু তালেব ও অফিসের গাড়িচালক মোহাম্মদ জাহিদ। তাদের দাবি, পরিচালকের নির্দেশেই তারা বস্তাগুলো নিতে এসেছেন।

অফিস সহকারী আবু তালেব বলেন, “আমাকে পরিচালক স্যার পাঠিয়ে দিলো যে পিছনে চারটা বস্তা আছে, বস্তা কয়টা নিয়ে আসো। বলেছে যে চারটা ফাইলের বস্তা আছে, ওই বস্তা চারটা তাড়াতাড়ি অফিসে নিয়ে আসো। সেজন্য আমি এখানে এসেছি। যারা রাত্রে ক্রাইম করে তারা হয়তোবা নিয়ে আসছে। ফাইলগুলো আমাদের স্টোর রুমে ছিল।”

অফিসের গাড়িচালক মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, “কীভাবে অফিসের কাগজপত্র এখানে আসলো, কীভাবে রাখছে এটা আমি দেখি নাই। আমি অফিসের ভিতরে থাকি, আমি কীভাবে জানবো এটা কীভাবে আসলো।
এখনে কারা আনছে, কীভাবে আনছে এ সম্পর্কে আমার কোনো জানা নাই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা আশিক বলেন, “আমরা তো এখানকার স্থানীয়, আমরা এদিকে যাচ্ছিলাম। এখানে তো দেখছিলাম যে কিছু বস্তা পড়ে আছে। আমি আসার আগেই দেখি যে পুলিশ ভাইয়েরা এখানে আছেন। তারপরে অফিসের একজন কর্মকর্তা। এটা আসলে একটা অফিসের খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এটা আসলে এইভাবে পড়ে থাকবে কেন, বা এটা অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকবে কেন? খতিয়ে দেখা উচিত। খতিয়ে দেখলে আমার মনে হয় এই বিষয়টার একটা সুরাহা হবে। একটু খতিয়ে দেখুক, দেখলে আমার মনে হয় ভালো হবে।

পুলিশ জানায়, বস্তাগুলোর ভেতরে মাউশির রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিল। তবে বস্তাগুলো থানায় না নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসেই ফেরত পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর পুলিশের কোতয়ালী থানার এসআই লিটন বলেন, “একজন ডিউটি অফিসার আমারে সোয়া ঘণ্টা আগে জানিয়েছে যে এখানে চারটা বস্তা পড়ে আছে। একজন লোক দেখে, একজন লোক বস্তাগুলো রেখে পালায় চলে গেছে। আমি ঘটনাস্থলে এসে বস্তাগুলো পাই। জানতে পারি যে এই বস্তাগুলো এই শিক্ষা অফিসের। তার পরিচালকের সাথে কথা বলি। উনি লোক পাঠায়, লোক পাঠায় তাদের বস্তা তারা নিয়ে যাচ্ছে।

পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া এসব গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে এসআই লিটন বলেন, ওইটা পরিচালক স্যারকে বলা হইছে। উনি যদি কমপ্লেন দেয়, আমরা মামলা, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা হবে।”

এদিকে মাউশির রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার বলেন, “সব হচ্ছে অনলাইনে, কাজ হচ্ছে অনলাইন, কিন্তু অফলাইনের কোনো কাজ হয় না। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা যে ওই ফাইলগুলো ওখানে গেলো কেমন করে। আমি তিন মাস হচ্ছে ডাইরেক্টর পদে, মাত্র তিন মাস হচ্ছে এসেছি। আমি জানি না কোন ফাইল কোথায় রাখা হয়েছে। তারপরেও আমি ডাইরেক্টর স্যারকে বলবো যে স্যার আপনাদের বুঝায়া বলবে ফাইল বিষয়ে।

অন্যদিকে মাউশি রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মাজেদ আলী দাবি করেন, “স্টোরে তালা ভাঙা ছিল না। জানালা দিয়ে সব নিয়ে গেছে।” তবে তালাবদ্ধ স্টোররুম থেকে চারটি সেলাই করা বস্তা কীভাবে বাইরে বের হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় ওরা বাইরে গিয়ে সেলাই করেছে। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে।”

নথিপত্র গায়েব করে কোনো দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক বলেন, “সেটা আমার জানা নাই।”
ঘটনাটিকে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে অভিযান চালায়। ওই সময় দুদকের কর্মকর্তারা কয়েকটি কলেজের নথিপত্র দেখতে চাইলে পরিচালক ও উপ-পরিচালক তাদের কাছে কিছু নথি হারিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

এ অবস্থায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের চারটি বস্তা বাইরে থেকে উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, নথিগুলো আসলে কারা, কীভাবে এবং কেন স্টোররুম থেকে বাইরে নিয়ে গেল? তালাবদ্ধ ও অক্ষত স্টোররুম থেকে সেলাই করা বস্তাগুলো বের হওয়ার প্রক্রিয়াই বা কী?

ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হলে নথি সরানোর প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com