গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নূতন দুলাল ভরট দ্বি-মুখী বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে তাকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। একই সঙ্গে তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | গাইবান্ধা (সুন্দরগঞ্জ) | বাতায়ন২৪ডটকম | ০৫ জুলাই ২০২৬
রোববার (৫ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এ সময় তারা শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাহফুজুল ইসলামের কাছে দীর্ঘদিন ধরে একই বিদ্যালয়ের সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া সহকারী শিক্ষক মো. জাহেদুল ইসলাম দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে বিদ্যালয়ে চাকরি করতে দেওয়া হবে না বলেও তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়।

ছবি – বাতায়ন২৪
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকালে জাহেদুল ইসলাম বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে পুনরায় দুই লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহেদুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক ছামছুল হক ও দপ্তরি আব্দুল খালেক তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের ভেতরে একজন শিক্ষক যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে তাদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশও নিশ্চিত হয় না। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, এ ঘটনার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। কিছুদিন ধরে আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। আমি চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ঘটনার দিন পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকালে আবারও টাকা দাবি করা হয়। অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধর করা হয়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. জাহেনুর বেগম বলেন, “ঘটনার পর আমরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা জানিয়েছে, শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না। আমরা চাই দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসুক।”
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া সহকারী শিক্ষক মো. জাহেদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, “আমরা এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বাতায়ন২৪/মাহমুদুল হাসান