হেলিকপ্টারের শব্দে দৌড়ে নিজ চোখে দেখা যার কাছে কল্পনা আজ সেই আছিয়াই হেলিকপ্টারেই ফিরছে তবে নিথর দেহ হয়ে! জীবন যেখানে স্বপ্ন হওয়ার কথা ছিল, সেখানে কেন এতো অন্ধকার, এতো নির্মমতা?
এই নাম আজ ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে। ঘরে ঘরে হাহাকার, চোখে অশ্রু, হৃদয়ে দহন। কেউ ফুঁসে উঠছে, কেউ স্তব্ধ হয়ে আছে, কেউ চোখের পানি লুকিয়ে ঘৃণা চেপে রেখেছে। মিডিয়া সরব—কেউ খবর ছড়াচ্ছে ব্যবসার জন্য, কেউ সত্যের জন্য। কেউ রাস্তায় দাঁড়াচ্ছে লাইমলাইটের আশায়, কেউ লড়াই করছে এক নিষ্পাপ প্রাণের হত্যার সুবিচারের জন্য।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই—আর কত? কতদিন এই সমাজ ন্যায়ের বদলে অন্ধকারের পৃষ্ঠপোষকতা করবে? কতদিন বিচারহীনতার এই অভিশাপ আমাদের গিলে খাবে? আজ আছিয়া, কাল কে? আর কত লাশ পড়বে রক্তাক্ত এ মাটিতে?
আমরা ভুলে যাইনি, একদিন এই জাতি এক হয়েছিল, বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা। আমরা ভুলে যাইনি ২৪শে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, যেখানে হাজারো কণ্ঠ এক হয়ে জেগে উঠেছিল। তাহলে কেন আজ আমরা নীরব? কেন আজও আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠছি না?
এই সমাজ কি বারবার ধর্ষকের, খুনির, লুটেরাদের অভয়ারণ্য হয়ে থাকবে? নাকি এবার আমরা প্রতিরোধ গড়ব?
আছিয়া শুধু একটি নাম নয়, এটি আমাদের লজ্জা, আমাদের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এই নামই হতে পারে নতুন সূর্যের আলো, যদি আমরা জেগে উঠি, যদি আমরা এক হই, যদি আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই!
আর নয় নীরবতা, আর নয় আপস!
প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, গর্জে উঠতে হবে, লড়াই করতে হবে!
আমরা জাগবো, আমরা রুখবো, আমরা জিতবো!
আছিয়া শুধু এক নাম নয়—এটি প্রতিটি নিপীড়িতের কান্না,
আর কত আছিয়া হারাবে? আর কত নিঃশ্বাস থেমে যাবে?
জেগে ওঠো, রুখে দাঁড়াও—অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হোক আজ থেকেই! এটি ১৮ কোটি মানুষের লড়াই!
মো. তানবীর হোসেন আশরাফী [সর্বোচ্চ করদাতা]
চেয়ারম্যান-বাংলার চোখ