স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম||
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী ১৬০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হচ্ছে। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এসব সদস্য মোতায়েন থেকে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করবেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ এফ এম জুলকার নাঈন, পদাতিক, জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং তথ্য আদান-প্রদানের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় তিনি লালমনিরহাট সদর উপজেলার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে দেশের সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম ও উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করবেন, কেউ এতে বাধা সৃষ্টি করবেন না—এটাই বিজিবির প্রত্যাশা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা এবং কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১৭টি বিওপির আওতায় ১৫৩টি পূজামণ্ডপ এবং ব্যাটালিয়ন সদর থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে আরও সাতটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থী ও পূজারীদের নিরাপদ চলাচল, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ১৫ বিজিবি।
বিজিবি দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জাতীয় ও জননিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে আসছে। দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে বাহিনীটি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম