সংবাদ শিরোনাম :
সালিশে নারীকে প্রহার, চেয়ারম্যান বললেন ‘রায় কার্যকর করছি’ উলিপুরে ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ভোকেশনাল সেন্টার উদ্বোধন করলেন জামায়াত এমপি বদরগঞ্জে বিতর্কিত লটারির টিকেট বিক্রির অপরাধে যুবকের কারাদণ্ড হিমাগার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতির পদত্যাগের দাবি রংপুরের আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের দিরাইয়ে ইউএনওর অপসারণ দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে চা শ্রমিকদের সুরক্ষায় ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ শুরু রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি: স্বর্ণালংকারসহ ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট: গ্রেফতার ১ আমেরিকা প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট, গ্রেফতার ১ বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, গঠন হচ্ছে এসআরবি টাইব্রেকারে টাঙ্গাইলকে হারিয়ে জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়ন রংপুর
সালিশে নারীকে প্রহার, চেয়ারম্যান বললেন ‘রায় কার্যকর করছি’

সালিশে নারীকে প্রহার, চেয়ারম্যান বললেন ‘রায় কার্যকর করছি’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |কুমিল্লা| বাতায়ন২৪ডটকম

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে সালিশ বৈঠকে এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন ওই নারীকে জুতাপেটা করতে দেখা যায়।

সোমবার বিকেলে উপজেলার বলাকিয়া গ্রামে একটি সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উৎসুক জনতার উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন একটি নারীকে জুতাপেটা করছেন। এ সময় আশপাশে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন নামের এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর কথিত পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সালিশ বৈঠকটি ডাকা হয়। বৈঠকে নারী ও পুরুষ উভয়ের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে ওই পুরুষকে শাস্তি দেওয়ার কোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি। নারীকে জুতাপেটার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে একজন নারীকে এভাবে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার ঘটনায় সামাজিকভাবে তিনি যেমন হেয় হয়েছেন, তেমনি মারাত্মক মানসিক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রবাসী স্বামীর সংসারে থেকে ওই নারী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। সামাজিক বিচারের রায় আমি কার্যকর করেছি মাত্র।’

তবে সালিশে এ ধরনের শাস্তি দেওয়ার কোনো আইনগত বৈধতা আছে কি না এবং একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একজন নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করা গুরুতর অপরাধ। যদি তিনি অপরাধী হয়েও থাকেন, তাকে আইনের আওতায় সোপর্দ করা উচিত ছিল। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কাজ করা অত্যন্ত নেক্কারজনক।’

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। কী কারণে একজন নারীকে এভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com