স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |কুড়িগ্রাম| বাতায়ন২৪ডটকম
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মো. মাহবুবুল আলম সালেহীর উদ্যোগে এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মো. মাহবুবুল আলম সালেহী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশনের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ কাসিম তোকান এবং কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ওবায়দুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সালমা আখতার, জাহাঙ্গীর প্লাবন, উলিপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট কামাল কবির লিটনসহ হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।
আয়োজকরা জানান, উলিপুরের প্রায় ৫০ হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হলেও খুব শিগগিরই কেন্দ্রটির অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণ করা হবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইনশাআল্লাহ চলতি মাসেই কেন্দ্রটির চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে।
আধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম সংযোজন এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে উলিপুরের বিপুলসংখ্যক বেকার যুবক-যুবতীকে বিনামূল্যে বিভিন্ন চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-ফ্রিল্যান্সিং, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, টেইলারিং, টেকনিক্যাল সার্ভিসিং, মোটর ড্রাইভিং, ভাষা শিক্ষা এবং অন্যান্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণ।
আয়োজকদের আশা, এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় যুবসমাজের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করার সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকরা বলেন, এ উদ্যোগ শুধু একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ‘সমৃদ্ধ উলিপুর’ ভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়নমূলক উদ্যোগ।
এর মূল লক্ষ্য হলো উলিপুরের প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন দক্ষ, কর্মক্ষম ও উপার্জনক্ষম মানুষ তৈরি করা। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বেকারত্ব কমানো এবং পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে এ উদ্যোগের।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম