স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রাজশাহী||বাতায়ন২৪ডটকম
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফরাসি বিপ্লবের মতো জুলাই বিপ্লবও ছিল নাগরিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অসামান্য সংগ্রাম।
রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই: স্মরণ, প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যেকোনো বিপ্লবেই রক্তপাত ঘটে। তবে জুলাইয়ের এক মাসে যে পরিমাণ প্রাণহানি ও রক্তক্ষরণ হয়েছে, তা বৈশ্বিক ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, দেশের শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই তরুণদের লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। রাষ্ট্রের অমানবিক দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অগণিত শিক্ষার্থী।
আন্দোলনের মানবিক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে তরুণদের মধ্যে অভূতপূর্ব সহমর্মিতা ও সাহসিকতা দেখা গেছে। এক বন্ধু গুলিবিদ্ধ হলে অন্যজন জীবন বাজি রেখে তাকে বাঁচাতে ছুটে গেছে, তৃষ্ণার্ত আহতদের মুখে পানি তুলে দিয়েছে। বিশ্ব ইতিহাসের বিভিন্ন বিপ্লবে এমন দৃশ্যের বিবরণ থাকলেও, এবার আমরা তা নিজেদের চোখে প্রত্যক্ষ করেছি।
সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অন্যায্যভাবে ব্যবহার করে চারদিক থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। তবে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা যেভাবে রাজপথে লড়াই চালিয়েছে, তাতে এই আন্দোলনকে কোনোভাবেই দমানো যায়নি।
নিজের গ্রেপ্তারের স্মৃতিচারণ করে রিজভী জানান, ১৯ জুলাই গ্রেপ্তার হয়ে জেলে থাকা অবস্থাতেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এই স্বৈরাচারী শাসনের পতন সুনিশ্চিত। পরে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর পাওয়ার পর জনগণের প্রকৃত বিজয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের এই বিপ্লব হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়; এটি মূলত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিগত ১৭ বছরের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই চূড়ান্ত ফসল। দীর্ঘ সংগ্রামের পর জুলাই মাসেই সেই কাঙ্ক্ষিত সফলতা এসেছে। যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তরুণরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র যাতে ভবিষ্যতে আর কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ মামুন বক্তব্য রাখেন।
এইইআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম