স্টাফ করেসপন্ডেন্ট| রংপুর | বাতায়ন২৪ডটকম
‘আমরা এতদিন ব্যালট পেপারও ছিলাম না। আমাদের চেহারায় ব্যালট পেপারও যদি হাসিনা দেখতো, তাহলে এ দেশটাকে ঐ জায়গায় নিয়ে যেতে পারতো না। আমাদের চোখে ব্যালট পেপারও দেখে নাই হাসিনা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি, স্ট্র্যাটেজি ও তথ্য বিষয়ক উপদেস্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার ( ১৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নজরুল বর্ষ পালন উপলক্ষে বিভাগের জেলা প্রশাসক ও কালচারাল অফিসারদের সাথে মতবিনিময় সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম।
ডা. জাহিদ বলেন, ‘আমরা খুবই গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে শোরগোল করি। পৃথিবীতে প্রচুর পণ্ডিত আছেন যারা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেন ডেস্পাইট সাম প্রবলেমস। এটার প্রধান কারণটা আসলে এটা যে, যদি ভোটের ব্যবস্থাটা ঠিকঠাক থাকে, সরকারগুলো মাথায় সারাক্ষণ জনগণের কথা হিসেব করতে হয় ‘
বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের প্রসঙ্গ টেনে ডা, জাহিদ বলেন, ‘১৮০ দিন যে আমাদের (বর্তমান সরকারের ) পার হলো, এটা ইভালুয়েট করার জন্য একটা কমিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তৈরি করে দিয়েছেন, যেখানে উপদেষ্টা এবং স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্টরা আছেন, আমি নিজেই সে কমিটির একজন মেম্বার। আমি উনার সাথে বৈঠক করেছি। প্রতি ছয় মাস পরপর এই জিনিসগুলো অ্যাসেস করা হবে কোন মন্ত্রণালয়ে কী হচ্ছে, কী হচ্ছে না ‘
ডা. জাহিদ বলেন, ‘আমরা এক্সপেক্ট করি, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে একটা নির্বাচনী ব্যবস্থা থাকবে ঠিকঠাক মতো, একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে এবং সরকারগুলো জনগণের সাথে কমিউনিকেটস করবে। জনগণের কাছে রিপ্রেজেন্ট করবে। কারণ তাকে পাঁচ বছর পর আবার জনগণের কাছে ভোট চাইতে হবে।’
ডা. জাহিদ বলেন, ‘ইন্টারিম সরকারের সময় মাঝে মাঝে বলেছি কবির সুমন, প্রথম সুমন চট্টোপাধ্যায় ছিলেন; উনার একটা গান আছে এরকম হেলিকপ্টার হেলিকপ্টার নেতা আসছেন, একটা বিদ্রুপের গান। নেতা হেলিকপ্টারে আসছেন, আসার পরে রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তো ঐ গানটার শেষে একটা জায়গায় উনি বিদ্রুপ করে বলছেন যে, ভোট মানুষের মুখে ব্যালট পেপার, নেতা দেখছেন নেতা দেখছেন’। মানে উনি বিদ্রুপ করছেন নেতা মানুষের মুখ দেখে না, সে ওখানে একটা ব্যালট পেপার দেখে ‘
ডা. জাহিদ বলেন, ‘আমি এই কথাটা বলতাম, ব্যালট পেপার হওয়াও কিন্তু অনেক বড় ব্যাপার। আমরা এতদিন ব্যালট পেপারও ছিলাম না। আমাদের চেহারায় ব্যালট পেপারও যদি হাসিনা দেখতো, তাহলে এ দেশটাকে ঐ জায়গায় নিয়ে যেতে পারতো না। আমাদের চোখে ব্যালট পেপারও দেখে নাই।’
ডা. জাহিদ বলেন, ‘সো ন্যূনতম ব্যালট পেপার দেখা হচ্ছে, এটাও কিন্তু জনগণকে রক্ষা করে-আমি এটা বলতে চেয়েছি। আমি তো একদিন ওর সামনে দাঁড়াবো, আমি কী করেছি, জিনিসপত্রের দাম আমি কত রেখেছি, বিদ্যুতের কী হয়েছে, এই বিদ্যুৎ সংকটের জন্য আমাদের ন্যূনতম কোন দায় নেই। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন, মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।’
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডা. জাহেদ বলেন, ‘ আর আমরা আগে যখন এটা হয়েছে তখন বলা বন্ধ করে দেখি, দেখাই আগে কী ছিল! এসব কথাবার্তা প্রবণতা নেই। তো এজন্য বলছি, প্লিজ আপনারা আশা করি আমাদের অবস্থানটা বুঝতে পারছেন। এটা জনগণের নির্বাচিত একটা সরকার, খুবই বড় একটা বিজয় এই সরকারকে জনগণ দিয়েছে, দায়িত্বে পাঠিয়েছে। সরকার জনগণের এই কমিটমেন্ট রক্ষা অ্যাট এনি কস্ট করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেই। এন্ড ইউ আর এ ভেরি ভেরি ইম্পর্টেন্ট পার্ট অফ দ্য জার্নি। আমি নিশ্চয়ই আপনাদের সহযোগিতা পাবো। ”
ডা জাহিদ বলেন, ‘আগামীতে দেশের প্রতিটা শিশু, প্রতিটা স্কুলে এই বই পাঠ মানে পড়াশোনার বাইরে এক্সট্রা কারিকুলার বই পড়ার একটা কর্মসূচি ম্যাসিভ স্কেলে শুরু হতে যাচ্ছে।
খেলার কথা দেখছেন এবং এই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কথা দেখছেন। সো যত রকমভাবে সম্ভব তিনি এতে ইনভলভ করাতে চান।
ডা. জাহেদ বলেন, ‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটা চান সেটা হচ্ছে এইসব কাজ, খেলা আমরা স্বাস্থ্যের জন্য খেলেছি, খেলতে ভালো লাগে খেলেছি; কিন্তু এ প্রত্যেকটা জিনিসই তো মনিটাইজেশন সম্ভব। মানে এগুলো করে উপার্জন করতে পারেন এবং এগুলোর সাথে রিলেট করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারেন। খেয়াল করবেন এবার বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বলে ৮০০ কোটি টাকার একটা বরাদ্দ আছে। এই ক্রিয়েটিভ ইকোনমির একটা ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটি হয়েছে। ক্রিয়েটিভ ইকোনমি মানে ক্রিয়েটিভ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি। সেই জিনিসগুলোর ক্ষেত্রে বাজেট কুড গো অ্যানিহোয়ার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আপনারা নতুন করে স্পোর্টসের বক্তব্য দেখেন, ওনার বক্তব্যের মধ্যে কিন্তু এই কথাটা থাকেই, ফুটবলের মধ্যেও থাকেই সেটা হচ্ছে এগুলো পেশা হিসেবে যাতে কেউ নিতে পারে।
ডা. জাহেদ বলেন, আপনারা যখন এই কাজগুলো করবেন, অবশ্যই আমরা সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা বিনোদনের জন্য, আনন্দের জন্য এবং বিপথে যাওয়া ঠেকানোর জন্য করব, দ্যাটস ফাইন! কিন্তু এগুলো প্রত্যেকটা পেশা হিসেবে নেয়া যেতে পারে এই সচেতনতাটা সমাজে এবং অভিভাবকদের মধ্যে তুলে ধরা। বিশেষ করে যাদের ওইরকম যোগ্যতা দেখা যাচ্ছে যে একে যদি আমরা ট্রেইন করি তাহলে সেরকম জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে এই মেসেজটা বা এই ক্যাম্পেইনটাও কিন্তু দরকার আছে। খুবই জরুরি ভিত্তিতে দরকার আছে। এবং তিনি আরেকটা জিনিস চান, সেটা হচ্ছে আমি বার্তাগুলো দিয়ে যাই, তিনি পলিসি নির্ধারণ করছেন এবং আমাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই করছেন, কিন্তু সেটা ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে। আমরা সারাবছর যেন আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডগুলো চালিয়ে যাই’
এইচ আরবি/বাতায়ন২৪ডটকম