সংবাদ শিরোনাম :
৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসর নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনীতে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার, দাবি না মানলে ২৩ আগস্ট থেকে সিএনজি স্টেশন বন্ধ প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি ছাত্রীকে ‘নদীতে ফেলে দেওয়ার’ হুমকি মাঝরাতে ক্ষুধা পায়? কারণ জানুন, যেভাবে বন্ধ করবেন ক্ষুধা বন্যার পর চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসি শুরু, অনুপস্থিত ১ হাজার ৮২৫ রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন শেয়ার জালিয়াতি মামলায় আসামি করা হয় সাহাবুদ্দিনকে! গোপালগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, শ্বশুর ও স্ত্রী আটক বিএনপিকে যারা ফ্যাসিস্ট বলে তাদের জ্ঞানের অভাব আছে, তাদের মাইন্ড সেটআপ সেভাবেই তৈরি: মির্জা ফখরুল রংপুরে তিস্তা ভাঙ্গন রোধের দাবিতে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও
রংপুরে তিস্তা ভাঙ্গন রোধের দাবিতে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও

রংপুরে তিস্তা ভাঙ্গন রোধের দাবিতে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম

চলতি বন্যা মৌসুমে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভার্ট, সরকারি বে-সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রংপুরের তিস্তা অববাহিকার মানুষ। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যক্রম চলমান থাকলেও স্থায়ী সমাধান ও দ্রুততর পদক্ষেপের দাবিতে রংপুরে পাউবোর কার্যালয় ঘেরাও করেছেন তিস্তা তীরের হাজারো বাসিন্দা।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে নগরীর আলমনগরস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে কার্যালয় ঘেরাও করে ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে দ্রুত প্রতিরোধকাজ জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করে বলেন, চলতি মৌসুমে কয়েক দফা নদীভাঙনে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও প্রয়োজনের তুলনায় কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি।

কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনিয়া এলাকার পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী নিজেদের অর্থে একটি বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু এবারের বন্যায় সেটিও ভেঙে গেছে। এতে কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তার দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

নোহালী বাগডহরা চরের বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, এবারের বন্যায় ইতোমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তিস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে। আরও অনেক পরিবার এখনো ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

চর বিনবিনিয়ার বাসিন্দা হাসান আলী বলেন, এলাকাবাসী চাঁদা তুলে স্বেচ্ছায় একটি বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার তোড়ে সেটি ভেঙে গেছে। ভাঙন শুরু হওয়ার পর বিষয়টি জানানো হলেও অল্প কিছু খালি বস্তা ছাড়া কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। তিনি দ্রুত বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

গঙ্গাচড়া উপজেলার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে অনেক মানুষের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি রক্ষা করা সম্ভব হতো। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙন প্রতিরোধে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, যেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধকাজ চলছে। বাম তীরের যে অংশ নিয়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, সেটি মূলত নদীর ভেতরের নিম্নাঞ্চল। তারপরও স্থানীয়দের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, “তিস্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের একটি বিষয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি নিজেও আমার দৈনন্দিন কাজের মধ্যে তিস্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি, এপর্যন্ত অনেকবার সরজমিন পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। যে স্থানটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও দ্রুত আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম/এইচআরবি

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com