স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |গাইবান্ধা| বাতায়ন২৪ডটকম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে ‘ভোরের পাখি’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে বিদ্যালয়টি নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকার পরও আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়।
এর একদিন আগে মঙ্গলবার তিস্তার তীব্র স্রোত ও ভাঙনে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ঝুঁকিতে থাকা বাকি টিনশেড স্থাপনা ও বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনের হুমকিতে ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেন। সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
তখন বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশাবাদী ছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই বিদ্যালয়ের একটি অংশ তিস্তার ভাঙনে হারিয়ে যায়। এরপর শুরু হওয়া জিও ব্যাগ ফেলার কাজকে অনেকেই ‘দেরিতে নেওয়া উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রশ্ন, বিদ্যালয়টি ঝুঁকির মধ্যে থাকা অবস্থায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এই ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।
স্থানীয়রা এখন বিদ্যালয়ের অবশিষ্ট অংশ রক্ষার পাশাপাশি দ্রুত নিরাপদ স্থানে নতুন করে বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জিও ব্যাগ ফেলার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান মণ্ডল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান মণ্ডল বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষায় আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এখন বিদ্যালয়ের অংশ নদীতে চলে যাওয়ার পর জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পর বিদ্যালয়ের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত উপযুক্ত স্থানে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগেও ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছিল।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কাজ চলছে।
বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হওয়ার আগে কেন জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই এলাকায় এর আগেও জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। গত সোমবার পর্যন্ত সেখানে ভাঙনের পরিস্থিতি ছিল না। ভাঙন না থাকলে জিও ব্যাগ ফেলার অনুমতি থাকে না। বর্তমানে প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম