সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সংসদে বিতর্ক করুন: প্রধানমন্ত্রী এই দেশ সবার, সম্প্রীতির বন্ধনে গড়তে হবে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’: রংপুরে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর নিয়ে, মহানগর যুবদল , স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের মিছিল নবাগত বিভাগীয় কমিশনারকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির ফুলেল শুভেচ্ছা রংপুরে ২৬ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী মেরিল সুমন গ্রেপ্তার রংপুরে আন্তজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৫ বাইক প্রধানমন্ত্রীকে বরণের সব কিছু প্রস্তুত, অপেক্ষার প্রহর গুনছি: রংপুর বিভাগীয় কমিশনার পীরগাছায় মাদকবিরোধী শোডাউন ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাউনিয়ায় গ্যাং-দ্বন্দ্বে প্রকাশ্যে খুন সেভেন স্টার গ্যাং নেতার ভাই, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে আজ পদত্যাগ করছেন ইশরাক হোসেন
এই দেশ সবার, সম্প্রীতির বন্ধনে গড়তে হবে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’: রংপুরে প্রধানমন্ত্রী

এই দেশ সবার, সম্প্রীতির বন্ধনে গড়তে হবে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’: রংপুরে প্রধানমন্ত্রী

হারুন-অর-রশিদ বাবু||রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম 

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যে ঐক্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন করেছে এবং নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, সেই ঐক্য বজায় রেখেই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার প্রত্যাশা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী হাজার বছরও যেন এ দেশের মানুষ একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে এই দেশটিকে স্বাধীন করেছিলাম, তখন কিন্তু আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি। প্রত্যেকটি মানুষ বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল।”

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে। সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করছেন। এই সহাবস্থান ভবিষ্যতেও অটুট রাখতে হবে। প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হলে সব ধর্ম ও মতের মানুষকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুধু যারা ভোট দিয়েছেন তাঁদের নয়, যারা ভোট দেননি তাঁদেরও সরকার হতে চায়। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায় সরকার। এ প্রসঙ্গে তিনি রংপুর মহানগরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের প্রয়োজনীয় সেতু, কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

দেশে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছে। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকেও বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। কারও কোনো বক্তব্য বা আপত্তি থাকলে তা সংসদে তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়। দেশের মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা চায়। অতীতের রাজনীতির পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে, তবে এ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ।

নবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি দেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

এ সময় মন্দিরের পেছনে সনাতনী সম্প্রদায়ের অসচ্ছল মানুষের বিনা মূল্যে থাকার ব্যবস্থা করতে নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে তিনি আগামী দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রংপুর জেলা শাখার সভাপতি রাম জীবন কুণ্ডু, রংপুর মহানগর পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় ও সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ অন্যরা।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফারহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রংপুরের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে। রাজশাহীতে ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। এরপর চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতে ঢাকায় ফেরার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী আবারও শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দেশের সব ধর্মের মানুষ যেন আগামী হাজার বছর সুন্দরভাবে ও শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।

এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com