হারুন-অর-রশিদ বাবু|| রংপুর||বাতায়ন২৪ডটকম ||
উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রংপুরে অনুষ্ঠিত হলো ‘বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’। ২৫ জুলাই ২০২৬, শনিবার সকাল ৯:০০ টায় রংপুর বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় এ বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা থেকে আগত ৮টি বিশেষায়িত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি-গাড়ির পাশাপাশি প্রায় পাঁচ শতাধিক নিবন্ধিত পাঠক-সদস্য অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, ভ্রাম্যমাণ বইমেলা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও জিআই পণ্যভিত্তিক স্টল প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক (উন্নয়ন ও আইসিটি) স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা পর্বের সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মু: বিল্লাল হোসেন খান, যুগ্ম সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প পরিচালক, দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প।
জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, “একটি জ্ঞানভিত্তিক, প্রগতিশীল ও আলোকিত সমাজ গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমাদের নতুন প্রজন্ম ও শিশুদের আবার বইয়ের সান্নিধ্যে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্প প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিয়ে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে আমাদের নারী ও শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল চিন্তা বিকাশে এই ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি আলো ছড়াচ্ছে। রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় পরিচালিত এই কার্যক্রম স্থানীয় পাঠকদের মাঝে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে। আজকের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে বইয়ের আবেদন চিরন্তন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বলেন, “আজকের এই বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ রংপুরের বইপ্রেমীদের এক অপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের যৌথ প্রয়াসে দেশের ৬৪টি জেলায় যে ৩,২০০টি স্পটে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি সেবা চালু রয়েছে, তা তরুণ সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে এবং অপসংস্কৃতি দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখছে।

রংপুর জেলা প্রশাসন পাঠক বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক চর্চার এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বই মানুষকে উদার করে এবং কুসংস্কার মুক্ত সমাজ গঠনে সহায়তা করে। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির এই আলোর রথ যেন অবিরত এগিয়ে চলে, সেই প্রত্যাশা করছি।”

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের বর্তমানে মোট ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি-গাড়ি ৭৬টি (রংপুর বিভাগে ৮টি) আওতাভুক্ত এলাকা ৬৪টি জেলা ও ৩৬৮টি উপজেলায় নির্ধারিত স্পট ৩,২০০টি, কার্যক্রম পরিচালনা সপ্তাহে ৬ দিন, প্রতিদিন ন্যূনতম ৮ ঘণ্টা (প্রতি গাড়ি সপ্তাহে ৪০-৪২টি স্পটে সেবা দেয়) প্রত্যাশিত উপকারভোগী প্রায় ৩,৭৫,০০০ জন (বিশেষ করে নারী ও শিশু-কিশোর) সাংস্কৃতিক লক্ষ্যমাত্রা ৭০০টি সাংস্কৃতিক সংঘ পরিচালনা ও ৮,০০০টি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী পাঠক-সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
এইচআরবি/বাতায়ন২৪ডটকম/এইচআরবি