বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত পুরো রংপুর। তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অঝরে কাঁদেছেন নেতাকর্মীরা।
আজ মঙ্গলবার (৩০) নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ের দলীয় কার্যালয়ে ওলামা দলের উদ্যোগে চলছে কোরআন তেলওয়াত। বাইরে নেতাকর্মীরা শোকাহত। খালেদা জিয়ার চলে যাওয়াকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। শুধু দলীয় নেতা কর্মী নয়, সাধারণ মানুষ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বেগম খালেদা জিয়া নেই, এটা মানতেই পারছেন না রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামু। তার মুখোমুখি হতে হু হু করে কেঁদে উঠলেন, কান্না বিজড়িত কন্ঠে বললেন, ” আমার মা, গণতন্ত্রের মা, জাতীয়তাবাদের মা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। “
সামুর কন্ঠ আরো আড়ষ্ট হয়ে ওঠে, ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠেন তিনি। বলেন, ” বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে তিনি ভালোবাসার প্রতীক, প্রত্যেকটি শ্রেণী পেশার মানুষ তাকে ভালবাসেন। তার মতো ভালোবাসার মানুষ বাংলাদেশ আর কখনো জন্মাবে না। “
সামু বলেন, “শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং আদর্শ ইতিহাসের প্রতীক। এই পৃথিবী যতদিন বেঁচে থাকবে খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শের ক্ষেত্রে আপোষহীনতা ততদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিএনপি নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ আপোসহীন শব্দে বেগম জিয়াকে চির স্মরণীয় করে রাখবে।”
কাঁদতে কাঁদতেই শামু বলেন, ” বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলো, যেমন তৈরি হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে। এই শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়। কিন্তু যুগের পর যুগ ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন জাতীয়তাবাদী চেতনাকে অনুসরণ করে রাজনৈতিক চর্চা করে যাবে।”
মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজুন নবী ডন। তিনি শোকে স্তব্ধ। পাবনা বিজড়িত কন্ঠে জানালেন, ” বেগম খালেদা জিয়ার এই চলে যাওয়া শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বের জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত করার ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি হলো। তবে বিএনপি নেতা কর্মী এবং দেশপ্রেমিক জনগণ বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন আদর্শকে বুকে লালন করে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবেন। “
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা বললেন, “বেগম খালেদা দিয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিক। তাকে হারিয়ে বাংলাদেশ আজ শোকে স্তব্ধ। আমরা তার আদর্শ অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে চাই। “
জেলা বিএনপির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ” গণতন্ত্রের মাকে হারানোর এই শূন্যতা বাংলাদেশে কোনদিনও পূরণ হওয়ার নয়। তার আপস আমি আদর্শ বাংলাদেশকে আধিপত্য বা বিরোধী অবস্থানে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার আপসহীনতা যুগ যুগ ধরে লালন করবো আমরা। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন। “
জেলা ও মহানগর বিএনপি’র কার্যালয় কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিনের কর্মী জুয়েল ইসলাম। তারো চোখে জল। জানালেন, ” গণতন্ত্রের মাকে হারালাম আমরা। যে শূন্যতা তৈরি হলো। কিভাবে মিটবে সেই শূন্যতা। তিনি হাসপাতালে ছিলেন। মুভমেন্ট না করলেও বেঁচে ছিলেন।এটাও ছিল আমার প্রতিদিনের কার্যক্রমের প্রেরণা। আজ তাকে হারালাম। সব শূন্য হয়ে গেল আমার। “
গ্রান্ড হোটেল মোড়ের চা দোকানী মোক্তার হোসেন। তিনি জানালেন,”আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত নই, কিন্তু আমি বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি। বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য, বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ মুক্ত রাখার জন্য খালেদা জিয়া যে অবদান রেখেছেন। তা যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবে। আমরা সবাই তার এই মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। “
জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু জানান, ” বিকেল থেকে নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় উপস্থিত হতে রংপুর থেকে যাওয়া শুরু করবেন। এজন্য বাস ট্রেন এবং মাইকের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
সকাল থেকে বিএনপির কার্যালয়ে কোরআন তেলোয়াত হয়। এরপরে দুপুর দুইটাই দোয়া মাহফিল করেন। এ সময় মহানগর ও জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাতায়ন২৪ডটকম।। মেজবাহুল হিমেল।।