ফয়সাল-আলমগীর-বাপ্পী, কে ভারতের কোথায়?

ফয়সাল-আলমগীর-বাপ্পী, কে ভারতের কোথায়?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা।। বাতায়ন২৪ডটকম।।

জুলাই বিপ্লবী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিছু আসামি গ্রেপ্তার হলেও প্রধান পাঁচ আসামি এখনো অধরা। এদের মধ্যে অন্তত চারজন ভারতে পালিয়েছেন বলে তথ্য আছে গোয়েন্দাদের কাছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রের তথ্য, হত্যার পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো ভারতীয় নাগরিকত্বের কাগজপত্র বানিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। আর কিলিং মিশন পরিচালনা করা শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাউল ওরফ দাউদ এবং তাকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতে পালিয়ে যান।
তারা এখন ভারতের মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে ঘুরে-ফিরে অবস্থান করছেন।বাপ্পী সম্পর্কে আরও জানা গেছে, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ই ৫ আগস্টে ভারতে পালিয়ে যান। হাদি হত্যাকাণ্ডের আগে বাপ্পী আবার দেশে ফিরে কিছুদিন অবস্থান করার পরে আবারও ভারতে পালিয়ে যান।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রটি জানায়, নিরাপত্তার জাল ফাঁকি দিয়ে গোপনে দেশে আসার পর বাপ্পী গোপালগঞ্জের একটি গ্রামে গিয়ে বিয়ে করেন এবং তার স্ত্রীকে নিয়ে আবার ভারতে চলে যান।

গণঅভ্যুত্থানের সময় তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়েও তিনি বেপরোয়া ছিলেন বিধায় বাপ্পীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।এরই মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে  চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার হলেও প্রধান পাঁচজন আসামি এখনো পলাতক।
এদের মধ্যে পলাতক পাঁচজন হলেন হাদিকে গুলি করা (শুটার) ফয়সাল করিম মাসুদ, শুটারকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালক মো. আলমগীর হোসেন, হত্যার নির্দেশদাতা মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সীমান্তে অবৈধপথে মানবপাচারকারী ফিলিপ স্নাল ও শুটার ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।মামলায় নাম না থাকলেও ফয়সালের বোন জেসমিনের স্বামীকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে । এদের মধ্যে জেসমিন ও তার স্বামী দেশেই আছেন বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাকি চারজন আসামি পাশের দেশ ভারতে অবস্থান করছে।
গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হাদি হত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী মিরপুর পল্লবীর সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী।তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন অতিপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি সভা-সমাবেশে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক ও জোরালো বক্তব্য রাখতেন। তার এসব বক্তব্যে ছাত্রলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়।ডিবিপ্রধান বলেন, হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফয়সাল ও আলমগীরকে পলায়নে সহায়তা করা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর ছিলেন। ফলে আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম জানান, সার্বিক তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, অস্ত্র ও গুলির ফরেনসিক রিপোর্ট, মোবাইল ও অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট অনুসারে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই মামলায় কোনো তথ্যপ্রমাণ বা কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

ভারতে পলাতক মূল আসামিদের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আদালত চার্জ গঠনের পর তাদের হস্তান্তরের কার্যক্রম শুরু হবে। এটা রাষ্ট্রীয় অন্য সংস্থা করবে। আমাদের (ডিবি) বললে আমরাও করবো।

আসামিদের সাজা হলে এবং পালিয়ে থাকা সাজাপাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়। অভিযোগটি ইন্টারপোল যাচাই-বাছাই করে পালিয়ে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি  করে। হাদি হত্যাকাণ্ডে আসামিদের বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। এজন্য পাশের দেশের সঙ্গে যদি বন্দী বিনিময় চুক্তির কোনো বিষয় থেকে থাকে, তাহলে তাদের ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।

পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদ সম্প্রতি এক কথিত ভিডিওবার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি দুবাই চলে গেছেন। এ নিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, ভিডিওবার্তাটি সঠিক, তবে তার অবস্থান দুবাই নয়। আমরা তদন্তে পেয়েছি তিনি ভারতে আছেন। হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী জুলাই বিপ্লবী ওসমান হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি করেন মোটরসাইকেলে আসা ফয়সাল করিম মাসুদ। গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদি মারা যান।

গুলি করার ১২ ঘণ্টার মধ্যে শুটার ফয়সাল ও তাকে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালক আলমগীর শেখ ময়মনসিংহের ধোবাউড়া-হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

হাদিকে গুলির ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা করেন। পরে ২০ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ধারা সংযোজনের নির্দেশ দেন।

বাতায়ন২৪ডটকম।। সূত্র: বাংলানিউজ২৪।।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com