স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা।। বাতায়ন২৪ডটকম।।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একইসঙ্গে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, কোনো দলের ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে তা প্রতিরোধ করা হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে আমরা এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমরা খবর পাচ্ছি, আমাদের এই আট দলীয় জোট আর আট দলে থাকছে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন আট দলের এই মিছিলে শরিক হওয়ার জন্য আসছে, এইবার পরিধি আরও বাড়বে। সেজন্য নতুন যে বাংলাদেশ আমরা চাই, সেই নতুন বাংলাদেশ মানে হলো—স্বাধীনতার পরে যারা দেশ শাসন করেছেন, তাদের চরিত্র যা ছিল, কোনো দল বা অতীতের শাসকরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই, সন্ত্রাসের অভিযোগ নেই, দুর্নীতির অভিযোগ নেই, খুনের অভিযোগ নেই। সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলো আমরা মেনে নিয়েছি যে আমরা নির্বাচনে যাব। কিন্তু নির্বাচনের ডেট শিডিউল করলেও সেই নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে কিনা—তা নিয়ে এই জাতির সামনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আন্দোলনে আমরা বলেছিলাম পাঁচ দফার কথা—লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, পিআর পদ্ধতি, জুলাই সনদের স্বীকৃতি, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার এবং ফ্যাসিস্টরা যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তাদের দৃশ্যমান বিচার। আমরা অনেক দাবি করেছিলাম, আমাদের দাবির আংশিক পূরণ হয়েছে কিন্তু অধিকাংশই এখনো পূরণ হয়নি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তিদের কুপরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন আর গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা বারবার প্রধান উপদেষ্টা এবং কমিশনের প্রধানের সঙ্গে দেখা করে বলেছিলাম, একই দিনে নির্বাচন হলে কী কী সংকট তৈরি হতে পারে। জুলাই সনদে যে ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার হয়েছে এবং আরও অনেক বিষয়ে যে আমরা একমত হয়েছি—সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয়, রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত পদের ব্যাপারে অনেক সংস্কার হয়েছে। এই সংস্কারের বিষয়গুলো দেশবাসীকে আগে জানাতে হবে। ইলেকশন কমিশন তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে, সরকার বিভিন্ন প্রকাশনা দিয়ে জাতিকে জানাবেন—আমরা কোনটাকে ‘হ্যাঁ’ বলবো, কোনটাকে ‘না’ বলবো।
তিনি বলেন, জনগণ জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট চায়। আমরা এমন কোনো সংকটে সরকারকে ফেলতে চাই না, যাতে বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ভেঙে যাক। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে আপনাদেরকে বারবার বলে যাচ্ছি, সুযোগ আছে আপনারা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ পরিবর্তন করুন। তা না হলে একটা বিভ্রান্তির ধূম্রজাল আপনারা তৈরি করবেন, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে কম আসবে। গণভোটে ভোট কম পড়বে, না বুঝে হাতে সিল মারবে, বুঝতে পারবে না। এই সংকট দূর করার দায়িত্ব সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। আজকে পত্রিকায় এবং অনলাইনে দেখলাম খুলনার আদালত চত্বরে দিনের বেলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে যাওয়ার পথে হামলা করে দুইজনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। যে প্রশাসনে প্রকাশ্যে এভাবে কোর্টের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়, সেই প্রশাসনের দায়িত্বে নির্বাচনের দিন যে ভোট ডাকাতি হবে না, ভোট কেন্দ্রে হত্যা হবে না, আমাদের জানমাল খুন করে ভোটাধিকার লুট করতে চাইবে না—তার কোনো গ্যারান্টি নাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো, প্রধান উপদেষ্টাকে বলবো—লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও ক্ষমতার সমতা রক্ষা করুন। সব দল যেন সমান অধিকার পায়। কোনো দলকে বড় মনে করবেন না, কোনো দলকে গোপনে ক্ষমতায় আনার স্বপ্ন দেখবেন না। মনে রাখবেন, ফ্যাসিবাদকে যেভাবে আমরা বিদায় করেছি, কোনো দিল্লির ষড়যন্ত্র তাকে ঠেকাতে পারে নাই। আগামীতে যদি ভোট ডাকাতি করে আরেকটি নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম দিতে চান, বাংলার মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে তা প্রতিরোধ করবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার, ডিসি, এসপি ও বিচারপতিদেরকে আমি শিক্ষা নিতে বলব। ২০১৪, ১৮ ও ২৪ এর ইলেকশনে যারা ভোট ডাকাতি করে হাসিনাকে দাঁড় করিয়েছিল, সেই নির্বাচন কমিশনকে ডেকে জেলে যেতে হয়েছে। পুলিশের আইজিকে চোখের পানি ফেলতে হয়েছে। বায়তুল মোকাররমের খতিবকেও পালিয়ে যেতে হয়েছে। ডিসিদেরকেও আদালতে যেতে হয়েছে। মনে রাখবেন, এই বাংলার মানুষ ২৪-এ ভোট কাটতে আসলে বা অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসাতে চাইলে—এই পরিণতি আপনাদেরও ভোগ করতে হবে।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতারা বক্তব্য দেন।
বাতায়ন২৪ডটকম।। মেমোহি।।