থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা ভুটানের পণ্যের প্রথম চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সড়ক পথে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছালেও ভারতের সড়ক পথের অনুমতি না মেলায় আটকে আছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ভুটানের পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যানটি বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকা রয়েছে। এর আগে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে ভুটানের পণ্যবাহী ট্রাকটি কাস্টমসের স্কট নিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছে।
ভুটানের এ চালানটি বহন করা কাভার্ডভ্যানের চালক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রায় ২০ ঘণ্টা পথ মাড়িয়ে চট্টগ্রাম থেকে বুড়িমারী পৌঁছেছি শুক্রবার সকালে। সেই থেকে আজ রোববার দুপুর গড়িয়ে গেল ভারতের অনুমতি পাইনি। ফলে বসে রয়েছি। এত বড় ক্ষতি কে পুষিয়ে দেবে জানি না। চরম দুর্ভোগে পড়েছি। কবে এ জঠিলতা কাটিয়ে উঠবে সেটাও অজানা।
তবে ট্রানজিট চালুর এই শুভ মুহূর্তেও এখানকার ব্যবসায়ীরা বন্দরটির প্রধান অবকাঠামোগত সমস্যাসহ অনুন্নত ও দুই লেন বিশিষ্ট লালমনিরহাট-বুড়িমারী সড়ক। তারা অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও, দীর্ঘদিনের দাবির পরেও এই সড়কটি ফোর লেনের মহাসড়কে উন্নীত করা হয়নি।
ব্যবাসায়ী নেতারা আশা করছেন এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে নিয়মিতভাবে ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম চালু হবে, যা উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যে এক নতুন গতি আনবে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে এই ট্রান্সশিপমেন্টের শুরু বাংলাদেশের জন্য এক নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করলেও, সড়কসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার মাধ্যমেই এই বাণিজ্যের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব। না হলে ভুটানসহ অন্য দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসার মুখ ফিরিয়ে নিবেন। তাই দ্রুত সড়কসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ শুরু করার প্রত্যাশা।
বুড়িমারী স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম চালুর কারণে বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যবসার বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এটির ফলে উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্যের নতুন গতি ফিরে আসবে।
বুড়িমারী স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের সদিচ্ছায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত করছেন। ভুটানের চালানটি শুক্রবার সকালে এসেছে। শনিবার সকালে স্থলবন্দরের সব কার্যক্রম করে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু ভারতের সড়ক ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় এটি আটকে আছে। আমরা সব কাজ শেষ করেছি, ভারত যে মুহূর্তে চাইবে আমরা সেই মুহয়র্তেই পাঠাতে পারব।
বাতায়ন২৪ডটকম।। মেমোহি।।