সংবাদ শিরোনাম :
বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবি হলেন রংপুরের আরিফুল ইসলাম  প্রধানমন্ত্রীর উপহারের টাকা পেলেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সাংবাদিকদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বৃহত কর্মসূচি প্রণয়ন করবে: বাছির জামাল রাশিয়ান মডেল মনিকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ না হলে হামলা, হরমুজ বন্ধ থাকবে : প্রথম বক্তৃতায় মোজতবা খামেনি বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১২ ঈদ যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে আরপিএমপির সাব-কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন শনাক্ত করতে পারছে না ইসরায়েল গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সংসদ সদস্যদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান মোশাররফের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ও বিরোধী দল গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে, আশা স্পিকারের
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

 

বিশ্ববিদ্যালয় করেসপন্ডেন্ট রাজশাহী।। বাতায়ন২৪ডটকম।।

নানা আয়োজন-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ রবিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে ‘প্রতিষ্ঠার ৭২ বছরে সৃজন, গবেষণা, নেতৃত্বে দেশ ও বিশ্বের পথপ্রদর্শক’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর চৌধুরী রফিকুল আবরার। অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবন-১ চত্বরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সাথে শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর চৌধুরী রফিকুল আবরারসহ উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীব, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মতিয়ার রহমান জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় প্রাধ্যক্ষবৃন্দ নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন। সেখানে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও বর্ণিল বেলুন-ফেস্টুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অনুষদ অধিকর্তা, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট পরিচালক, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ, প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা ড. মো. আমিরুল ইসলাম, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর মো. আখতার হোসেন মজুমদারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় শিক্ষা উপদেষ্টা, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও কোষাধ্যক্ষসহ আবাসিক হল, ইনস্টিটিউট, বিভাগ ও দপ্তরসমূহ নিজ নিজ ব্যানারসহ অংশ নেয়। শোভাযাত্রার পর অতিথিবৃন্দ সিনেট ভবন চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন।
বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মতিয়ার রহমান। উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে আলোচক ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস এ কে এম আজহারুল ইসলাম।

আলোচনায় প্রফেসর ইমেরিটাস এ কে এম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের আত্মপরিচয় স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমরা স্মরণ করি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতকে। পাশাপাশি চিন্তা করি এর ভবিষ্যত নিয়ে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশে রাবির এক বিশেষ অবস্থান আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের অনেকই অধ্যাপনা করেছেন। তাঁরা নিজেরা এবং তাঁদের ছাত্ররা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। আগামী দিনগুলোতে সেই ধারা ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলা উদ্ভাবনমনস্ক গবেষক ও শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতবিদ্য শিক্ষকমন্ডলী সেই লক্ষ্যে সচেতন হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রফেসর ইসলাম রাবিতে তাঁর ছয় দশকের বেশি সময়ের অবস্থানকালের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে স্মৃতিচারণও করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষা উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উচ্চশিক্ষার প্রতি মানুষের আকাক্সক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে অবিরত ধারায় এগিয়ে চলেছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের কারণে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বকীয়তা হারাতে বসেছিলো। কিন্তু যখন আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল তখনই অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীরা গর্জে উঠে। তাদের সেই অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকেই আমরা স্বৈরাচার সরাতে পেরেছি। সেই সংগ্রামে আমরা হারিয়েছি এক হাজারেরও বেশি সাহসী সন্তানকে। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে জাতি গঠনে নিবেদিত করা একান্ত প্রয়োজন। এজন্য অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো শিক্ষা ক্ষেত্রেও প্রয়োজন গুণগত পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষকের। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ সেই লক্ষ্যে সচেতনভাবে এগিয়ে যাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা আরো বলেন, কাক্সিক্ষত লক্ষ্য থেকে আমরা যেন বিচ্যুত না হই। নতুন দেশ গঠনের প্রত্যয়ে আমাদের শিক্ষকদের অন্যতম মূল দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষাঙ্গণের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে তা সত্ত্বেও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সুদূরপ্রসারি সংস্কার কিন্তু রাতারাতি এটি সম্ভব নয়। নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাইকে ধৈর্যের সাথে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এদেশের কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থী এবং একই বয়সের শ্রমজীবী মানুষরা দেখিয়েছে, কিভাবে দূরহ, কঠিন ও অসম্ভবকে জয় করতে হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে মানহীনতা, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে বাংলাদেশকে এখন এক নতুন চ্যালেঞ্জ হাতে নিতে হবে। আমাদেরকে বুঝতে হবে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে কর্মোপযোগী ও উচ্চতর দক্ষতা অর্জনে সক্ষম ভালো মানের শিক্ষা ছাড়া এই রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে না। এই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারলে আমাদের জাতি গঠনের মূল কাজই অসমাপ্ত থেকে যাবে।

ভালো মানের শিক্ষা প্রদানের দায়িত্ব শিক্ষকদের, নিয়মিতভাবে এটা অর্জনের প্রতি গভীর মনোযোগে দিতে ও যত্ন নিতে হবে অভিভাবকদের আর শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হবে তাদের মানসম্পন্ন শিক্ষার অধিকার আদায় করে নেয়া। যে নির্ভীক ও পরিশ্রমী প্রজন্ম পাশবিক ও দূরহ ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাস্ত করতে পেরেছে তারা এই অভীষ্ট অর্জনের সফল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বিগত ৭২ বছর কেমন কাটলো। পাশাপাশি আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর আগামীর জন্য পরিকল্পনা নিয়ে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এইকালে আমাদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার আকাক্সক্ষা হবে বাধাহীন।

প্রসঙ্গক্রমে উপাচার্য বলেন, স্বৈরশাসন মানুষের স্বভাব নষ্ট করে দেয়। মানুষের আত্মপরিচয়কে ধ্বংস করে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয় তাই দীর্ঘকালের স্বৈরশাসন বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকেও কুলুষিত করেছে, এর আত্মসচেতনতাকে নাশ করেছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকে আমাদের দেশ গঠনে কাজে লাগাতে হবে। আজ আমরা এক ক্রান্তিলগ্নে আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে উদ্ভাবক ও আবিস্কারক তৈরি করতে চাই। যারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওযার জন্য নিবেদিত হবেন, আবার তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা দিয়ে বিশ্বের বাজারে দেশকে তুলে ধরবেন। সেই লক্ষ্যে স্নাতক তৈরির জন্য আমাদের প্রয়োজন নির্মোহ, শিক্ষা গবেষণায় নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদাই সেই অভীষ্টে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও কোষাধ্যক্ষ বক্তব্য রাখেন।

এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত স্মারকপত্রের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। স্মারকপত্রটিতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে দুইজন প্রফেসর ইমেরিটাসসহ ১১ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের স্মৃতিচারণমূলক লেখা স্থান পেয়েছে।

দিবসের কর্মসূচিতে আরো আছে, বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও রশি টানাটানি খেলা।

প্রফেসর মো. আখতার হোসেন মজুমদার
প্রশাসক, জনসংযোগ দপ্তর।

বাতায়ন২৪ডটকম/শরিফুল ইসলাম।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com