স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা।। বাতায়ন২৪ডটকম।।
শফিকুল ইসলাম জানান, সার্বিক তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, অস্ত্র ও গুলির ফরেনসিক রিপোর্ট, মোবাইল ও অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট অনুসারে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই মামলায় কোনো তথ্যপ্রমাণ বা কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
ভারতে পলাতক মূল আসামিদের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আদালত চার্জ গঠনের পর তাদের হস্তান্তরের কার্যক্রম শুরু হবে। এটা রাষ্ট্রীয় অন্য সংস্থা করবে। আমাদের (ডিবি) বললে আমরাও করবো।
আসামিদের সাজা হলে এবং পালিয়ে থাকা সাজাপাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়। অভিযোগটি ইন্টারপোল যাচাই-বাছাই করে পালিয়ে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। হাদি হত্যাকাণ্ডে আসামিদের বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। এজন্য পাশের দেশের সঙ্গে যদি বন্দী বিনিময় চুক্তির কোনো বিষয় থেকে থাকে, তাহলে তাদের ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।
পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদ সম্প্রতি এক কথিত ভিডিওবার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি দুবাই চলে গেছেন। এ নিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, ভিডিওবার্তাটি সঠিক, তবে তার অবস্থান দুবাই নয়। আমরা তদন্তে পেয়েছি তিনি ভারতে আছেন। হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী জুলাই বিপ্লবী ওসমান হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি করেন মোটরসাইকেলে আসা ফয়সাল করিম মাসুদ। গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদি মারা যান।
গুলি করার ১২ ঘণ্টার মধ্যে শুটার ফয়সাল ও তাকে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালক আলমগীর শেখ ময়মনসিংহের ধোবাউড়া-হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।
হাদিকে গুলির ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা করেন। পরে ২০ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ধারা সংযোজনের নির্দেশ দেন।
বাতায়ন২৪ডটকম।। সূত্র: বাংলানিউজ২৪।।